Home জেলার চালচিত্র পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা চাষী ভাই বলছি জেলার সেনাপতি শরীর স্বাস্থ্য ফ্যাক্ট ফাইল সম্পাদকিয় কলম

দিনদুপুরে দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে খুন, মগরাহাটে চাঞ্চল্য

24 Jun 2026
06:39 PM

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক- দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটে দিনদুপুরে এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার দুপুরে মগরাহাট থানার হরিশংকরপুর এলাকার ভরত ঘোষ মোড়ে ঘটে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড। নিহতের নাম আশাব্রত সর্দার। প্রকাশ্য বাজার এলাকায় এমন রক্তাক্ত হামলার ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুরে নিজের বিল্ডার্স সামগ্রীর দোকানে বসে ছিলেন আশাব্রত সর্দার। প্রতিদিনের মতো দোকানের কাজকর্ম দেখাশোনা করছিলেন তিনি। অভিযোগ, সেই সময় আচমকাই মেঘনাদ সর্দার নামে এক ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র হাতে দোকানে ঢুকে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আশাব্রতের উপর এলোপাথাড়ি কোপ মারতে শুরু করে অভিযুক্ত।

হামলার তীব্রতায় দোকানের ভিতর রক্তে ভেসে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অভিযুক্ত এতটাই আক্রমণাত্মক ছিল যে প্রথমদিকে কেউ বাধা দেওয়ার সাহস পাননি। চিৎকার শুনে আশপাশের দোকানদার ও স্থানীয় মানুষ ছুটে এলে রক্তাক্ত অবস্থায় দোকানের ভিতরে লুটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় আশাব্রত সর্দারকে। এরপর হামলাকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।

গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় আশাব্রত সর্দারকে দ্রুত মগরাহাট গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, শরীরের একাধিক স্থানে গভীর ক্ষত ছিল এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান।

ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরিবারের অভিযোগ, এটি কোনও আকস্মিক হামলা নয়, বরং সম্পূর্ণ পরিকল্পিত খুন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি দোকান ও তার মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে আইনি বিবাদ চলছিল। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং সম্প্রতি সেই মামলায় জয়লাভ করেছিলেন আশাব্রত সর্দার। পরিবারের অভিযোগ, সেই রায় মেনে নিতে পারেনি বিরোধী পক্ষ। সেই ক্ষোভ থেকেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে।

নিহতের আত্মীয়দের আরও দাবি, আশাব্রত সর্দারকে আগেও একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ব্যবসা ছেড়ে দিতে এবং দোকানের দাবি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ঘটনার খবর পেয়ে মগরাহাট থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। এলাকা ঘিরে ফেলে প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। দোকানের ভিতর থেকে রক্তাক্ত মেঝে, ভাঙাচোরা সামগ্রী ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত মেঘনাদ সর্দারের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। ঘটনার সময় অভিযুক্ত একাই ছিল নাকি তার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিল, সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গোটা মগরাহাট জুড়ে শোক ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে বাজার এলাকার মধ্যে এভাবে দোকানে ঢুকে খুনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

আশাব্রত সর্দারের মৃত্যুতে তাঁর পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তাঁর পরিজনেরা। এখন সকলের নজর পুলিশের তদন্তের দিকে। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে শুধুই ব্যক্তিগত শত্রুতা, নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও বড় কোনও ষড়যন্ত্র— সেই উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা।