মগরাহাটে ত্রিপল সরানো ঘিরে চাঞ্চল্য, তদন্তের দাবিতে বিজেপি
- ফ্যাক্ট ফাইল | Jun 03, 2026
নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক - দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট ২ নম্বর ব্লকে বিপুল পরিমাণ ত্রিপল সরানোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ব্লকের প্রাক্তন পঞ্চায়েত কর্মাধ্যক্ষ রবিন সাহা। বুধবার দুপুরে তাঁর বাড়ি থেকে দু’টি মোটরভ্যানে করে প্রচুর ত্রিপল অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও ঘটনাস্থলে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই সময় তপন নামে এক বিজেপি নেতা মোটরভ্যান চালকদের কাছে ত্রিপল কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তা জানতে চান। অভিযোগ, তাঁদের উত্তরে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় সন্দেহ আরও বাড়ে। এরপর বিজেপি নেতা পলাশ হালদারের নেতৃত্বে এলাকার একাধিক বিজেপি কর্মী ও নেতৃত্বকে খবর দেওয়া হয়।

বিজেপির দাবি, তাঁরা পরিস্থিতি উত্তপ্ত না করে প্রশাসনিক পথেই বিষয়টির সমাধান চেয়েছেন। অঞ্চল সভাপতি তারক মণ্ডলের উদ্যোগে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিপুল পরিমাণ ত্রিপল কী উদ্দেশ্যে সরানো হচ্ছিল, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। বিজেপির একাংশের দাবি, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সামগ্রীগুলি আপাতত আটকে রাখা হয়েছে।
ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও জল্পনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রাক্তন বিধায়ক নমিতা সাহার নাম নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, রবিন সাহা তাঁর ভাই হওয়ায় গোটা ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাবের প্রশ্ন উঠছে। যদিও রবিন সাহা বা নমিতা সাহার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, যদি সরকারি বা ত্রাণ সংক্রান্ত সামগ্রী অন্যত্র সরানোর চেষ্টা হয়ে থাকে, তবে তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ত্রিপলগুলি কোথা থেকে এল, কেন সরানো হচ্ছিল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল— তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। এখন তদন্তে কী উঠে আসে, আদৌ কোনও অনিয়ম হয়েছে কি না, সেদিকেই নজর মগরাহাটবাসীর।
