Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
৩৪ বছরেও বদলায়নি ছবি! কুলপির ১৮০টি সেতুতে ভরসা কাঠ-বাঁশ, স্থায়ী সেতুর অপেক্ষায় গ্রামবাসী   •   টোটো-অটোর দাপটে বিপর্যস্ত রাস্তাঘাট, যানজট ও দুর্ঘটনা রুখতে চাই কঠোর নিয়ন্ত্রণ   •   দেশজুড়ে ৪০ লক্ষেরও বেশি টুথপেস্ট টিউব প্রত্যাহার, তালিকায় শিশুদের জনপ্রিয় ব্র্যান্ডও   •   ৯টি সেরা উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত স্ন্যাকস, যা আপনার হৃদযন্ত্রের জন্যও ভালো   •   দেবী বিসর্জনের পর পুকুরঘাটে জোরকদমে সাফাই অভিযান, পরিচ্ছন্ন হচ্ছে কুলটির জলাশয়   •   WTC 2027-এ শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, চাপের কথা স্বীকার করলেন তেম্বা বাভুমা

টোটো-অটোর দাপটে বিপর্যস্ত রাস্তাঘাট, যানজট ও দুর্ঘটনা রুখতে চাই কঠোর নিয়ন্ত্রণ

23 Oct 2026
12:05 PM


সম্পাদকের কলমে: পশ্চিমবঙ্গের শহর থেকে মফস্বল, জেলা সদর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম—রাজ্যের রাস্তাঘাটে এখন টোটো ও অটোর উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছে এই যানগুলি। স্বল্প দূরত্বে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছনো, তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য ভাড়া এবং বাড়ির কাছাকাছি থেকে যাতায়াতের সুবিধা—সব মিলিয়ে টোটো ও অটো বহু মানুষের জীবনের অপরিহার্য অংশ। কিন্তু সুবিধার এই ছবির অন্য পিঠেও রয়েছে একাধিক সমস্যা। অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, রাস্তার উপর যত্রতত্র দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো, নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডের অভাব এবং যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বহু এলাকায় যানজটের সমস্যা ক্রমশ আলোচনায় উঠে আসছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ।

প্রশ্ন উঠছে, মানুষের যাতায়াত সহজ করার জন্য যে যানগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, সেগুলির চলাচলই যদি রাস্তায় দুর্ভোগের কারণ হয়ে ওঠে, তবে তার সমাধান কী? টোটো ও অটো বন্ধ করে দেওয়া কি সমস্যার প্রকৃত সমাধান, নাকি প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট নিয়ম, পরিকল্পিত রুট এবং কঠোর নজরদারি? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই দরকার আবেগের বদলে বাস্তবসম্মত পরিবহণনীতি।

শহর থেকে গ্রাম, যানজটের চেনা ছবি

রাজ্যের বিভিন্ন শহর ও জনবহুল এলাকায় রাস্তার উপর টোটো ও অটোর চলাচল নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ নতুন নয়। বাজার, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ, রেলস্টেশন কিংবা বাসস্ট্যান্ডের আশপাশে যাত্রী ওঠানো-নামানোর জন্য অনেক সময় রাস্তার একাংশ আটকে যায়। কোথাও নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডের অভাব, কোথাও রাস্তার তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা বেশি, আবার কোথাও ট্রাফিক নিয়মের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া—সমস্যার পিছনে থাকতে পারে একাধিক কারণ।

বিশেষ করে সংকীর্ণ রাস্তা এবং ব্যস্ত মোড়গুলিতে কয়েকটি যানবাহন অনিয়ন্ত্রিতভাবে দাঁড়িয়ে থাকলেও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। তার সঙ্গে বাস, পণ্যবাহী গাড়ি, ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরবাইক ও সাইকেলের চলাচল যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ফলে শুধু টোটো বা অটো নয়, সামগ্রিক সড়ক ব্যবস্থাপনাকেই এখানে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

