নিজস্ব প্রতিনিধি , জেলার বার্তা ডেস্ক - উত্তর ২৪ পরগনার টাকি শহরের ইছামতি নদীর তীরে গড়ে ওঠা একাধিক বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে এবার বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে প্রশাসন। সূত্রের খবর, নদীর ধার দখল করে তৈরি হওয়া অন্তত ৫৬টি গেস্ট হাউস-সহ একাধিক অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই ইছামতি নদীর তীরবর্তী এলাকায় পরিবেশ আইন ও নির্মাণ বিধি উপেক্ষা করে একের পর এক গেস্ট হাউস, রিসর্ট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে উঠছিল। অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই নদীর পাড় ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলেও মত পরিবেশবিদদের।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই বেআইনি নির্মাণগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মালিকদের নোটিস পাঠানো হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারলে শুরু হবে ভাঙার কাজ। জেলা প্রশাসন, ভূমি দফতর ও স্থানীয় পুরসভা যৌথভাবে এই অভিযান চালাবে বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, বেআইনি নির্মাণের কারণে নদীর পাড় ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে এবং বর্ষাকালে ভাঙনের আশঙ্কাও বাড়ছে। অন্যদিকে, গেস্ট হাউস মালিকদের দাবি, পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করেই বহু মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল। হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্তে বহু মানুষ সমস্যার মুখে পড়বেন।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পরিবেশ রক্ষা ও নদীর স্বাভাবিক অস্তিত্ব বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে আগামী দিনেও কঠোর অভিযান চলবে বলেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
ইছামতির সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে প্রশাসনের এই পদক্ষেপ এখন টাকি শহরের অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।