রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বারুইপুরের মদারাট পপুলার একাডেমি স্কুল চত্বর
- ফ্যাক্ট ফাইল | Jun 10, 2026
নিজস্ব প্রতিনিধি ,জেলার বার্তা ডেস্ক- বারুইপুরের মদারাট পপুলার একাডেমি স্কুলকে কেন্দ্র করে বুধবার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল। “জয় শ্রীরাম” বলা নিয়ে এক ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ ঘিরে সকাল থেকেই স্কুল চত্বরে জড়ো হন বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যরা। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় একাধিক বিক্ষোভকারী আহত হওয়ার খবর মিলেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৪ জুন। অভিযোগ, মদারাট পপুলার একাডেমি স্কুলের দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে সহপাঠীরা মারধর করে। সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিয়োতে দেখা যায়, “জয় শ্রীরাম” বলার অভিযোগ তুলে এক ছাত্রকে কান ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হচ্ছে। এরপরেও তাকে চড়-চাপড় মারা হয় বলে অভিযোগ। মারধরের সময় ওই ছাত্র কানে ব্যথার কথা জানিয়ে কাকুতি-মিনতি করলেও তাকে রেহাই দেওয়া হয়নি বলে ভিডিয়োতে দেখা যায়।

নিজস্ব চিত্র
তবে পরে বিষয়টি নিয়ে নতুন তথ্য সামনে আসে। জানা যায়, মারধরের শিকার ছাত্রটি আসলে “জয় শ্রীরাম” বলেনি। অন্য এক ব্যক্তি সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছিল, যেখানে “জয় শ্রীরাম” বলা হয়েছিল। সেই ব্যক্তির সঙ্গে চেহারাগত মিল থাকায় ভুলবশত ওই ছাত্রকে নিশানা করা হয় বলে দাবি ওঠে।

নিজস্ব চিত্র
ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পরই বিষয়টি রাজনৈতিক রং নিতে শুরু করে। বিজেপি-সহ একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বুধবার স্কুল কর্তৃপক্ষ সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করে।
কিন্তু বৈঠকের দিন সকাল থেকেই স্কুলের সামনে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা স্কুলের সামনে বিক্ষোভ, স্লোগান ও মিছিল শুরু করেন। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে স্কুলের ভিতরে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও পড়ুয়ারা কার্যত আটকে পড়েন বলে অভিযোগ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুলিশ মাইকিং করে বিক্ষোভকারীদের সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা না সরায় শেষ পর্যন্ত পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ ওঠে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, পুলিশের লাঠির আঘাতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিক্ষোভকারী সংগঠনগুলি। তাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশ অযথা বলপ্রয়োগ করেছে। যদিও প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বারুইপুর এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। স্কুলের নিরাপত্তা ও ছাত্রদের মানসিক অবস্থার বিষয়েও উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবক মহলে।
