নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক - উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের গোবিন্দকাটিতে ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ত্রাণের সামগ্রী বেআইনিভাবে মজুত রাখা হয়েছিল এক তৃণমূল নেতার গুদামে। অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে এসেছে এলাকার বুথ সভাপতি সঞ্জয় মণ্ডলের। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসীর মধ্যে অভিযোগ ছিল যে সরকারি ত্রাণসামগ্রী সাধারণ মানুষের হাতে না পৌঁছে অন্যত্র সরিয়ে রাখা হচ্ছে। সেই সন্দেহের ভিত্তিতে এলাকার কিছু মানুষ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গোবিন্দকাটির একটি গুদামে তল্লাশি চালায়। অভিযোগ, সেখানে বিপুল পরিমাণ ত্রিপল সহ একাধিক সরকারি সামগ্রী উদ্ধার হয়।
খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ সুন্দরবন এলাকার মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণসামগ্রী এভাবে লুকিয়ে রাখা অত্যন্ত নিন্দনীয়। বহু মানুষ এখনও পর্যাপ্ত সাহায্য না পেলেও সরকারি জিনিসপত্র গুদামজাত করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছয় পুলিশ। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলির উৎস ও কীভাবে সেগুলি ওই গুদামে এল, তা খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। যদিও অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা সঞ্জয় মণ্ডল সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতি নতুন কিছু নয়। সুন্দরবনের মতো দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় ত্রাণ নিয়ে অনিয়ম অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেছেন বিরোধীরা।
অভিযুক্তের গ্রেফতারের দাবিতে এলাকায় বিক্ষোভও শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ রাস্তায় নেমে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।