গ্রামাঞ্চলেও সমস্যার ধরন আলাদা হলেও উদ্বেগের জায়গা কম নয়। অনেক রাস্তা এমনিতেই সংকীর্ণ। সেই রাস্তায় দ্রুতগতির মোটরবাইক, যাত্রীবাহী অটো, টোটো, সাইকেল, পথচারী ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত যানবাহন একই সঙ্গে চলাচল করে। কোথাও রাস্তার পাশে পর্যাপ্ত জায়গা নেই, কোথাও নেই উপযুক্ত যাত্রী ওঠানো-নামানোর ব্যবস্থা। এই পরিস্থিতিতে সামান্য অসতর্কতাও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

তবে সব এলাকায় একই পরিস্থিতি, কিংবা সব টোটো ও অটো চালকই নিয়ম ভাঙছেন—এমন সাধারণীকরণ করা উচিত নয়। সমস্যার প্রকৃত চিত্র বুঝতে হলে এলাকা অনুযায়ী যানবাহনের সংখ্যা, দুর্ঘটনার তথ্য, রাস্তার পরিকাঠামো এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অবস্থা খতিয়ে দেখা জরুরি।

দুর্ঘটনার ঝুঁকি, নিরাপত্তাই হোক প্রথম শর্ত

যানজট মানুষের সময় নষ্ট করে, কাজের ক্ষতি করে এবং দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। কিন্তু তার চেয়েও গুরুতর বিষয় হল সড়ক নিরাপত্তা। রাস্তার উপর অনিয়ন্ত্রিতভাবে যানবাহন দাঁড় করানো, বিপজ্জনকভাবে ওভারটেক করা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, নির্ধারিত গতিসীমা অমান্য করা কিংবা ট্রাফিক সংকেত উপেক্ষা করার মতো আচরণ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া শিশু, বয়স্ক মানুষ, অসুস্থ রোগী এবং পথচারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতাল বা স্কুলের সামনে যানজট তৈরি হলে জরুরি পরিষেবার গাড়ি চলাচলেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এই সমস্যাকে শুধু যানজটের অসুবিধা হিসেবে দেখলে চলবে না; এটি জননিরাপত্তার সঙ্গেও যুক্ত।

তবে দুর্ঘটনা বাড়ার জন্য শুধুমাত্র টোটো বা অটোকে দায়ী করার আগে নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রয়োজন। দুর্ঘটনার ধরন, কারণ, সংশ্লিষ্ট যানবাহন, রাস্তার অবস্থা এবং চালকের আচরণ—সবকিছু বিশ্লেষণ করেই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব। অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াই হওয়া উচিত প্রশাসনের নীতি।

সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি চাই কার্যকর বাস্তবায়ন

রাজ্য সরকারের তরফে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উঠে আসে। কিন্তু যে কোনও নিয়মের কার্যকারিতা নির্ভর করে তার বাস্তবায়নের উপর। নির্দেশ জারি করলেই সমস্যার সমাধান হয় না; নিয়মিত নজরদারি, দায়িত্ব নির্ধারণ এবং নিয়মভঙ্গের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।

প্রশাসনের প্রথম কাজ হওয়া উচিত কোন এলাকায় কতগুলি টোটো ও অটো চলাচল করছে, কোন রুটে যাত্রীচাপ বেশি এবং কোথায় যানজটের সমস্যা তীব্র—তার একটি নির্ভরযোগ্য চিত্র তৈরি করা। প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদিত রুট, নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড এবং যাত্রী ওঠানো-নামানোর স্থান চিহ্নিত করা যেতে পারে। ব্যস্ত বাজার, হাসপাতাল, স্কুল এবং রেলস্টেশনের সামনে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনারও প্রয়োজন রয়েছে।

একই সঙ্গে বৈধ নথি, যানবাহনের উপযুক্ততা, চালকের প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং প্রযোজ্য নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি। আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি চালকদের সচেতন করার উদ্যোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশাসনিক ব্যবস্থার লক্ষ্য হওয়া উচিত নিরাপদ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবহণ ব্যবস্থা তৈরি করা—শুধু সাময়িক অভিযান চালিয়ে কিছুদিনের জন্য রাস্তা ফাঁকা রাখা নয়।

টোটো-অটো চালকদের জীবিকার প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ

যানজট ও দুর্ঘটনার সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে টোটো এবং অটোচালকদের জীবিকার বিষয়টি ভুলে গেলে চলবে না। বহু পরিবার এই পেশার আয়ের উপর নির্ভরশীল। টোটো বা অটো চালিয়ে সংসার চালানো মানুষের কাছে এই যান কেবল পরিবহণের মাধ্যম নয়, উপার্জনেরও অবলম্বন।

তাই সমস্যার সমাধান হিসেবে হঠাৎ করে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলে বহু চালক আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারেন। আবার নিয়ন্ত্রণহীন চলাচলের ফলে সাধারণ মানুষ যদি প্রতিদিন যানজট ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার হন, সেটিও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

এই দুই বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই প্রশাসনের দায়িত্ব। কোথায় কতগুলি যান চলাচল করতে পারবে, কোন রুটে চলাচল করা যাবে, কোথায় স্ট্যান্ড তৈরি করা সম্ভব এবং কোন নিরাপত্তাবিধি বাধ্যতামূলক হবে—এসব বিষয়ে স্বচ্ছ নীতি প্রয়োজন। কোনও পরিবর্তন আনা হলে চালকদের সঙ্গে আলোচনা, পর্যাপ্ত প্রচার এবং বাস্তবায়নের জন্য যুক্তিসংগত সময় দেওয়াও জরুরি।

জীবিকা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা—এই দুটিকে পরস্পরের বিরোধী হিসেবে না দেখে একই পরিবহণনীতির দুটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

শুধু টোটো নয়, গোটা পরিবহণ ব্যবস্থার সংস্কার দরকার

রাস্তার যানজটের পিছনে অনেক সময় একাধিক কারণ কাজ করে। অপরিকল্পিত পার্কিং, রাস্তার পাশে দখল, দুর্বল ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত গণপরিবহণের অভাব এবং যাত্রী ওঠানো-নামানোর অনুপযুক্ত ব্যবস্থা—সবই পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে। তাই সমস্যার সমাধানে শুধুমাত্র একটি ধরনের যানবাহনের উপর নজর দিলে সম্পূর্ণ ফল পাওয়া কঠিন।

প্রথমত, ব্যস্ত এলাকায় নির্দিষ্ট পার্কিং ও স্ট্যান্ডের ব্যবস্থা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, রাস্তায় যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানো-নামানো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তৃতীয়ত, যানজটপ্রবণ এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত নজরদারি বাড়াতে হবে। চতুর্থত, রাস্তার অবস্থা অনুযায়ী যান চলাচলের পরিকল্পনা করতে হবে।

যেখানে সম্ভব, বাস ও অন্যান্য গণপরিবহণের সঙ্গে টোটো-অটোর রুটের সমন্বয় করা যেতে পারে। এতে যাত্রীরা সহজে এক যান থেকে অন্য যানে উঠতে পারবেন এবং একই রাস্তার উপর অপ্রয়োজনীয় যানজট কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে কোনও রুট পরিবর্তন বা যানবাহনের সংখ্যা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের প্রয়োজন ও বিকল্প পরিবহণের সুযোগ যাচাই করা দরকার।

চালকদের সচেতনতা এবং যাত্রীদের দায়িত্বও কম নয়

প্রশাসন নিয়ম তৈরি করতে পারে, নজরদারি চালাতে পারে এবং আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালক ও যাত্রী—দু’পক্ষেরই দায়িত্ব রয়েছে।

চালকদের নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা, বিপজ্জনকভাবে ওভারটেক না করা, অতিরিক্ত যাত্রী না তোলা এবং ট্রাফিক সংকেত মেনে চলা জরুরি। একই সঙ্গে যাত্রীদেরও রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে যান থামানোর জন্য চাপ দেওয়া বা অনিরাপদ স্থানে ওঠানামা করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

স্কুল, বাজার, হাসপাতাল ও জনবহুল এলাকায় বিশেষ সচেতনতা কর্মসূচি চালানো যেতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন, ট্রাফিক পুলিশ, পরিবহণ সংগঠন এবং নাগরিকদের মধ্যে সমন্বয় তৈরি হলে নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা বাড়তে পারে।

শুধু জরিমানা দিয়ে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। নিয়ম কেন জরুরি, তা বোঝানো এবং নিরাপদ আচরণকে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

সমাধান চাই, সংঘাত নয়

টোটো ও অটোকে ঘিরে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে একটি মৌলিক প্রশ্ন—সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধা কীভাবে বজায় রেখেও রাস্তাকে নিরাপদ ও যানজটমুক্ত করা যায়? এই প্রশ্নের উত্তর কোনও একক সিদ্ধান্তে মিলবে না। এর জন্য দরকার সঠিক তথ্য, স্থানীয় পরিস্থিতির মূল্যায়ন, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা এবং নিয়মের ধারাবাহিক প্রয়োগ।

প্রশাসনকে যেমন দায়িত্বশীল হতে হবে, তেমনই চালকদেরও নিয়ম মেনে চলতে হবে। নাগরিকদের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে, আবার চালকদের জীবিকা ও যাত্রীদের প্রকৃত প্রয়োজনও বিবেচনা করতে হবে। কোথাও সমস্যা তীব্র হলে সেখানে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে; অন্যত্র স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী সমাধান খুঁজতে হবে।

সবচেয়ে বড় কথা, যানজটের সমস্যা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য, দোষারোপ বা সাময়িক অভিযানেই সীমাবদ্ধ না থাকে। সাধারণ মানুষ প্রতিদিন যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, তার স্থায়ী সমাধানই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

সম্পাদকীয় মত

টোটো ও অটোকে এক কথায় সমস্যার উৎস বলে দাগিয়ে দেওয়া যেমন যুক্তিযুক্ত নয়, তেমনই মানুষের দুর্ভোগকে উপেক্ষা করে অনিয়ন্ত্রিত চলাচল চলতে দেওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়। এই যানগুলি রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে; কিন্তু সেই ভূমিকা পালন করতে হবে নিয়ম, নিরাপত্তা ও জনস্বার্থের মধ্যে থেকেই।

শহর হোক বা গ্রাম—রাস্তা কোনও ব্যক্তির একার নয়। সেখানে পথচারী, সাইকেল আরোহী, মোটরবাইক, গণপরিবহণ, জরুরি পরিষেবার গাড়ি এবং ছোট যানবাহন—সকলেরই চলাচলের অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার সুরক্ষিত রাখতে শৃঙ্খলা অপরিহার্য।

এখন প্রয়োজন পরিকল্পিত রুট, নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড, নিয়মিত নজরদারি, সড়ক নিরাপত্তা শিক্ষা এবং আইনভঙ্গের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ব্যবস্থা। একই সঙ্গে টোটো ও অটোচালকদের জীবিকা রক্ষার বিষয়টিও প্রশাসনিক পরিকল্পনার অংশ হওয়া দরকার।

রাস্তা মানুষের চলাচলের জন্য, দুর্ভোগের জন্য নয়। তাই টোটো-অটোর সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত নিষেধাজ্ঞা ও দোষারোপের তাড়াহুড়োয় নয়, বরং পরিকল্পনা, নিয়ন্ত্রণ এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে। নিরাপদ রাস্তা, স্বাভাবিক যান চলাচল এবং চালকদের সম্মানজনক জীবিকা—এই তিনটি লক্ষ্য একসঙ্গে অর্জন করাই হোক রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।