Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
৩৪ বছরেও বদলায়নি ছবি! কুলপির ১৮০টি সেতুতে ভরসা কাঠ-বাঁশ, স্থায়ী সেতুর অপেক্ষায় গ্রামবাসী   •   টোটো-অটোর দাপটে বিপর্যস্ত রাস্তাঘাট, যানজট ও দুর্ঘটনা রুখতে চাই কঠোর নিয়ন্ত্রণ   •   দেশজুড়ে ৪০ লক্ষেরও বেশি টুথপেস্ট টিউব প্রত্যাহার, তালিকায় শিশুদের জনপ্রিয় ব্র্যান্ডও   •   ৯টি সেরা উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত স্ন্যাকস, যা আপনার হৃদযন্ত্রের জন্যও ভালো   •   দেবী বিসর্জনের পর পুকুরঘাটে জোরকদমে সাফাই অভিযান, পরিচ্ছন্ন হচ্ছে কুলটির জলাশয়   •   WTC 2027-এ শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, চাপের কথা স্বীকার করলেন তেম্বা বাভুমা

গঙ্গা শুধু নদী নয়, আমাদের মা’, হরিদ্বারে গঙ্গার দূষণ নিয়ে সরব দিলীপ ঘোষ

23 Oct 2026
11:05 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: পবিত্র গঙ্গায় স্নানের পর নদীতে পোশাক ফেলে যাওয়ার ঘটনায় নাগরিক সচেতনতার বার্তা, নদী পরিষ্কারে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও দায়িত্বের কথা তুলে ধরলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ

গঙ্গা ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কোটি কোটি মানুষের কাছে গঙ্গা শুধু একটি নদী নয়, তিনি মা। এই নদীর জল, প্রকৃতি এবং পরিবেশের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মানুষের জীবনযাত্রা ও বিশ্বাস। অথচ পবিত্র নদীতে স্নান করতে এসে অনেকের ফেলে যাওয়া পোশাক ও অন্যান্য বর্জ্য নদীর পরিবেশকে দূষিত করছে। হরিদ্বারে গঙ্গার ঘাটে এমন দৃশ্য সামনে আসতেই নদী পরিষ্কার রাখা এবং নাগরিক দায়িত্ব পালনের প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।

এই বিষয়টি তুলে ধরে পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে গঙ্গার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধের প্রসঙ্গ। তাঁর বার্তার মূল কথা, একদিকে নদী পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে, আর অন্যদিকে মানুষ নদীতে আবর্জনা ফেলে তাকে দূষিত করবে—এমন আচরণ কোনওভাবেই কাম্য নয়। গঙ্গাকে সত্যিকার অর্থে সম্মান জানাতে হলে শুধু ধর্মীয় আচার পালন করলেই চলবে না, নদীর পরিচ্ছন্নতা রক্ষার দায়িত্বও নিতে হবে প্রত্যেককে।

পুণ্যস্নানের পর ঘাটে পড়ে থাকছে পোশাক, প্রশ্ন সচেতনতা নিয়ে

হরিদ্বার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। প্রতিদিন বহু মানুষ গঙ্গাস্নান ও ধর্মীয় আচার পালনের জন্য সেখানে যান। বিশেষ বিশেষ তিথি ও উৎসবের সময় ভক্তদের ভিড় আরও বেড়ে যায়। কিন্তু পুণ্যস্নানের পর ঘাটে জামা, শাড়ি, ধুতি-সহ বিভিন্ন পোশাক ফেলে যাওয়ার মতো ঘটনা নদীর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে পরিবেশ রক্ষার কোনও বিরোধ নেই। বরং প্রকৃতি ও নদীকে শ্রদ্ধা করার অর্থই হলো তার ক্ষতি হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকা। গঙ্গায় স্নান করতে এসে ব্যবহৃত পোশাক নির্দিষ্ট বর্জ্য সংগ্রহের স্থানে না ফেলে নদীর ঘাটে বা জলে ফেলে যাওয়া দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ। এর ফলে নদীর সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জলজ পরিবেশ ও ঘাটের পরিচ্ছন্নতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

গঙ্গার মতো গুরুত্বপূর্ণ নদীকে পরিষ্কার রাখা কেবল প্রশাসনের কাজ নয়। নদীর ঘাটে যাঁরা যান, তাঁদের প্রত্যেকেরই উচিত ব্যবহৃত পোশাক ও অন্যান্য বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মানুষজন সচেতন হলে দূষণের পরিমাণ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

‘গঙ্গা আমাদের মা’, বিশ্বাসের সঙ্গে থাকুক দায়িত্ববোধ

ভারতের মানুষের কাছে নদী মানে শুধু জলপ্রবাহ নয়; নদীকে ঘিরে রয়েছে সভ্যতা, কৃষি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার দীর্ঘ ইতিহাস। গঙ্গার ক্ষেত্রেও এই সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। গঙ্গার জল বহু মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত হয় এবং নদী অববাহিকা দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে যুক্ত।

তাই গঙ্গাকে মা বলে সম্মান জানানো হলে সেই সম্মানের বাস্তব প্রকাশ হওয়া উচিত নদীকে দূষণমুক্ত রাখার মধ্য দিয়ে। নদীর জলে প্লাস্টিক, কাপড়, পুজোর সামগ্রী কিংবা অন্য কোনও বর্জ্য ফেলে দেওয়া থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঘাটে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং অন্যদেরও সচেতন করা জরুরি।

