Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
গড়বেতার সভা থেকে পুলিশ সুপারকে নির্দেশ শুভেন্দু অধিকারীর, তপন ঘোষকে খুঁজে বের করার বার্তা   •   পোস্টার প্রিন্টের শাড়িতে নজর কাড়লেন ঋতুপর্ণা, ‘স্টার লাইট অনন্য সম্মান ২০২৬’-এর মঞ্চে অভিনব সাজে অভিনেত্রী   •   হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের পাতে রাখুন ৬ ধরনের খাবার, পরামর্শ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের   •   আপনি একটানা কয়টি পুশ-আপ করতে পারেন? মেল রবিন্সের পডকাস্ট ঘিরে ভাইরাল ‘১১ পুশ-আপ চ্যালেঞ্জ’   •   SIR বাতিল ও জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে দিল্লির রামলীলা ময়দান অভিমুখে বিরোধীদের মিছিল   •   বাংলায় ফের SIR-এর দাবি শমীক ভট্টাচার্যের, ‘অসম্পূর্ণ থেকে গিয়েছে আগের প্রক্রিয়া’

গড়বেতার সভা থেকে পুলিশ সুপারকে নির্দেশ শুভেন্দু অধিকারীর, তপন ঘোষকে খুঁজে বের করার বার্তা

01 Nov 2026
09:55 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: ছোট আঙারিয়া থেকে নন্দীগ্রাম—বাম আমলের একাধিক রাজনৈতিক হিংসার মামলার ফাইল নতুন করে খতিয়ে দেখার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর। তপন ঘোষ ও সুকুর আলিকে খুঁজে বের করার নির্দেশ ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা।

নিজস্ব সংবাদদাতা: পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতার জনসভা থেকে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনকে সরাসরি বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সভামঞ্চ থেকেই জেলার পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানাকে উদ্দেশ্য করে সিপিআইএম নেতা তপন ঘোষকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন তিনি। শুধু খুঁজে বের করাই নয়, তপন ঘোষকে জেলে দেখতে চান বলেও প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে বাম আমলের একাধিক রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা এবং পুরনো মামলার প্রসঙ্গ তুলে সেগুলি নতুন করে খতিয়ে দেখার কথাও জানান তিনি।

শনিবার গড়বেতায় বিজেপির জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী অতীতের একাধিক ঘটনার প্রসঙ্গ সামনে আনেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ২০০১ সালের ছোট আঙারিয়া, ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম এবং গড়বেতার রাজনৈতিক সংঘর্ষের ইতিহাস। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, অতীতের এই ঘটনাগুলির সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলি নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে। কোনও অভিযুক্তকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।

TV9 Bangla News+2

পুলিশ সুপারকে প্রকাশ্য নির্দেশ

গড়বেতার সভায় বক্তব্যের এক পর্যায়ে তপন ঘোষের প্রসঙ্গ তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। একসময় তপন ঘোষ ও সুকুর আলির বিরুদ্ধে তাঁকে ঘিরে হুমকির অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এরপর সরাসরি পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানার উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, তপন ঘোষ এখন কোথায়? তিনি এলাকায় রয়েছেন, নাকি অন্য কোথাও চলে গিয়েছেন?

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, পুলিশকে তপন ঘোষের অবস্থান খুঁজে বের করতে হবে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। সভামঞ্চ থেকে তাঁকে জেলে দেখতে চাওয়ার কথাও বলেন শুভেন্দু। ফলে প্রশাসনিক নির্দেশের পাশাপাশি এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

একজন মুখ্যমন্ত্রীর প্রকাশ্য সভা থেকে জেলা পুলিশ সুপারকে এভাবে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দেওয়া প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক—দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ। তবে কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে অভিযোগ, তদন্তের তথ্য, আদালতের নির্দেশ এবং প্রযোজ্য আইনই চূড়ান্ত বিবেচ্য।

ছোট আঙারিয়া হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ ফের সামনে

শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ২০০১ সালের ছোট আঙারিয়া-কাণ্ড। গড়বেতার ছোট আঙারিয়া গ্রামে বক্তার মণ্ডলের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সেই সময় রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, ওই ঘটনায় তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয় এবং কয়েকজনকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

এই ঘটনার তদন্তে সিপিআইএম নেতা তপন ঘোষ ও সুকুর আলির নাম উঠে এসেছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়। তবে মামলার আইনি ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, ২০০৯ সালে প্রমাণের অভাবে তপন ঘোষ, সুকুর আলি-সহ ১৩ জন অভিযুক্তকে আদালত বেকসুর খালাস করে। ফলে এই ঘটনার রাজনৈতিক অভিযোগ এবং আদালতের রায়—দুই বিষয়কে আলাদা করে দেখা জরুরি।

The Times of India+2

গড়বেতার সভা থেকে সেই পুরনো ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ছোট আঙারিয়া-সহ অতীতের রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাগুলির ফাইল নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে। তাঁর বক্তব্য, অতীতে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, তাঁদের ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট মামলার বর্তমান অবস্থাও খতিয়ে দেখা দরকার।

