লোগোতে টাচ করুন

যোগাযোগ :- 8016367537/8648868278


Email ID: zillarbartaoffical@gmail.com


Registration No: WB-18-0064025

বিজ্ঞাপনের জন্য

যোগাযোগ :- 7478809472


সুইসাইড নোটে নাম, চার বছর পর গ্রেপ্তার অভিষেক ঘনিষ্ঠ শিক্ষক নেতা মইদুল ইসলাম

  • ফ্যাক্ট ফাইল | Jun 16, 2026

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক - দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূলের শিক্ষক নেতা মইদুল ইসলামের গ্রেপ্তারিকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২ সালের একটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলার তদন্তে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। পাশাপাশি, তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি-সহ একাধিক অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তদন্তকারী সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রের খবর, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই রাজনৈতিক মহলে পরিচিত ছিলেন মইদুল ইসলাম। শিক্ষক সংগঠনের পাশাপাশি তৃণমূলের বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক পরিসরে তাঁর প্রভাব ছিল বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

 

 

 

 

তবে রাজনৈতিক উত্থানের পাশাপাশি একাধিক বিতর্কও ঘিরে ধরেছিল তাঁকে। পুলিশ সূত্রে দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অতীতেও তদন্ত শুরু হয়েছিল। এমনকি তদন্তের স্বার্থে একসময় তাঁর বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয় বলে সূত্রের খবর। গোটা বিষয়টি নিয়ে তদন্তকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই নজরদারি চালাচ্ছিলেন বলে দাবি।

 

পুলিশ জানিয়েছে, ২০২২ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বোলসিদ্ধি কালীনগর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান দেবব্রত ভট্টাচার্যের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের হয়েছিল। ঘটনার পর উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে মইদুল ইসলামের নাম উল্লেখ ছিল বলে তদন্তকারী সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এরপর থেকেই মামলাটি তদন্তাধীন ছিল।

 

সম্প্রতি নতুন করে তদন্তে গতি আসে। তদন্তকারীরা একাধিক নথি, সাক্ষ্য ও তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ শুরু করেন। সেই সূত্র ধরেই সোমবার বাইকে করে অন্যত্র যাওয়ার সময় হটুগঞ্জ এলাকা থেকে মইদুল ইসলামকে আটক করা হয় বলে জানা গিয়েছে। পরে তাঁকে ডায়মন্ড হারবার থানায় নিয়ে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে এই কারণে যে, গত কয়েকদিনেও একাধিকবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল মইদুল ইসলামকে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিজিও কমপ্লেক্সে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাজিরার দিনও তিনি তাঁর সঙ্গে ছিলেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। এছাড়াও কালীঘাটে অভিষেকের বাসভবনেও তাঁকে দেখা গিয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

 

যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মইদুল ইসলাম। গ্রেপ্তারের পর তিনি দাবি করেন, তাঁকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “আমাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু আমি তা করতে চাইনি। সেই কারণেই রাজনৈতিক চক্রান্ত করে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন করেছি। এখন পরিকল্পিতভাবে আমাকে টার্গেট করা হচ্ছে। যেভাবে একের পর এক তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে, আমাকেও সেইভাবে ফাঁসানো হয়েছে।

 

অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে এই ঘটনায় তীব্র আক্রমণ শানানো হয়েছে। ডায়মন্ড হারবার বিজেপি সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক অতনু সাঁতরা দাবি করেন, শিক্ষক সংগঠনের আড়ালে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, “২০২২ সালের আত্মহত্যার মামলার তদন্ত এতদিন চাপা ছিল। এখন তদন্ত এগোতেই পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। আইনের উপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

 

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডায়মন্ড হারবার-সহ গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। একদিকে তৃণমূলের একাংশ এই গ্রেপ্তারিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করছে, অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে—আইন তার নিজস্ব গতিতেই কাজ করছে। এখন আদালত ও তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।