Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে সম্পাদকিয় কলম
BREAKING NEWS
এলারস-ড্যানলস সিনড্রোমের প্রতিটি ধরনের রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও লক্ষণ   •   এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশকে হারিয়ে নারী ক্রিকেটের ফাইনালে ভারত   •   আইএসএফের ‘খাম’ প্রতীক অন্য দলকে বরাদ্দ, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ নওশাদ সিদ্দিকীর   •   টানা ৫ দিন ব্যাঙ্ক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা! ২৮–৩০ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে ধর্মঘট   •   বেলঘরিয়ায় স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরে সুকান্ত মজুমদার   •   রানীনগরে পুলিশের অভিযান, ১৪৫ বোতল ফেনসিডিল-সহ গ্রেফতার যুবক

বাংলায় কি এবার চালু হতে চলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি? জোর চর্চায় ইউনিফর্ম সিভিল কোড

26 Jun 2026
05:11 PM

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক - দেশজুড়ে বহুদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC)। এবার সেই আলোচনা নতুন করে জোরাল হয়েছে বাংলাতেও। “এক দেশ, এক আইন” ধারণাকে সামনে রেখে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার ও পারিবারিক আইনে একক নিয়ম চালুর প্রশ্নে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।

ইউসিসি মূলত এমন একটি আইনব্যবস্থা, যেখানে ধর্মভেদে আলাদা ব্যক্তিগত আইন না থেকে সকল নাগরিকের জন্য একই দেওয়ানি আইন কার্যকর হবে। বর্তমানে ভারতে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ-সহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক পারিবারিক আইন রয়েছে। ইউসিসি কার্যকর হলে সেই ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আলোচনায় উঠে এসেছে বিয়ের নথিভুক্তকরণ বাধ্যতামূলক করার বিষয়টিও। সূত্রের খবর, ভবিষ্যতে প্রতিটি বিয়ে সরকারিভাবে রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক হতে পারে, যাতে অপ্রাপ্তবয়স্ক বিয়ে, বহুবিবাহ বা প্রতারণার মতো ঘটনা রোধ করা যায়। পাশাপাশি মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং ছেলেদের ২১ বছর নির্ধারণের বিষয়টি আরও কঠোরভাবে কার্যকর করার দিকেও জোর দেওয়া হতে পারে।

সমর্থকদের মতে, ইউসিসি চালু হলে নারী অধিকার আরও সুরক্ষিত হবে। উত্তরাধিকার, সম্পত্তি বণ্টন ও বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। অনেকের দাবি, বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক আইনের কারণে বহু ক্ষেত্রেই মহিলারা আইনি বৈষম্যের শিকার হন। একক দেওয়ানি বিধি সেই বৈষম্য দূর করতে সাহায্য করতে পারে।

অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশের আশঙ্কা, ইউসিসি দেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের মতে, ভারতের সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার দিয়েছে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নিজস্ব পারিবারিক আইন সেই ঐতিহ্যের অংশ। তাই কোনও আইন আনার আগে সর্বস্তরের মানুষের মতামত নেওয়া প্রয়োজন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইউসিসি শুধুমাত্র আইনি বিষয় নয়, এটি আগামী দিনের বড় রাজনৈতিক ইস্যুতেও পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মতো বহু ভাষা ও বহু সংস্কৃতির রাজ্যে এই বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যদিও এখনও বাংলায় ইউসিসি কার্যকর নিয়ে সরকারিভাবে কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি, তবুও “এক দেশ, এক আইন” ধারণাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও আলোচনা ক্রমশ বাড়ছে। এখন দেখার, ভবিষ্যতে এই বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের অবস্থান কোন দিকে এগোয় এবং তা দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে কতটা প্রভাব ফেলে।

news home ads