দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বড় পদক্ষেপ নিল তৃণমূল কংগ্রেস বলে সূত্রের খবর। দলীয় মহলে গুঞ্জন, কলকাতার দুই শীর্ষ নেতা—ফিরহাদ হাকিম ও অরূপ বিশ্বাসকে—এর কাছে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক কিছু সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত এবং অভ্যন্তরীণ সমন্বয় সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছিল নেতৃত্বের একাংশের তরফে। সেই প্রেক্ষিতেই এই শোকজ নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা।
সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস-এর অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন স্তরে মতবিরোধ ও প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে অসন্তোষের কথা শোনা যাচ্ছিল। সেই পরিস্থিতিতে শীর্ষ দুই নেতার বিরুদ্ধে শোকজের খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
তবে দলীয় নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, এটি সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক বিষয় এবং দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। তাঁদের বক্তব্য, “দলে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।”
অন্যদিকে বিরোধী শিবির এই ঘটনাকে হাতিয়ার করতে শুরু করেছে। বিজেপির দাবি, তৃণমূলের অন্দরে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ক্রমশ প্রকাশ্যে চলে আসছে। বাম ও কংগ্রেস শিবিরের বক্তব্য, এটি শাসকদলের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার প্রতিফলন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে শোকজের মতো পদক্ষেপ হয়ে থাকে, তাহলে তা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কলকাতা ও শহরাঞ্চলের সংগঠনগত ভারসাম্যে এর প্রতিফলন পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন নজর থাকবে তৃণমূল কংগ্রেসের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে—এই শোকজ নোটিসের পর কী ব্যাখ্যা দেন সংশ্লিষ্ট দুই নেতা এবং দল কী অবস্থান নেয়, সেটাই এখন রাজ্য রাজনীতির নতুন কেন্দ্রবিন্দু।