নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক - পরিবেশ রক্ষা, শূন্য বর্জ্য এবং সার্কুলার ইকোনমির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আজকের তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোবিন্দপুর রত্নেশ্বর হাই স্কুলে অনুষ্ঠিত হলো এক আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক পরিবেশ বিষয়ক বিশেষ কর্মসূচি। এই অনুষ্ঠানে সুদূর তাইওয়ান থেকে আগত ফু জেন ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি-এর ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষিকারা অংশগ্রহণ করেন।
১১ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি স্কুলে পৌঁছে প্রথমেই বিদ্যালয়ের ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প পরিদর্শন করে। স্কুলের প্রতিদিনের খাবারের বর্জ্য কীভাবে আলাদা করে সংরক্ষণ করা হয় এবং পরবর্তীতে তা থেকে জৈব সার বা ক্ষারজাতীয় উপাদান তৈরি করা হয়, সেই পুরো প্রক্রিয়া তাদের সামনে তুলে ধরা হয়। এই কর্মসূচিতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাপস ভট্টাচার্য সহ শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীরাও অংশ নেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, খাবারের উচ্ছিষ্ট ও পচনশীল বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে জমা করে তা প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে জৈব সার তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে সেই সার স্কুলের চারপাশের গাছপালা ও বাগানে ব্যবহার করা হয়। পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগ বিদেশি প্রতিনিধি দলকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করে।
এরপর তাইওয়ানের প্রতিনিধি দলকে বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য দিয়ে তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প ও শিক্ষামূলক মডেল প্রদর্শন করা হয়। ছাত্রছাত্রীরা কীভাবে বর্জ্য পদার্থকে নতুনভাবে কাজে লাগাচ্ছে, তা দেখে প্রতিনিধিরা প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে আয়োজন করা হয় এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্কুলের জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় এবং পরে তাইওয়ানের জাতীয় সংগীতও পরিবেশিত হয়। “টেকসই ভবিষ্যতের জন্য একসাথে” শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে নাচ, গান এবং পরিবেশ সচেতনতা ভিত্তিক বিভিন্ন পরিবেশনা দর্শকদের মন জয় করে। বিশেষ করে “একটি গাছ একটি প্রাণ” বিষয়ক পরিবেশনা অনুষ্ঠানে আলাদা মাত্রা যোগ করে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ছাত্রছাত্রীরা একসঙ্গে কাজ করলে পরিবেশ রক্ষা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন নতুন ধারণা ও প্রযুক্তির আদানপ্রদান সম্ভব হয়। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা তরুণ প্রজন্মকে আরও সচেতন ও উদ্ভাবনী করে তুলতে পারে।
এদিনের অনুষ্ঠানে শূন্য বর্জ্য ক্যাম্পাস বা “Zero Waste Campus” গড়ে তোলার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জন, উৎসে বর্জ্য পৃথকীকরণ, পুনর্ব্যবহার ও কম্পোস্টিংয়ের মতো বিষয়গুলি নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করা হয়।
পাশাপাশি “সার্কুলার ইকোনমি বা বৃত্তাকার অর্থনীতি ” বা বৃত্তাকার অর্থনীতির ধারণাও তুলে ধরা হয়। বক্তারা জানান, “নিন-বানান-ফেলুন” সংস্কৃতির পরিবর্তে পুনর্ব্যবহার ও পুনর্নির্মাণের অভ্যাসই ভবিষ্যতের টেকসই সমাজ গঠনের অন্যতম চাবিকাঠি।
স্কুল কর্তৃপক্ষের মতে, তরুণরাই আগামী দিনের পরিবর্তনের চালিকাশক্তি। তাই পরিবেশবান্ধব সমাজ গড়তে স্কুল স্তর থেকেই সচেতনতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলনের রূপ নিতে পারে।