নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৭ চক্রের (WTC27) গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে অস্ট্রেলিয়া। এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের অন্যতম আকর্ষণ জশ ইংলিসের দৃঢ়তাপূর্ণ টেস্ট শতরান। চাপের মুখে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে শতরান পূর্ণ করার মাধ্যমে তিনি দলের ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন বলে আপনার দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
টেস্ট ক্রিকেটে বড় ইনিংস গড়তে শুধু আক্রমণাত্মক ব্যাটিং নয়, ধৈর্য, পরিস্থিতি বুঝে খেলা এবং প্রতিপক্ষের বোলিংয়ের মোকাবিলা করার ক্ষমতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জশ ইংলিসের শতরান সেই দিক থেকেই অস্ট্রেলিয়ার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। দক্ষিণ আফ্রিকার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাট হাতে অবদান রেখে তিনি অস্ট্রেলিয়ার লড়াইকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন।
তবে ম্যাচের নির্দিষ্ট স্কোর, ইংলিসের ব্যক্তিগত রান, অস্ট্রেলিয়ার মোট রান এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য এখানে দেওয়া হয়নি। তাই যাচাই না করে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান যোগ করা হচ্ছে না।
২৮ অক্টোবর কেপটাউনের নিউল্যান্ডস স্টেডিয়ামে তৃতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেটে ৩৩০ রান তুলেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসের ৩২৯ রানের জবাবে অস্ট্রেলিয়া পেয়েছে ১ রানের লিড। জশ ইংলিস ৮৫ রানে এবং অ্যালেক্স ক্যারি ৫১ রানে অপরাজিত ছিলেন। দু’জনে পঞ্চম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ১৪৫ রানের জুটি গড়েন। <Cite refs={["turn113221search0","turn113221search3"]}/>
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসের ৩২৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা ছিল মিশ্র। ট্রাভিস হেড ৪১ রান করলেও মার্নাস লাবুশেন কোনও রান না করেই আউট হয়ে যান। দু’টি উইকেটই তুলে নেন দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার সাইমন হারমার। ফলে ৫৮ রানের মধ্যেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।
এরপর ম্যাট রেনশ এবং ক্যামেরন গ্রিন দলের ইনিংস সামলান। তৃতীয় উইকেটে তাঁদের ১২৬ রানের জুটি অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। রেনশ করেন ৭৪ রান, আর গ্রিনের ব্যাট থেকে আসে ৬৫ রান। তবে পরপর দুই উইকেট তুলে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আবার লড়াইয়ে ফেরান মার্কো ইয়ানসেন। <Cite refs={["turn113221search1","turn113221search5"]}/>
১৮৫ রানে চার উইকেট হারানোর পর ক্রিজে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে যান জশ ইংলিস ও অ্যালেক্স ক্যারি। তাঁদের ব্যাটিংয়ে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। ইংলিস ১১১ বলে ৮৫ রান করেন, যার মধ্যে ছিল ৯টি চার ও ২টি ছক্কা। অন্যদিকে ক্যারি ১২৬ বলে ৫১ রান করে অপরাজিত থাকেন।
দিনের শেষ সেশনে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা আর কোনও উইকেট তুলতে পারেননি। এই সময় অস্ট্রেলিয়া বিনা উইকেটে ১৩৯ রান যোগ করে। ফলে দিনের শেষে এক রানের লিড নিয়ে চালকের আসনে চলে যায় সফরকারী দল।
তিন টেস্টের সিরিজে প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ২১৪ রানে জিতেছিল। দ্বিতীয় টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংস ও ৩১ রানে জয় তুলে নিয়ে সিরিজে সমতা ফেরায়। ফলে কেপটাউনের তৃতীয় টেস্টটি সিরিজের ফল নির্ধারণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দ্বিতীয় দিনের শেষে অস্ট্রেলিয়ার হাতে এখনও ছয় উইকেট রয়েছে। ইংলিস ও ক্যারি ক্রিজে থাকায় তৃতীয় দিনে আরও বড় লিড তৈরির সুযোগ থাকবে দলের সামনে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার লক্ষ্য হবে দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রান বাড়ার গতি আটকে দেওয়া।