লোগোতে টাচ করুন

যোগাযোগ :- 8016367537/8648868278


Email ID: zillarbartaoffical@gmail.com


Registration No: WB-18-0064025

বিজ্ঞাপনের জন্য

যোগাযোগ :- 7478809472


তৃণমূল প্রধানের বাড়িতে সরকারি ত্রাণ, পুলিশের পোশাক উদ্ধারের অভিযোগ”

  • পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন | Jun 07, 2026

নিজস্ব প্রতিনিধি ,জেলার বার্তা ডেস্ক - দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্র এলাকায় ফের সামনে এল তথাকথিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ নিয়ে বিতর্ক। এবার সরিষা অঞ্চলের এক তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী, ওষুধ, তিরপল, শিশু খাদ্য, কম্বল ও বিভিন্ন পোশাক উদ্ধারের অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে জেলা জুড়ে।

 

অভিযোগ উঠেছে সরিষার কামারপোল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। স্থানীয় মহলে তিনি ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক তথা মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক শামীম আহমেদের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার গভীর রাতে কয়েকজন গ্রামবাসী প্রধানের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ সামগ্রী মজুত থাকার খবর পেয়ে সেখানে যান। অভিযোগ, বাড়ির একাধিক ঘর থেকে উদ্ধার হয় হাজার হাজার সরকারি তিরপল, শিশু খাদ্য, কম্বল, বিভিন্ন পোশাক এবং বিপুল পরিমাণ ওষুধ। স্থানীয়দের দাবি, উদ্ধার হওয়া ওষুধের মধ্যে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্পের লোগোযুক্ত ওষুধও ছিল।

 

ঘটনার আরও বিস্ফোরক দিক সামনে আসে যখন ওই বাড়ি থেকে পুলিশের পোশাক এবং বন্দুকের গুলির খোল বা বাক্স উদ্ধারের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি ত্রাণ দীর্ঘদিন ধরে আত্মসাৎ করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের পোশাক ও গুলির খোল উদ্ধারের ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

 

ঘটনার খবর পেয়ে ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ ও পারুলিয়া কোস্টাল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর উৎস, সেগুলি কীভাবে প্রধানের বাড়িতে এল এবং পুলিশের পোশাক ও গুলির খোল সেখানে কীভাবে পৌঁছল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

স্থানীয়দের দাবি, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই অভিযুক্ত প্রধান মইদুল ইসলাম এলাকা ছাড়া রয়েছেন। ফলে তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় গ্রামবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাঁদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণ সামগ্রী কোনও প্রভাবশালীর বাড়িতে মজুত থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

 

এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। ডায়মন্ড হারবার বিজেপির ২ নম্বর মণ্ডল সভাপতি উত্তম বাগ বলেন,“তৃণমূল নেতারা সাধারণ মানুষের প্রাপ্য জিনিস আত্মসাৎ করেছে। সরকার মানুষের জন্য যে ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছিল, তা নিজেদের বাড়িতে মজুত রাখা হয়েছে। প্রধানের বাড়ি থেকে পুলিশের পোশাক পাওয়া গিয়েছে। আমাদের সন্দেহ, ওই পোশাক ব্যবহার করে এলাকায় ভয় দেখানো এবং তোলাবাজির মতো কাজ করা হত। বন্দুকের গুলির বাক্স উদ্ধার হওয়াও অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।”

নিজস্ব চিত্র

 

তিনি আরও বলেন,“শিশু খাদ্য, ওষুধ, হাজার হাজার তিরপল ও পোশাক সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতি চরমে পৌঁছেছে। গ্রামবাসীদের উদ্যোগেই বিষয়টি সামনে এসেছে। আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

 

যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক মহলের মতে, তদন্তে কী উঠে আসে এবং প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, তার উপরই নির্ভর করবে আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়।