ডায়মন্ড হারবার মেডিকেল কলেজে উত্তেজনা
- শরীর স্বাস্থ্য | Jun 12, 2026
নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক - ডায়মন্ড হারবার মেডিকেল কলেজে ফের উত্তেজনা ছড়াল নার্সদের রাতভর বিক্ষোভকে ঘিরে। হাসপাতালের MSVP-র বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে আন্দোলনে সামিল হন নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশ। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই মেডিকেল কলেজের ভিতরে চলছে “থ্রেট কালচার”, যেখানে প্রশাসনিক চাপ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং ভয় দেখানোর পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে কর্মীদের।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, হাসপাতালের অন্দরে এখনও কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠীর দাপট বজায় রয়েছে। তাঁদের দাবি, শাসকদলের প্রভাব খাটিয়ে একাংশ কর্মীদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং প্রতিবাদ করলেই হুমকি বা বদলির ভয় দেখানো হচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের একাংশ সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ” বলে পরিচিত কিছু ব্যক্তি এখনও কলেজের প্রশাসনিক ও কর্মী মহলে অঘোষিত প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন।

নিজস্ব চিত্র
বুধবার গভীর রাত থেকে হাসপাতাল চত্বরে শুরু হয় বিক্ষোভ। নার্সরা হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের হাতে ছিল প্রতিবাদী পোস্টার। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় কলেজ চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তা জোরদার করা হলেও আন্দোলনকারীরা অনড় থাকেন নিজেদের দাবিতে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বহুদিন ধরেই হাসপাতালে কর্মরত নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মানসিকভাবে চাপে রাখা হচ্ছে। কোনও অনিয়ম বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুললেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ভয় দেখানো হয়। এর ফলে আতঙ্কের পরিবেশে কাজ করতে হচ্ছে চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত বহু কর্মীকেই।

নিজস্ব চিত্র
আন্দোলনরত নার্সদের বক্তব্য, “আমরা চিকিৎসা পরিষেবা দিতে এসেছি, রাজনৈতিক চাপের মধ্যে কাজ করতে নয়। হাসপাতালে সুস্থ পরিবেশ চাই। যারা ভয় দেখিয়ে বা প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসন চালাতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধী মহলের দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে শাসকদলের প্রভাব ক্রমশ বেড়ে চলেছে, যার ফলেই সাধারণ স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাতভর চলা এই বিক্ষোভের জেরে হাসপাতালের পরিবেশ থমথমে হয়ে ওঠে। তবে জরুরি পরিষেবা সচল রাখার চেষ্টা করা হয় বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, লিখিত আশ্বাস এবং নিরপেক্ষ তদন্তের ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
