লোগোতে টাচ করুন

যোগাযোগ :- 8016367537/8648868278


Email ID: zillarbartaoffical@gmail.com


Registration No: WB-18-0064025

বিজ্ঞাপনের জন্য

যোগাযোগ :- 7478809472


মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার-এর পার্টি অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ, উত্তেজনা এলাকায়

  • ফ্যাক্ট ফাইল | May 31, 2026


মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার-এর পার্টি অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ, উত্তেজনা এলাকায়

নিজস্ব প্রতিনিধি ,জেলার বার্তা ডেস্ক- সরকারি জায়গা দখল করে দলীয় কার্যালয় নির্মাণ, সরকারি ত্রাণ সামগ্রী মজুত রাখা এবং বিভিন্ন সরকারি সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল মথুরাপুর লোকসভা এলাকায়। অভিযোগের তির এবার মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বাপি হালদারের বিরুদ্ধে। রবিবার এলাকায় উত্তেজিত জনতার একাংশ তাঁর দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি ব্যাপক ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় অভিযোগ উঠছিল যে সরকারি জমি দখল করে একটি তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস তৈরি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই কার্যালয়ের ভিতরে সরকারি বিভিন্ন সামগ্রী, ত্রাণ সামগ্রী এবং সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ জিনিসপত্র মজুত রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করে। স্থানীয়দের দাবি, বহুবার অভিযোগ জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। তার জেরেই রবিবার বিস্ফোরিত হয় জনরোষ।
অভিযোগ, সকাল থেকেই কয়েকশো মানুষ ওই কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। প্রথমে বিক্ষোভ, পরে উত্তেজনা চরমে উঠতেই একাংশ ক্ষুব্ধ মানুষ কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। চেয়ার, টেবিল, ফাইলপত্র ও অন্যান্য আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।
স্থানীয়দের দাবি, ভাঙচুরের সময় কার্যালয়ের ভিতর থেকে বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার হয়। অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ কিছু সামগ্রী সেখানে মজুত করে রাখা হয়েছিল। কারও দাবি, ত্রিপল, খাদ্যসামগ্রী, শীতবস্ত্র-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সামগ্রীও সেখানে পাওয়া গিয়েছে। যদিও এই দাবির সত্যতা নিয়ে এখনও সরকারি ভাবে কোনও মন্তব্য করেনি প্রশাসন। তবে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
এলাকাবাসীদের একাংশের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি সুবিধা রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল। কোনও কোনও বাসিন্দার দাবি, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে দলীয় পরিচয় দেখাতে হতো। ফলে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকেই এই বিস্ফোরণ বলে মত স্থানীয়দের একাংশের।


ঘটনাকে কেন্দ্র করে মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বাপি হালদারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন স্থানীয়রা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এলাকার উন্নয়ন এবং মানুষের সমস্যা সমাধানের বদলে সরকারি সম্পত্তিকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, যদি সরকারি জায়গা দখল এবং সরকারি সামগ্রী মজুতের অভিযোগ সত্যি হয়, তাহলে প্রশাসন এতদিন নীরব ছিল কেন?


যদিও এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাংসদ বাপি হালদার বা তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দলীয় সূত্রে অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করা হতে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে। তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন অভিযোগ তুলে শাসকদলকে অস্বস্তিতে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।


ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নতুন করে অশান্তি এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে কার্যালয়ের সামনে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। কারা ভাঙচুরে জড়িত ছিল, তা চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি জমি দখল এবং ত্রাণ সামগ্রী মজুত রাখার অভিযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানা গিয়েছে।


প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারি জমি দখল বা সরকারি সামগ্রী বেআইনি ভাবে মজুত রাখার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” যদিও সরকারি ভাবে এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।


রাজনৈতিক মহলের মতে, ঘটনাটি মথুরাপুরের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে। একদিকে সরকারি সম্পত্তি ও ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে অভিযোগ, অন্যদিকে সাংসদের কার্যালয়ে জনতার হামলা— সব মিলিয়ে ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। এখন প্রশাসনিক তদন্তে কী উঠে আসে এবং অভিযোগের সত্যতা কতটা প্রমাণিত হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে এলাকার মানুষের।


তবে ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ কতটা সত্য? কার্যালয় থেকে ঠিক কী কী সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে? এবং কেন সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এতটা বিস্ফোরক আকার নিল? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্ত এগোলে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।