নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক - দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলায় এলাকায় ফের উত্তেজনা ছড়াল কাউন্সিলরকে ঘিরে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার নিকাশি ব্যবস্থা, রাস্তার বেহাল দশা, জল জমার সমস্যা এবং উন্নয়নের অভাব নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি। সেই ক্ষোভ থেকেই এদিন কাউন্সিলরকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি প্রশাসনিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে এলাকায় পৌঁছন কাউন্সিলর। সেই সময়ই ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অভিযোগ ওঠে, ভোটের সময় নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে এলাকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনও দৃশ্যমান কাজ হয়নি। বহু জায়গায় ড্রেন পরিষ্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বাসিন্দারা।
বিক্ষোভকারীদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এলাকার রাস্তা কার্যত চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রেই স্থানীয় মানুষ নিজেদের উদ্যোগে ড্রেন পরিষ্কারের কাজ করছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে স্লোগানও ওঠে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলর। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এই বিক্ষোভ সংগঠিত করা হয়েছে। বিরোধী সমর্থিত কিছু মানুষ পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে গুরুত্ব দিয়ে সমস্যার সমাধানের আশ্বাসও দেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও মহেশতলায় এলাকায় একাধিকবার জনবিক্ষোভ, রাস্তা অবরোধ এবং জনপ্রতিনিধিদের ঘিরে উত্তেজনার ঘটনা সামনে এসেছে। কখনও রাস্তার বেহাল দশা, কখনও জল জমা, আবার কখনও দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দাদের একাংশ।
এদিনের ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধীরা দাবি করেছে, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখন রাস্তায় নেমে এসেছে। অন্যদিকে শাসকদলের দাবি, উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে এবং কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।