নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক- দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী ব্লকের নাফরগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরিঞ্চি বাড়ি এলাকায় সরকারি রেকর্ডহীন জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, একাধিক আদিবাসী পরিবারের কাছ থেকে দু’লক্ষ থেকে তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিয়ে জমি বিক্রি করা হলেও পরে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট জমির কোনও বৈধ সরকারি নথি নেই। না রয়েছে পরচা, না খাজনার রেকর্ড, এমনকি সরকারি স্বীকৃতিও নেই বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভবিষ্যতে কৃষি ঋণ নেওয়ার উদ্দেশ্যে বহু পরিবার ব্যাংকে গেলে তারা জানতে পারে জমির সমস্ত নথিই ‘ইনভ্যালিড’। এরপরই সামনে আসে প্রতারণার অভিযোগ। আদিবাসী পরিবারগুলির দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে স্বাগতা দেব শর্মা বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বর্তমানে ওই জমির বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি কুড়ি লক্ষ টাকারও বেশি বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজা গাজীর ঘনিষ্ঠ দিলীপ মন্ডল, যিনি অতীতে রাজ্য সরকারের SC/ST সেলের নেতা ছিলেন এবং বর্তমান বাসন্তী পঞ্চায়েত সমিতির সভাধিপতি প্রিয়াঙ্কা মন্ডলের বাবা, তাঁর ঘনিষ্ঠ দুলাল মন্ডলের ছত্রছায়ায় এই জমি বিক্রির কাজ চলেছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়। এক সংবাদমাধ্যমে অরিন্দম আচার্য দাবি করেন, বিজেপির পতাকা ব্যবহার করে আদিবাসীদের জমি দখলের চেষ্টা হয়েছে। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
বাসন্তী বিধানসভার বিজেপি কনভেনার প্রদীপ সর্দার বলেন, “ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজনৈতিক রং দেওয়া হচ্ছে। আদিবাসীরা মূলত তাদের প্রতারিত হওয়ার টাকা ফেরত চাইছেন। বিজেপিকে বদনাম করার জন্য মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে।
বিজেপি সূত্রে দাবি, স্বাগতা দেব শর্মা নিজেকে রক্ষা করতে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের দ্বারস্থ হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলের অন্দরেও মতবিরোধ তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
প্রদীপ সর্দার জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন এবং বিষয়টি জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত আদিবাসী পরিবারগুলির একটাই দাবি—যেহেতু জমির কোনও বৈধ সরকারি রেকর্ড নেই, তাই তাদের কাছ থেকে নেওয়া সমস্ত টাকা দ্রুত ফেরত দিতে হবে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাসন্তী এলাকায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং সরকারি জমি কীভাবে বিক্রি হল, সেই বিষয়েও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হোক। যদিও অভিযুক্ত পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখনও পর্যন্ত তাদের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এখন লাখ টাকার প্রশ্ন—আদিবাসীদের এই অধিকৃত জমির ভবিষ্যৎ কী?