নিজস্ব প্রতিনিধি ,জেলার বার্তা ডেস্ক- সালানপুর ব্লকের দেন্দুয়া অঞ্চলে এবার প্রকাশ্যে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতেই স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র আকার নিয়েছে। কাটমানি, অবৈধ কয়লা কারবার ও জমি ব্যবসা নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলছেন বিজেপির দুই গোষ্ঠীর নেতারা। ‘কে আসল আর কে নকল বিজেপি’— এই বিতর্ক এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি একটি ভাইরাল ভিডিওতে (যার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি) দেখা যায়, বিজেপি নেতা দেবব্রত মণ্ডল প্রকাশ্যে অপর বিজেপি নেতা কৃষ্ণা বাউরিকে বিভিন্ন অপকর্ম থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। সেই সঙ্গে দেবব্রত মণ্ডলের অভিযোগ, তৃণমূলের আমলে কৃষ্ণা বাউরি অবৈধ কয়লা কারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ভিডিও ভাইরাল হতেই বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কথা কার্যত স্বীকার করে নেন কৃষ্ণা বাউরি। তিনি দাবি করেন, তিনি বিধায়ক অরিজিৎ রায়ের ঘনিষ্ঠ শিবিরের সদস্য, অন্যদিকে বিরোধী গোষ্ঠী অভিজিৎ রায়ের অনুগামী। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে কৃষ্ণা বাউরি বলেন, “২০১৮ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিই। তৃণমূলের সময় চরম অভাবের কারণে কিছুদিন কয়লার কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। কিন্তু বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর কোনো দুর্নীতির সঙ্গে আমার সম্পর্ক নেই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “২০২৬ সালের নির্বাচনে যারা অরিজিৎ রায়ের বিরোধিতা করেছিল এবং তৃণমূলের হয়ে প্রচার করেছিল, তারাই এখন সরকার বদলের পর নিজেদের বড় বিজেপি নেতা বলে দাবি করছে।” পাশাপাশি আন্দোলনকারী নেতা অমর মাহাতোর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে কৃষ্ণা বাউরির দাবি, আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা থেকেও কাটমানি নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে অমর মাহাতো পাল্টা বলেন, “আমি বরাবর শ্রমিকদের অধিকারের জন্য লড়াই করেছি। বর্তমান যুব সমাজ স্বার্থ ছাড়া কিছু বোঝে না। আমার একমাত্র লক্ষ্য শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পাইয়ে দেওয়া। কে কী বলল, তাতে কিছু যায় আসে না।”
অন্যদিকে বিজেপি নেতা দেবব্রত মণ্ডলও নিজের অবস্থানে অনড়। তাঁর বক্তব্য, “যারা আগে তৃণমূলের হয়ে হার্মাদগিরি করেছে, তারাই এখন বিজেপি সেজে ঘুরছে। তৃণমূল আমলে ভয়কে উপেক্ষা করে আমরা দল করেছি। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এখানে তৃণমূলের মতো তোলাবাজি চলতে দেওয়া হবে না। বিষয়টি রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে।”
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। পর্যবেক্ষকদের মতে, সালানপুরে বিজেপির এই দ্বন্দ্ব মূলত ক্ষমতার দখল ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করেই। আদি বনাম নব্য বিজেপির সংঘাত প্রকাশ্যে চলে আসায় গেরুয়া শিবিরের অস্বস্তি বাড়ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন নজর দলের উচ্চ নেতৃত্বের দিকে— তারা কীভাবে এই অন্তর্কলহ সামাল দেয়।