Home জেলার চালচিত্র পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা চাষী ভাই বলছি জেলার সেনাপতি শরীর স্বাস্থ্য ফ্যাক্ট ফাইল সম্পাদকিয় কলম

শওকত-পুত্রের ‘সোনার খনি’তে প্রশাসনের কড়া হাত! মাতলা নদীর চরে গড়া বিলাসবহুল ক্যাফে ভাঙার নির্দেশ

24 Jun 2026
06:24 PM

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক - রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে এবার বেআইনি নির্মাণ ও প্রভাবশালী দখলদারির বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে জেলা প্রশাসন। মাতলা নদীর চর দখল করে তৈরি হওয়া ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার ছেলে ইমরান মোল্লার বিলাসবহুল ক্যাফে ‘অরণ্যের কূলে’ এবার প্রশাসনের বুলডোজারের মুখে পড়তে চলেছে।

ইতিমধ্যেই ক্যানিং মহকুমা শাসকের (SDO) দফতর থেকে ক্যাফে মালিক ইমরান মোল্লাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৯ জুনের মধ্যে সম্পূর্ণ বেআইনি কাঠামো নিজ দায়িত্বে ভেঙে ফেলতে হবে। অন্যথায় ৩০ জুন থেকেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে বুলডোজার চালিয়ে পুরো নির্মাণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূল জমানায় ক্যানিং পূর্বের তৎকালীন প্রভাবশালী বিধায়ক শওকত মোল্লার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁর ছেলে ইমরান মোল্লা মাতলা নদীর সরকারি চরভূমির বিশাল অংশ দখল করেন। অভিযোগ, সরকারি নিয়ম, পরিবেশ আদালতের নির্দেশিকা এবং সেচ দফতরের অনুমতি ছাড়াই নদীর প্লাবনভূমির ওপর গড়ে তোলা হয় বিলাসবহুল ক্যাফে ‘অরণ্যের কূলে’।

সুন্দরবনে বেড়াতে আসা পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য নদীর বুকেই আধুনিক সাজে তৈরি করা হয়েছিল এই ক্যাফে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ব্যবসা থেকে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন হতো। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর প্রশাসনের নজরে আসে একাধিক অভিযোগ।

এরই মধ্যে ভাঙড়ে বোমাবাজির মামলায় গ্রেফতার হন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা। বর্তমানে তিনি জেলবন্দি। এরপর থেকেই ক্যানিং ও আশপাশ এলাকায় শওকত পরিবারের বিরুদ্ধে নানা বেআইনি সম্পত্তি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে।

পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাধিক লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন ও ক্যানিং মহকুমা শাসকের দফতর ক্যাফেটির জমি, লাইসেন্স এবং নির্মাণ সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখে। তদন্তে উঠে আসে, সরকারি অনুমতি ছাড়াই নদীর সরকারি চরভূমির ওপর এই বহুতল কাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।

এরপরই প্রশাসনের তরফে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়। নোটিশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাঠামো না সরালে প্রশাসন নিজেই তা ভেঙে ফেলবে এবং পুরো খরচ মালিকপক্ষের কাছ থেকেই আদায় করা হবে।

প্রশাসনের এই পদক্ষেপে ক্যানিং এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অন্যদিকে পরিবেশকর্মী ও সাধারণ মানুষের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, নদীর চর ও পরিবেশ রক্ষায় এমন কঠোর পদক্ষেপ অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল।