লোগোতে টাচ করুন

যোগাযোগ :- 8016367537/8648868278


Email ID: zillarbartaoffical@gmail.com


Registration No: WB-18-0064025

বিজ্ঞাপনের জন্য

যোগাযোগ :- 7478809472


দক্ষিণ কলকাতার জাগ্রত কালীমন্দির লেক কালীবাড়ি অজানা ইতিহাস

  • জেলার চালচিত্র | Jun 12, 2026

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক - দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম জাগ্রত শক্তিপীঠ হিসেবে পরিচিত লেক কালীবাড়ি শুধুমাত্র একটি মন্দির নয়, বহু ভক্তের কাছে এটি বিশ্বাস, আধ্যাত্মিকতা এবং অলৌকিক অনুভূতির কেন্দ্র। দক্ষিণ অ্যাভিনিউয়ের শান্ত পরিবেশে অবস্থিত এই কালীবাড়ি আজ লক্ষ লক্ষ মানুষের ভরসার স্থান। সরকারি নাম “শ্রীশ্রী ১০৮ করুণাময়ী কালিমাতা মন্দির”, তবে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এটি “লেক কালীবাড়ি” নামেই পরিচিত।

মন্দির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ঘিরে রয়েছে এক গভীর আধ্যাত্মিক কাহিনি। জানা যায়, বিশিষ্ট সাধক ও আধ্যাত্মিক গুরু শ্রীশ্রী হরিপদ চক্রবর্তী মহাশয়ের উদ্যোগে এই মন্দিরের সূচনা হয়। তাঁর ভাবনা ছিল এমন একটি স্থান তৈরি করা, যেখানে সাধারণ মানুষ ধর্মীয় অনুশাসনের বাইরে থেকেও মায়ের চরণে আত্মিক শান্তি খুঁজে পাবেন। প্রায় ষাট বছরেরও বেশি আগে ছোট্ট আকারে শুরু হওয়া এই মন্দির ধীরে ধীরে কলকাতার অন্যতম প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

 

শোনা যায়, প্রথমদিকে এখানে নিয়মিত পূজা হত খুবই সীমিত পরিসরে। কিন্তু স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস ও ভক্তি ক্রমশ এই মন্দিরকে জনপ্রিয় করে তোলে। বহু ভক্ত দাবি করেন, এখানে মানত করলে মনের ইচ্ছা পূরণ হয়। সেই বিশ্বাস থেকেই প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ভিড় জমান মায়ের দর্শনের জন্য। বিশেষ করে কালীপুজো, অমাবস্যা এবং মঙ্গলবার-শনিবারে মন্দির চত্বরে উপচে পড়ে ভক্তসমাগম।

 

মন্দিরের আরাধ্যা দেবী হলেন “করুণাময়ী কালীমাতা”। দেবীর রূপ এখানে ভয়ংকর নয়, বরং মমতাময়ী মাতৃশক্তির প্রতীক। তাই “করুণাময়ী” নামটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। অনেকের মতে, এই মন্দিরে প্রবেশ করলেই এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি অনুভূত হয়, যা শহরের কোলাহল থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এক আধ্যাত্মিক আবহ তৈরি করে।

 

 

 

লেক কালীবাড়ির আরেকটি বিশেষ দিক হল এর সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড। এখানে শুধুমাত্র পূজা নয়, বিভিন্ন ধর্মীয় আলোচনা, ভক্তিমূলক সংগীত, আধ্যাত্মিক শিক্ষা এবং মানবসেবামূলক কাজও পরিচালিত হয়। বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি, শিল্পী, সাহিত্যিক এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও এই মন্দিরে এসে প্রণাম জানিয়েছেন বলে জানা যায়।

 

কলকাতার অন্যান্য ঐতিহাসিক কালীমন্দির যেমন কালীঘাট মন্দির বা ঠনঠনিয়া কালীবাড়ির মতোই লেক কালীবাড়িও ধীরে ধীরে এক গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় পরিচিতি লাভ করেছে। দক্ষিণ কলকাতার জনপ্রিয় কালীমন্দিরগুলির তালিকায় এই মন্দিরের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।

 

বর্তমানে মন্দিরটি শুধুমাত্র কলকাতাবাসীর নয়, সারা বাংলা তথা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ভক্তদের কাছেও এক পবিত্র তীর্থক্ষেত্র। আধুনিক শহরের বুকে দাঁড়িয়েও এই মন্দির যেন আজও ধরে রেখেছে বাংলার চিরন্তন শাক্ত সংস্কৃতির ঐতিহ্য।

 

মায়ের আরতির সময় ঘণ্টাধ্বনি, ধূপের গন্ধ আর ভক্তদের “জয় মা কালী” ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বিশ্বাস আর ভক্তির সেই আবহই লেক কালীবাড়িকে আজও করে রেখেছে কলকাতার অন্যতম প্রাণের ধর্মস্থান।