নন্দীগ্রামের ২০০৭ সালের ঘটনাও আলোচনায়

ছোট আঙারিয়ার পাশাপাশি ২০০৭ সালের নন্দীগ্রামের ঘটনাও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে নন্দীগ্রামে সেই সময় তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হয়েছিল। ১০ নভেম্বরের ‘অপারেশন সূর্যোদয়’ এবং তার আগে-পরে সংঘটিত হিংসার ঘটনা বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, গড়বেতার সিপিআইএম পার্টি অফিস থেকে অস্ত্র নিয়ে কিছু লোক নন্দীগ্রামে গিয়েছিল এবং সেখানে হিংসাত্মক ঘটনায় যুক্ত হয়েছিল। সেই ঘটনাগুলির সঙ্গে সম্পর্কিত মামলাগুলি নতুন করে খতিয়ে দেখার ঘোষণা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, তদন্তের মাধ্যমে যাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

The Times of India+2

তবে পুরনো মামলা পুনরায় খতিয়ে দেখা বা নতুন করে তদন্তের ক্ষেত্রে আইনি সীমাবদ্ধতা এবং আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশ গুরুত্বপূর্ণ। কোনও মামলা নিষ্পত্তি হয়ে থাকলে, কোনও অভিযুক্ত খালাস পেয়ে থাকলে কিংবা কোনও মামলা বিচারাধীন থাকলে, পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

তপন ঘোষ ও সুকুর আলিকে ঘিরে পুরনো রাজনৈতিক বিতর্ক

তপন ঘোষ ও সুকুর আলি—এই দুই নাম দীর্ঘদিন ধরেই গড়বেতা ও পশ্চিম মেদিনীপুরের রাজনীতিতে আলোচিত। ছোট আঙারিয়া-কাণ্ডের পর তাঁদের নাম রাজনৈতিক বিতর্কে বারবার উঠে এসেছে। শুভেন্দু অধিকারীও সভা থেকে তাঁদের প্রসঙ্গ তুলে অতীতের হুমকির কথা উল্লেখ করেন।

তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিপিআইএমের পক্ষ থেকেও পাল্টা বক্তব্য সামনে এসেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সিপিআইএম নেতা সুকুর আলি দাবি করেছেন, ছোট আঙারিয়া ও নন্দীগ্রাম সংক্রান্ত কয়েকটি মামলায় তাঁরা আদালত থেকে বেকসুর খালাস পেয়েছেন। সিপিআইএমের অন্য নেতারাও পুরনো মামলা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার আইনি ভিত্তি ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

Eisamay Online+1

এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যেই স্পষ্ট, গড়বেতার সভার ঘোষণা শুধু একটি পুলিশি নির্দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রাজ্যের অতীত রাজনৈতিক সংঘর্ষ, বিচারপ্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন দলের দীর্ঘদিনের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বাড়ছে নজর

মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশের পর স্বাভাবিকভাবেই নজর পড়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশের দিকে। পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা এবং জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ করা হয়, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

তবে পুলিশি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—তপন ঘোষের বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনও কার্যকর গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে কি না, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলির বর্তমান আইনি অবস্থা কী এবং নতুন করে তদন্তের কোনও আইনসম্মত ভিত্তি রয়েছে কি না। শুধুমাত্র রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে নির্দেশ দেওয়া হলেই কাউকে গ্রেফতার করা যায় না; তার জন্য আইনি প্রক্রিয়া মেনে চলা জরুরি।

অন্যদিকে, অতীতের রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিচারের দাবি নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলই নিজেদের অবস্থান থেকে এই ঘটনাগুলির বিচার চেয়ে এসেছে। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘোষণার পর সেই পুরনো বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে।

রাজনৈতিক সংঘাতের নতুন অধ্যায়?

গড়বেতার সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে সিপিআইএমের পাশাপাশি রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। তাঁর বক্তব্য, অতীতের হিংসার ঘটনাগুলির বিচার হওয়া প্রয়োজন এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

তবে বিরোধীদের বক্তব্য, পুরনো মামলার প্রসঙ্গ তুলে রাজনৈতিক আক্রমণ করার পাশাপাশি সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে আইন মেনেই হচ্ছে। আদালতে নিষ্পত্তি হওয়া মামলার ক্ষেত্রে নতুন করে কোনও পদক্ষেপের সুযোগ রয়েছে কি না, সেটিও আইনি দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

এখন নজর জেলা পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপে

সব মিলিয়ে গড়বেতার সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। একদিকে তপন ঘোষকে খুঁজে বের করার জন্য পুলিশ সুপারকে প্রকাশ্য নির্দেশ, অন্যদিকে ছোট আঙারিয়া ও নন্দীগ্রামের মতো পুরনো রাজনৈতিক হিংসার মামলাগুলি পুনরায় খতিয়ে দেখার ঘোষণা—দুই বিষয়ই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

এখন দেখার, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ কী পদক্ষেপ করে এবং পুরনো মামলাগুলি নিয়ে সরকার বাস্তবে কোন আইনি প্রক্রিয়ায় এগোয়। রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে তদন্ত, আদালতের নির্দেশ এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হবে।