নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: ছট পুজো উপলক্ষে পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা, ঘাটের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং নির্বিঘ্নে পুজোর আয়োজন নিশ্চিত করতে কলকাতার বিভিন্ন ঘাট পরিদর্শন করলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পরিদর্শনের সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইএএস আধিকারিক শ্রীমতী স্মিতা পাণ্ডে, পুলিশ আধিকারিক এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ। ঘাটগুলির বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোগত ব্যবস্থার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ছট পুজোকে কেন্দ্র করে কলকাতার বিভিন্ন জলাশয়, নদীর ঘাট এবং পুজোর নির্দিষ্ট স্থানগুলিতে বহু মানুষের সমাগম হয়। ভোরে সূর্যোদয়ের সময় এবং সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের সময় পুণ্যার্থীরা সূর্যদেবের আরাধনায় অংশ নেন। ফলে এই সময় ঘাটে পর্যাপ্ত আলো, নিরাপদে যাতায়াতের ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কোনও রকম অসতর্কতা যাতে দুর্ঘটনার কারণ না হয়, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই পরিদর্শনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক খতিয়ে দেখা হয়েছে।
ছট পুজোর সময় ঘাটে পুণ্যার্থীদের ভিড় বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুজো দিতে আসা মানুষ, প্রবীণ নাগরিক এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের কাছে বড় দায়িত্ব। এই পরিস্থিতিতে ঘাটগুলির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ এবং পুণ্যার্থীদের চলাচলের সুবিধা খতিয়ে দেখা হয়।
পরিদর্শনের সময় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রয়েছে কি না, ঘাটে ওঠানামার পথ নিরাপদ কি না এবং ভিড় সামলানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সেই বিষয়গুলির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পুজোর সময় অন্ধকার, পিচ্ছিল সিঁড়ি, অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা কিংবা অতিরিক্ত ভিড় থেকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তাই আগেভাগেই সম্ভাব্য সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ঘাটের আশপাশে আবর্জনা জমে থাকা রোধ করা এবং পুণ্যার্থীদের জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখাও এই প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পুজোর আগে ও পুজো চলাকালীন নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা থাকলে সাধারণ মানুষের অসুবিধা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
চোরবাগানে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও রকম গাফিলতি না রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি। ঘাটে প্রবেশ ও বেরোনোর পথে যাতে অতিরিক্ত ভিড় না জমে, পুণ্যার্থীদের চলাচল যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়ে নজর রাখা প্রয়োজন।
বিশেষ করে জলাশয়ের ধারে পুজোর সময় দুর্ঘটনা এড়াতে নিরাপদ সীমানা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, সতর্কতামূলক নির্দেশ এবং প্রয়োজনীয় উদ্ধার ব্যবস্থার গুরুত্ব রয়েছে। প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগে এই বিষয়গুলির উপর নজরদারি বজায় রাখার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
ছট পুজোর সময় কলকাতার বিভিন্ন ঘাটে একসঙ্গে বহু মানুষের সমাগম হওয়ায় ভিড় নিয়ন্ত্রণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পুণ্যার্থীদের যাতায়াতের সুবিধা বজায় রাখা এবং ঘাটে সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।
পরিদর্শনের সময় পুলিশ আধিকারিক এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হয়। পুজোর দিনগুলিতে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য আগাম সতর্কতা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভিড়ের চাপ সামলানোর পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ করার প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ। কোনও পুণ্যার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে বা দুর্ঘটনা ঘটলে যাতে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়া যায়, সে জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশ মেনে চলার আবেদন জানানোও জরুরি।
ছট পুজোর সময় ঘাটে আসা মানুষের সুবিধা নিশ্চিত করতে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
পরিচ্ছন্ন ঘাট: নিয়মিত আবর্জনা অপসারণ এবং পুজোর উপযোগী পরিবেশ বজায় রাখা।
পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা: সন্ধ্যা ও ভোরে পুণ্যার্থীদের নিরাপদে যাতায়াত নিশ্চিত করা।
নিরাপদ প্রবেশ ও প্রস্থান: ঘাটে অতিরিক্ত ভিড় এবং চলাচলে বাধা এড়ানোর ব্যবস্থা।
ভিড় নিয়ন্ত্রণ: পুলিশ ও প্রশাসনের সমন্বয়ে সুশৃঙ্খলভাবে পুণ্যার্থীদের চলাচল পরিচালনা।
জরুরি সহায়তা: দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার ক্ষেত্রে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি।
এই ব্যবস্থাগুলি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি ছট পুজোর আচার-অনুষ্ঠানও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা সহজ হবে।
ছট পুজো বহু মানুষের কাছে গভীর ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগের সঙ্গে যুক্ত। সূর্যদেবের আরাধনা এবং পারিবারিক মঙ্গল কামনায় পুণ্যার্থীরা বিভিন্ন ঘাটে সমবেত হন। তাই ধর্মীয় ভাবাবেগের মর্যাদা বজায় রাখার পাশাপাশি তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
কলকাতার বিভিন্ন ঘাট পরিদর্শনের মাধ্যমে অগ্নিমিত্রা পাল পরিচ্ছন্নতা, আলোকসজ্জা, নিরাপদ যাতায়াত এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলির উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। চোরবাগানের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগে প্রতিটি ঘাটে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখাই এই প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য। যাতে পুণ্যার্থীরা কোনওরকম অনভিপ্রেত পরিস্থিতির মুখোমুখি না হয়ে নির্বিঘ্নে সূর্যদেবের আরাধনা এবং ছট পুজোর সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে পারেন।