কলকাতা কর্পোরেশনে স্বচ্ছতা কর্মসূচি, অভিযানে হাজির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
- ফ্যাক্ট ফাইল | Jun 15, 2026
নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক - রাজ্যের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নাগরিক পরিষেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কলকাতা কর্পোরেশনে অনুষ্ঠিত হলো বিশেষ স্বচ্ছতা কর্মসূচি। এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে কর্পোরেশন চত্বরে সকাল থেকেই ছিল কড়া নিরাপত্তা এবং উৎসাহী মানুষের ভিড়।
সূত্রের খবর, শহরের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা, নাগরিক পরিষেবা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা সংক্রান্ত একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখতেই এই বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কলকাতা কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগীয় আধিকারিকদের সঙ্গেও আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়গুলিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী কর্পোরেশন ভবনে পৌঁছতেই তাঁকে স্বাগত জানান কর্পোরেশনের বর্ষীয়ান নেতা দেবাশীষ কুমার এবং কাজলী ব্যানার্জি। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে শুভেচ্ছা জানান এবং কর্মসূচির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানের সেই মুহূর্ত ঘিরে উপস্থিতদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায়।
অন্যদিকে, অনুষ্ঠানে উপস্থিত জুঁই বিশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে প্রণাম জানান। সেই দৃশ্যও উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিশেষভাবে নজর কাড়ে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ধরনের সৌজন্য ও পারস্পরিক শুভেচ্ছা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
এই স্বচ্ছতা কর্মসূচির মাধ্যমে মূলত নাগরিক পরিষেবা আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রাস্তা পরিষ্কার, পানীয় জল, নিকাশি ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ নিষ্পত্তি— এই সমস্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়েছে, নাগরিকদের আরও উন্নত পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি এবং কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন বিভাগের কাজকর্ম খতিয়ে দেখেন এবং কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে জানা গিয়েছে।
এদিনের কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধীদের একাংশের দাবি, প্রশাসনিক কর্মসূচির পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট হয়েছে এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। যদিও শাসকদলের তরফে জানানো হয়েছে, এটি সম্পূর্ণভাবে জনস্বার্থ ও প্রশাসনিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে আয়োজিত কর্মসূচি।
সব মিলিয়ে কলকাতা কর্পোরেশনের এই স্বচ্ছতা কর্মসূচি ঘিরে দিনভর সরগরম ছিল প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহল। আগামী দিনে এই কর্মসূচির প্রভাব নাগরিক পরিষেবার ক্ষেত্রে কতটা পড়ে, সেদিকেই এখন নজর সাধারণ মানুষের।
