লোগোতে টাচ করুন

যোগাযোগ :- 8016367537/8648868278


Email ID: zillarbartaoffical@gmail.com


Registration No: WB-18-0064025

বিজ্ঞাপনের জন্য

যোগাযোগ :- 7478809472


বারুইপুর হাসপাতালে রোগীর পরিবারের কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা তোলাবাজির অভিযোগ, গ্রেফতার এজেন্সি কর্মী

  • শরীর স্বাস্থ্য | Jun 16, 2026

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক - দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে রোগীর পরিবারের কাছ থেকে চিকিৎসা ও যন্ত্রপাতির খরচের নামে টাকা তোলার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে এক এজেন্সি কর্মীকে গ্রেফতার করেছে বারুইপুর থানার পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্টের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বারুইপুর থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। FIR নম্বর 1230/26, তারিখ ১৩ জুন ২০২৬। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ৩০৮(২) এবং ৩১৮(৪) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

 

 

 

অভিযোগকারী সৌরভ চক্রবর্তী, যিনি সোনারপুরের বাসিন্দা, জানান তাঁর পরিবারের এক ডেলিভারি রোগী বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেই সময় হাসপাতালের এক এজেন্সি কর্মী ইফতিকার সর্দার তাঁদের কাছে ডাক্তারের ফি, ওষুধ ও যন্ত্রপাতির খরচের নাম করে ১৪ হাজার টাকা দাবি করে। রোগীর পরিবারের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা বিনামূল্যে হওয়ার পরেও ভয় দেখিয়ে ও চাপ সৃষ্টি করে টাকা নেওয়া হয়।

 

ঘটনার কথা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কানে পৌঁছাতেই বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয় প্রশাসন। হাসপাতাল সুপারিনটেনডেন্ট বিষয়টির তদন্ত করে বারুইপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে হাসপাতাল চত্বরে অভিযান চালায়।

 

পুলিশের অভিযানে অভিযুক্ত ইফতিকার সর্দারকে বারুইপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল এলাকা থেকেই গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্ত হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত একটি এজেন্সির কর্মী হিসেবে কাজ করত। তবে এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

হাসপাতাল সূত্রে খবর, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রোগীর পরিবারের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই অভিযোগ করেন, সরকারি হাসপাতালে মাঝেমধ্যেই কিছু অসাধু কর্মী রোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা দাবি করে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আজ অভিযুক্তকে বারুইপুর আদালতে তোলা হবে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার আবেদন জানানো হবে। পাশাপাশি আদায় করা টাকার উৎস, সেই টাকা আর কারও কাছে পৌঁছেছে কি না এবং হাসপাতালের ভিতরে বড় কোনও চক্র কাজ করছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।

 

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের দাবি, হাসপাতালের ভিতরে রোগী ও তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে বেআইনিভাবে টাকা তোলার বিরুদ্ধে আরও কড়া নজরদারি চালানো হোক।