মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেফতার কাউন্সিলর! রাজপুর-সোনারপুরে ভোররাতের ঘটনায় তুমুল চাঞ্চল্য ।
- ফ্যাক্ট ফাইল | May 31, 2026
মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেফতার কাউন্সিলর! রাজপুর-সোনারপুরে ভোররাতের ঘটনায় তুমুল চাঞ্চল্য ।
নিজস্ব প্রতিনিধি ,জেলার বার্তা ডেস্ক-দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বরুণ সরকারকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেফতার করাকে কেন্দ্র করে শনিবার ভোর থেকে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় একটি মাছের ভেড়ি থেকে মাছ চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন বলে অভিযোগ। ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা কাউন্সিলরকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে কাউন্সিলরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর মাছ চুরির অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার ভোররাতে এলাকার একটি মাছের ভেড়িতে কয়েক জনকে নিয়ে যান কাউন্সিলর বরুণ সরকার। অভিযোগ, সেখানে ভেড়ির মালিক বা দেখভালের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অনুমতি ছাড়াই মাছ তোলা হচ্ছিল। ভোরের দিকে বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় কয়েক জনের। এরপরই তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউন্সিলরকে ঘিরে ফেলেন।
.jpeg)
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই ভেড়ি থেকে প্রভাব খাটিয়ে মাছ তুলে নেওয়ার অভিযোগ ছিল। তবে এদিন নাকি কাউন্সিলরকে সরাসরি মাছ তুলতে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার মানুষ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কাউন্সিলরের সঙ্গে আরও কয়েক জন ছিলেন এবং দ্রুত মাছ তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিও চলছিল। যদিও এই বিষয়ে ধৃত কাউন্সিলরের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েক জন বাসিন্দা জানান, ভোরের অন্ধকারে মাছ তোলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকার মানুষ একত্রিত হতে থাকেন। এরপর তাঁরা কাউন্সিলরকে আটকে রেখে প্রতিবাদ শুরু করেন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সাধারণ মানুষের সম্পত্তি বা এলাকার ভেড়ি থেকে এভাবে প্রভাব খাটিয়ে মাছ তুলে নেওয়া মেনে নেওয়া যায় না। একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠতেই এলাকায় ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। উত্তেজিত পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ কিছু পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়। স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে প্রথমে কাউন্সিলরকে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে মাছ চুরির মামলা রুজু করে বরুণ সরকারকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধীদের দাবি, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। যদিও শাসকদলের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। দলের অন্দরে বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলেও রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু এই একটি ঘটনা নয়, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন বিষয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। যদিও সেই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনও স্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে মাছের ভেড়ি থেকে মাছ তোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার ভোরের এই নাটকীয় পরিস্থিতি এখন এলাকায় চর্চার প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। মাছের ভেড়ির মালিকপক্ষের অভিযোগ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হতে পারে। কাউন্সিলরের সঙ্গে আর কারা ছিলেন, তাঁদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বহু মানুষ এই ঘটনার নিন্দা করেছেন। স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, যাঁদের সাধারণ মানুষের পাশে থাকার কথা, তাঁদের বিরুদ্ধেই যদি এ ধরনের অভিযোগ ওঠে, তাহলে মানুষের আস্থা নষ্ট হয়। অন্যদিকে, কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠদের দাবি, পুরো বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্রও থাকতে পারে। যদিও পুলিশ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও কিছু নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
শনিবার সকালের পর থেকেই রাজপুর-সোনারপুর এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। মাছ চুরির অভিযোগে এক জনপ্রতিনিধির গ্রেফতারি নিঃসন্দেহে বিরল ঘটনা বলেই মনে করছেন অনেকেই। এখন দেখার, তদন্তে ঠিক কী উঠে আসে এবং আদালতে এই মামলার পরবর্তী গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যায়।