দিলীপ ঘোষের বক্তব্যের সূত্র ধরে এই বার্তাই সামনে আসে—নদীকে পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব সবার। সরকার পরিষ্কারের উদ্যোগ নিলেও নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া সেই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে সফল করা কঠিন। মানুষের আচরণে পরিবর্তন না এলে বারবার পরিষ্কার করার পরও নদী ও ঘাটে দূষণের সমস্যা ফিরে আসতে পারে।

নমামি গঙ্গে প্রকল্প এবং নদী সংরক্ষণের গুরুত্ব

গঙ্গার দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও নদী পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ‘নমামি গঙ্গে’ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় গঙ্গা পরিষ্কার, নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নদী সংরক্ষণ-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তবে নদী পরিষ্কারের মতো বৃহৎ কাজ শুধু সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে সম্পূর্ণ করা সম্ভব নয়। নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা, নিকাশি ও আবর্জনা সঠিকভাবে পরিচালনা করা এবং ঘাটে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, পুরসভা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সমন্বয় দরকার।

সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় স্তরে সচেতনতা কর্মসূচি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং বর্জ্য সংগ্রহের উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকলে নদীর ঘাট পরিষ্কার রাখা সহজ হতে পারে। বিশেষ করে উৎসব ও ধর্মীয় জমায়েতের সময় অতিরিক্ত বর্জ্য তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেই সময় পর্যাপ্ত বর্জ্য সংগ্রহের পাত্র, পরিষ্কারকর্মী এবং জনসচেতনতামূলক প্রচার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

প্রশাসনের পাশাপাশি এগিয়ে আসুক স্থানীয় মানুষ

নদী পরিষ্কারের কাজে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হরিদ্বারের মতো তীর্থস্থানে সারা বছর বহু মানুষের যাতায়াত হওয়ায় ঘাট পরিষ্কার রাখার জন্য নিয়মিত নজরদারি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো, নির্দিষ্ট জায়গায় পোশাক ও অন্যান্য বর্জ্য সংগ্রহ করা এবং পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের সচেতন করার মতো উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে।

দীপাবলি পর্যন্ত নদীর স্রোত নিয়ন্ত্রণ করে গঙ্গা পরিষ্কার করার বিষয়ে যে বক্তব্য উঠে এসেছে, তার বাস্তব পদ্ধতি, সময়সূচি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাচাই করা জরুরি। তবে নদী পরিষ্কারের জন্য নিয়মিত পরিকল্পনা ও স্থানীয় সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না।

পরিচ্ছন্নতা অভিযান সফল করতে হলে শুধু কয়েক দিন নদী পরিষ্কার করলেই হবে না। সারা বছর ধরে বর্জ্য ফেলা নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত নজরদারি এবং মানুষের আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে। নদীকে দূষণমুক্ত রাখার অভ্যাস গড়ে তোলাই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অন্যতম পথ।

শুধু গঙ্গা নয়, প্রতিটি নদীকে বাঁচানো জরুরি

ভারত নদীমাতৃক দেশ। গঙ্গার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন নদী মানুষের জীবন, কৃষি, পানীয় জল এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু নদীতে বর্জ্য ফেলা, অপরিশোধিত নিকাশি জল মেশা এবং প্লাস্টিক দূষণের মতো সমস্যা বহু জায়গাতেই উদ্বেগের কারণ।

নদী দূষিত হলে তার প্রভাব শুধু জলেই সীমাবদ্ধ থাকে না। জলজ প্রাণী, নদীর আশপাশের জীববৈচিত্র্য, মানুষের স্বাস্থ্য এবং স্থানীয় অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই নদী সংরক্ষণকে কেবল ধর্মীয় বা প্রশাসনিক বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না; এটি পরিবেশ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থের সঙ্গেও জড়িত।

প্রত্যেক নাগরিক নিজের জায়গা থেকে ছোট ছোট পদক্ষেপ নিতে পারেন। নদী বা ঘাটে বর্জ্য না ফেলা, ব্যবহৃত পোশাক নির্দিষ্ট সংগ্রহস্থলে দেওয়া, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং অন্যদের সচেতন করা—এই অভ্যাসগুলিই পরিচ্ছন্ন নদী গড়ে তোলার পথে গুরুত্বপূর্ণ।

স্বচ্ছ নদী গড়তে চাই সম্মিলিত উদ্যোগ

গঙ্গার প্রতি মানুষের ধর্মীয় আবেগ ও শ্রদ্ধা বহু পুরনো। সেই শ্রদ্ধাকে বাস্তব অর্থ দিতে হলে নদীকে পরিষ্কার রাখা এবং তার পরিবেশ রক্ষা করা জরুরি। সরকারি প্রকল্প, প্রশাসনিক তৎপরতা ও স্থানীয় মানুষের উদ্যোগের পাশাপাশি প্রতিটি তীর্থযাত্রী ও নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন।

দিলীপ ঘোষের বক্তব্যের মূল সুরও এই সচেতনতার দিকেই ইঙ্গিত করে—একদিকে নদী পরিষ্কারের উদ্যোগ চলবে, আর অন্যদিকে নদীতে আবর্জনা ফেলে তাকে নোংরা করা হবে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। গঙ্গাকে মা বলে সম্মান জানালে তাঁর পরিচ্ছন্নতা রক্ষার দায়িত্বও আমাদের পালন করতে হবে।

নদীকে ভালোবাসা মানে নদীকে দূষণমুক্ত রাখা। আসুন, গঙ্গা-সহ দেশের প্রতিটি নদী পরিষ্কার রাখার অঙ্গীকার করি। ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধকে গুরুত্ব দিয়ে গড়ে তুলি আরও পরিচ্ছন্ন ও সবুজ দেশ।