নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক- বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত। ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করছেন। সোমবার কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসেবে দোলা সেন ও প্রতিমা মণ্ডল নির্যাতিতার বাড়িতে পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। মঙ্গলবার নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বারুইপুরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার আগেই সকালে সেখানে পৌঁছে যায় বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল।
বিজেপির প্রতিনিধি দলে ছিলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ। তাঁরা নির্যাতিতার মা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার দ্রুত বিচার এবং দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবিও জানান।
পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর লকেট চট্টোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, “পরিবর্তনের বাংলায় আমরা চাই, এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত প্রত্যেকেই শাস্তি পাক। চূড়ান্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নির্যাতিতার পরিবার সরকারের ভূমিকায় সন্তুষ্ট বলেই আমাদের জানিয়েছেন।”
অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “আগের সরকার এমন ঘটনার পর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করত না। কিন্তু আমাদের মুখ্যমন্ত্রী বারবার নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্ত-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোটা গ্রাম সরকারের উপর আস্থা রাখছে। আমরা রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আসিনি, পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং তাঁদের সাহস জোগাতেই এসেছি।”
এদিকে বারুইপুরের ঘটনায় রাজ্য সরকার শুরু থেকেই কড়া অবস্থান নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এই মামলায় কোনও অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে ‘ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট’ বা মৃত্যুদণ্ডের জন্যও রাজ্য সরকার সুপারিশ করবে। তিনি আরও বলেন, নির্যাতিতার পরিবার সরকারের কাছে যে সমস্ত সাহায্য চেয়েছে, তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিবার যাতে ন্যায়বিচার পায়, সেই বিষয়টিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তে আইজি-র নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) এবং জেলা পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। তদন্তকারীরা ঘটনার সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহ করছেন এবং দ্রুত চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে বারুইপুর জেলা পুলিশ কার্যালয়ে পৌঁছে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। তদন্তে কোনও গাফিলতি হয়েছে কি না, সেই বিষয়েও তিনি বিস্তারিত রিপোর্ট নেবেন। এরপর নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের দাবি-দাওয়া এবং সরকারের তরফে নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করবেন।
বারুইপুরের ঘটনাকে ঘিরে গোটা রাজ্যের নজর এখন মুখ্যমন্ত্রীর সফরের দিকে। একদিকে নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস, অন্যদিকে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির প্রতিশ্রুতি—এই দুই বার্তাই সামনে আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিও প্রমাণ করছে যে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। এখন তদন্ত কত দ্রুত শেষ হয় এবং আদালতে দোষীদের বিরুদ্ধে কত দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া এগোয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজ্যবাসীর।