Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
৩৪ বছরেও বদলায়নি ছবি! কুলপির ১৮০টি সেতুতে ভরসা কাঠ-বাঁশ, স্থায়ী সেতুর অপেক্ষায় গ্রামবাসী   •   টোটো-অটোর দাপটে বিপর্যস্ত রাস্তাঘাট, যানজট ও দুর্ঘটনা রুখতে চাই কঠোর নিয়ন্ত্রণ   •   দেশজুড়ে ৪০ লক্ষেরও বেশি টুথপেস্ট টিউব প্রত্যাহার, তালিকায় শিশুদের জনপ্রিয় ব্র্যান্ডও   •   ৯টি সেরা উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত স্ন্যাকস, যা আপনার হৃদযন্ত্রের জন্যও ভালো   •   দেবী বিসর্জনের পর পুকুরঘাটে জোরকদমে সাফাই অভিযান, পরিচ্ছন্ন হচ্ছে কুলটির জলাশয়   •   WTC 2027-এ শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, চাপের কথা স্বীকার করলেন তেম্বা বাভুমা

পুজোয় লাগে না, গন্ধও নেই—তবুও মোরগফুলের চাষে বাড়ছে চাহিদা! লাভের আশায় চাষিদের ভরসা এখন ‘মোরগফুল’

28 Sep 2026
10:05 AM

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক:পুজোর বাজারে সাধারণত শিউলি, গাঁদা, রজনীগন্ধা কিংবা জবা ফুলের চাহিদাই বেশি। কিন্তু সেই তালিকার বাইরে থেকেও ধীরে ধীরে বাজারে নিজের জায়গা করে নিচ্ছে এক বিশেষ ফুল—মোরগফুল। পুজোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও, সৌন্দর্য, দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যবহারের কারণে এই ফুলের চাহিদা বাড়ছে বলে জানাচ্ছেন চাষিরা।

মোরগের ঝুঁটির মতো আকৃতির জন্যই এই ফুলের নাম মোরগফুল। লাল, হলুদ, কমলা, গোলাপি-সহ বিভিন্ন রঙে দেখা যায় এই ফুল। দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ায় বাড়ির বাগান, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সাজসজ্জা এবং ফুলের বাজারে এর ব্যবহার রয়েছে। ফলে শুধু পুজোর মরশুমের উপর নির্ভর না করেও এই ফুল থেকে বাজার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

পুজোয় নয়, তবুও বাজারে চাহিদা

দুর্গাপুজোর সময় ফুলের বাজারে গাঁদা বা অন্যান্য ফুলের চাহিদা যেমন বাড়ে, মোরগফুলের ক্ষেত্রে ছবিটা কিছুটা আলাদা। এই ফুলের ব্যবহার শুধুমাত্র পুজোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, মঞ্চসজ্জা, বাড়ি সাজানো এবং декоративative ব্যবহারের জন্যও মোরগফুলের চাহিদা রয়েছে।

চাষিদের একাংশের দাবি, মোরগফুলের অন্যতম সুবিধা হল এর আকর্ষণীয় চেহারা। ফুল ফুটে যাওয়ার পরও বেশ কিছুদিন সতেজ থাকার কারণে বাজারে এর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সেই কারণেই অনেকেই বিকল্প ফুলচাষ হিসেবে মোরগফুলের দিকে ঝুঁকছেন।

কম জায়গায় চাষ, বাড়ছে আগ্রহ

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এলাকার মাটি, আবহাওয়া, বীজের গুণমান এবং পরিচর্যার উপর মোরগফুলের ফলন নির্ভর করে। সঠিক সময়ে বীজ বপন, জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং নিয়মিত পরিচর্যা করলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। তবে যেকোনও ফুলচাষের মতোই বাজারদর ও চাহিদার ওঠানামার ঝুঁকি রয়েছে।

অনেক ছোট ও প্রান্তিক চাষির কাছে ফুলচাষ বাড়তি আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ধান বা অন্যান্য প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি জমির একটি অংশে মোরগফুল চাষ করে বাজারে বিক্রি করছেন কেউ কেউ। বিশেষ করে স্থানীয় ফুলের বাজারে চাহিদা থাকলে পরিবহণ খরচ কমিয়ে লাভের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

রঙিন ফুলে জমছে বাজার

মোরগফুলের বিভিন্ন রঙ ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে। লাল ও হলুদের পাশাপাশি উজ্জ্বল কমলা এবং গোলাপি রঙের ফুলও বাজারে দেখা যাচ্ছে। ফুলের তোড়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাজসজ্জায় এর ব্যবহার বাড়ায় বিক্রেতারাও এই ফুল রাখছেন।

তবে চাষিদের বক্তব্য, শুধু চাহিদা বাড়লেই হবে না—ন্যায্য দাম এবং নিশ্চিত বাজার পাওয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ। উৎপাদনের সময় অতিরিক্ত হলে দাম পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বাজার বুঝে চাষের পরিকল্পনা করা জরুরি।

শরতের মরশুমে নতুন সম্ভাবনা

শরৎ এলেই বাংলায় ফুলের বাজার জমে ওঠে। দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে ফুলের চাহিদা বাড়লেও মোরগফুল নিজের আলাদা বাজার তৈরি করার চেষ্টা করছে। পুজোর অপরিহার্য ফুল না হয়েও যদি বছরের বিভিন্ন সময়ে বিক্রি করা যায়, তাহলে চাষিদের কাছে এটি একটি বিকল্প আয়ের পথ হয়ে উঠতে পারে।

পুজোয় লাগে না, গন্ধও নেই—তবুও রঙ আর সৌন্দর্যের জোরে বাজারে নিজের জায়গা তৈরি করছে মোরগফুল। চাহিদা যদি একইভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে আগামী দিনে এই ফুলচাষ আরও বেশি চাষিকে আকৃষ্ট করতে পারে।