Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
কলকাতায় Theobroma-র এক্সক্লুসিভ প্রি-লঞ্চ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি সৌরসেনী মৈত্র! কী বললেন অভিনেত্রী?   •   পুরুলিয়ার কন্যা বাসন্তী মাহাতর সোনার ইতিহাস! রাঁচিতে সর্বভারতীয় পুলিশ তিরন্দাজি প্রতিযোগিতায় একাধিক পদক জয়, গর্বিত বাংলা   •   যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ তিন বিধায়কের, লখনউতে উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা   •   ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে দুর্যোগ! রাতভর ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পাকা ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা   •   কামারপুকুরে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের হানা! মহকুমা শাসকের নেতৃত্বে অভিযানে চাঞ্চল্য, ভেজাল রঙের সন্দেহে ফেলে দেওয়া হল বিরিয়ানি   •   চোখের পাতা কাঁপছে, পেশিতে টান ধরছে? ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি হতে পারে কারণ, জানুন কী খাবেন

কামারপুকুরে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের হানা! মহকুমা শাসকের নেতৃত্বে অভিযানে চাঞ্চল্য, ভেজাল রঙের সন্দেহে ফেলে দেওয়া হল বিরিয়ানি

29 Oct 2026
11:12 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: কামারপুকুরে খাবারের গুণমান যাচাই করতে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযান ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। মহকুমা শাসকের নেতৃত্বে এই অভিযানে বিরিয়ানিতে অননুমোদিত বা ক্ষতিকর রং মেশানোর সন্দেহ ওঠে। জনস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে সন্দেহজনক খাবার সরিয়ে ফেলার ঘটনায় খাদ্যদ্রব্যের গুণমান ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।হুগলি জেলার কামারপুকুরে খাদ্যদ্রব্যের গুণমান ও নিরাপত্তা যাচাই করতে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযানে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মহকুমা শাসকের নেতৃত্বে চালানো এই অভিযানে বিরিয়ানিতে ভেজাল বা অননুমোদিত রং ব্যবহারের সন্দেহ সামনে আসে। সেই সন্দেহের ভিত্তিতে বিরিয়ানি ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় খাবারের গুণমান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে খাবারে ঠিক কী ধরনের রং ব্যবহার করা হয়েছিল এবং তা পরীক্ষায় ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন।

খাবার শুধু সুস্বাদু হলেই চলে না, তা স্বাস্থ্যসম্মত এবং নিরাপদ হওয়াও অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে বিরিয়ানির মতো জনপ্রিয় খাবারে রং বা অন্যান্য উপাদান ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত খাদ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলা প্রয়োজন। খাবারকে আকর্ষণীয় করে তুলতে কোনও অননুমোদিত রং ব্যবহার করা হলে তা ক্রেতাদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। সেই কারণেই খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত নিয়মকানুন মেনে চলা এবং নিয়মিত নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অভিযানে সন্দেহজনক বিরিয়ানি ঘিরে প্রশ্ন

কামারপুকুরে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের এই অভিযানকে কেন্দ্র করে মূলত বিরিয়ানিতে ব্যবহৃত রং নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। খাবারে ব্যবহৃত রং অনুমোদিত কি না, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিধি ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার গুরুত্ব রয়েছে। কোনও খাবারের রং অস্বাভাবিক দেখালেই সেটিকে নিশ্চিতভাবে ভেজাল বা বিষাক্ত বলে ঘোষণা করা যায় না। আবার সন্দেহজনক খাবারকে অবহেলা করাও উচিত নয়।

এই ধরনের অভিযানে খাবারের উপাদান, প্রস্তুতপ্রণালী, সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং খাদ্য সুরক্ষা বিধি মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন হলে খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো যেতে পারে। পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট খাবারে অননুমোদিত উপাদান রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব।

কামারপুকুরের অভিযানে ঠিক কতটা বিরিয়ানি ফেলে দেওয়া হয়েছে, কোন দোকান বা খাবারের বিক্রয়কেন্দ্রে অভিযান চালানো হয়েছে এবং কোনও নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে কি না—এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

খাবারে অননুমোদিত রং কতটা বিপজ্জনক?

খাবারে ব্যবহৃত সব রং ক্ষতিকর নয়। নির্দিষ্ট খাদ্যদ্রব্যে নির্দিষ্ট মাত্রায় অনুমোদিত রং ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু অনুমোদনহীন রং বা নির্ধারিত সীমার বাইরে রং ব্যবহার করা হলে তা খাদ্য সুরক্ষা বিধির লঙ্ঘন হতে পারে। কোন পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছে, কতটা পরিমাণে ব্যবহার করা হয়েছে এবং কতবার সেই খাবার খাওয়া হচ্ছে—এসবের উপর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নির্ভর করে।

খাবারের রং বেশি উজ্জ্বল হলেই সেটি ভেজাল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়। একইভাবে দেখতে আকর্ষণীয় খাবার মানেই তা নিরাপদ, এমনটাও নয়। তাই ক্রেতাদের সচেতন থাকার পাশাপাশি খাবার প্রস্তুত ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও খাদ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলা জরুরি।

জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে নজরদারি জরুরি

খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের মতো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির উদ্দেশ্য হল বাজারে বিক্রি হওয়া খাবারের গুণমান বজায় রাখা এবং ক্রেতাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো। খাবার তৈরির পরিবেশ, ব্যবহৃত উপকরণের মান, সংরক্ষণের পদ্ধতি এবং অনুমোদিত উপাদানের ব্যবহার—সবকিছুই খাদ্য নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিশেষ করে উৎসব, ছুটির দিন কিংবা পর্যটকদের আনাগোনা বেশি থাকে এমন এলাকায় খাবারের চাহিদা বাড়লে দোকান ও খাবারের বিক্রয়কেন্দ্রগুলির উপর নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে কোনও নির্দিষ্ট দোকান বা বিক্রেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

ক্রেতাদেরও থাকতে হবে সচেতন

খাবার কেনার সময় পরিচ্ছন্নতা, খাবারের সংরক্ষণ এবং বিক্রয়কেন্দ্রের সামগ্রিক স্বাস্থ্যবিধির দিকে নজর দেওয়া উচিত। খাবারের গন্ধ, স্বাদ বা চেহারায় অস্বাভাবিকতা চোখে পড়লে তা খাওয়া থেকে বিরত থাকা ভালো। তবে শুধু রং দেখে খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

কোনও খাবার নিয়ে সন্দেহ হলে সংশ্লিষ্ট খাদ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষকে জানানো যেতে পারে। অভিযোগের ক্ষেত্রে দোকানের নাম, স্থান, কেনার তারিখ এবং সম্ভব হলে রসিদ বা খাবারের প্যাকেটের মতো প্রাসঙ্গিক তথ্য সংরক্ষণ করলে তদন্তে সুবিধা হতে পারে।

তদন্তের রিপোর্টের দিকেই নজর

কামারপুকুরে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযান খাবারের গুণমান ও জনস্বাস্থ্য রক্ষার গুরুত্বকে আবার সামনে এনেছে। বিরিয়ানিতে ভেজাল রং ব্যবহারের সন্দেহে খাবার ফেলে দেওয়ার ঘটনা স্থানীয় স্তরে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে সন্দেহ এবং পরীক্ষায় প্রমাণিত অনিয়ম এক বিষয় নয়। খাবারে ঠিক কী উপাদান পাওয়া গিয়েছে, পরীক্ষার রিপোর্ট কী বলছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ করেছে—সেই তথ্য সামনে এলে ঘটনার সম্পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে।