নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা, প্রতিপক্ষের বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখে নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত প্রোটিয়ারা। দলের পরিচিতি ও আত্মবিশ্বাস অটুট রেখে নতুন চক্রেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান অধিনায়ক।
বিশ্ব টেস্ট ক্রিকেটের মঞ্চে সাফল্য অর্জনের পর এবার সেই সাফল্য ধরে রাখার কঠিন পরীক্ষার সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০২৫ সালে লর্ডসে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছিল প্রোটিয়ারা। এবার লক্ষ্য ২০২৭ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পৌঁছনো এবং নিজেদের মুকুট ধরে রাখার লড়াই চালিয়ে যাওয়া। সেই যাত্রায় দলের ওপর যে বাড়তি চাপ থাকবে, তা স্বীকার করে নিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা।
বাভুমার মতে, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে মাঠে নামা প্রতিটি দলের কাছেই বাড়তি অনুপ্রেরণার বিষয় হবে। প্রতিপক্ষরা চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করতে চাইবে। ফলে প্রতিটি ম্যাচেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে আরও বেশি সতর্ক ও ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলতে হবে। তবে এই চাপকে নেতিবাচকভাবে না দেখে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ হিসেবেই দেখতে চান অধিনায়ক।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের পর দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটারদের প্রত্যাশার মাত্রা বেড়েছে। বাভুমা জানিয়েছেন, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কারণে তাঁদের দলের দিকে সবার নজর থাকবে। প্রতিপক্ষরা দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে নিজেদের সেরাটা দিতে চাইবে এবং চ্যাম্পিয়নদের পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করবে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে আসল চ্যালেঞ্জ হলো প্রত্যাশার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং চাপের মুহূর্তে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পারফর্ম করা। শিরোপা জয়ের পর দলের মানসিকতা বদলে যাওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও মনে করেন তিনি। বরং যে পরিশ্রম, পরিকল্পনা এবং দলগত সংহতি দক্ষিণ আফ্রিকাকে সাফল্য এনে দিয়েছিল, সেগুলির উপরই ভরসা রাখতে চান বাভুমা। <Cite refs={["turn812831search0","turn812831search6"]}/>
২০২৭ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পথে দক্ষিণ আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলির মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ। ৯ অক্টোবর ডারবানের কিংসমিডে শুরু হওয়ার কথা ছিল তিন ম্যাচের এই সিরিজ। পরবর্তী ম্যাচগুলি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা গকেবেরহা ও কেপটাউনে। গত বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে যে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, সেই দলের বিরুদ্ধেই নতুন চক্রের লড়াই শুরু করা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলার সময় ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। দক্ষিণ আফ্রিকার পেস আক্রমণ বরাবরই দলের অন্যতম শক্তি। পাশাপাশি পরিস্থিতি অনুযায়ী স্পিনারদের ব্যবহার এবং ব্যাটিংয়ের গভীরতা বাড়ানোর দিকেও নজর রয়েছে দলের। বাভুমার নেতৃত্বে প্রোটিয়ারা এই শক্তিগুলিকে কাজে লাগিয়ে নতুন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে এগিয়ে যেতে চাইবে।
২০২৫ সালের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছিল। সেই সাফল্য দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। বাভুমার মতে, শিরোপা জয়ের পর দলের মধ্যে যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ সামলাতে সাহায্য করবে। তবে অতীতের সাফল্যকে আঁকড়ে থাকলে চলবে না; বরং নিজেদের আগের মান আরও উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক মনে করেন, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরিচয় দলের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করলেও তা ক্রিকেটারদের ভীত করে তুলছে না। দলের লক্ষ্য ও খেলার ধরন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রয়েছে। এখন সেই পরিকল্পনাকে মাঠে কার্যকর করে দেখানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দীর্ঘ প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি সিরিজে পয়েন্ট সংগ্রহ, প্রতিকূল পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলগতভাবে ভালো পারফর্ম করা—এসবের উপর নির্ভর করবে ফাইনালে পৌঁছনোর সম্ভাবনা। দক্ষিণ আফ্রিকাকে অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেও গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজ খেলতে হবে।
শিরোপা ধরে রাখার লড়াই যে সহজ হবে না, তা ভালোভাবেই জানেন বাভুমা। তবে তাঁর বক্তব্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব নেই। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে প্রত্যাশা বাড়লেও দলের মূল পরিচয়, প্রস্তুতি এবং পরিশ্রমের উপর আস্থা রাখছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, WTC 2027-এর পথে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে রয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ এবং পুরনো সাফল্য ধরে রাখার দায়িত্ব। তেম্বা বাভুমার নেতৃত্বে প্রোটিয়ারা সেই চাপ সামলে আবারও ফাইনালে পৌঁছতে পারে কি না, তা নির্ভর করবে আগামী সিরিজগুলিতে তাদের পারফরম্যান্সের উপর।