খবরের জন্য

যোগাযোগ :- 8016367537/8648868278


Email ID: zillarbartaoffical@gmail.com


Registration No: WB-18-0064025

বিজ্ঞাপনের জন্য

যোগাযোগ :- 7478809472


শর্ট সার্কিটের আশঙ্কা, মুহূর্তে গ্রাস আগুনের—১৬ বিঘা বস্তি ধ্বংসস্তূপে পরিণত

  • ফ্যাক্ট ফাইল | Apr 30, 2026

নিজস্ব প্রতিনিধি,জেলার বার্তা ডেস্ক :-দক্ষিণ ২৪ পরগনার আক্রা সন্তোষপুর এলাকার ১৬ বিঘা বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হল। এই আগুনে মুহূর্তের মধ্যে ভস্মীভূত হয়ে যায় প্রায় ৪০টি ঝুপড়ি। ঘনবসতিপূর্ণ এই বস্তিতে দাহ্য বস্তু বেশি থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে বস্তির একাংশে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসেন বাসিন্দারা। বহু মানুষ কোনোমতে প্রাণে বাঁচলেও তাঁদের সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ।অগ্নিকাণ্ডের জেরে বড়সড় প্রভাব পড়েছে রেল পরিষেবায়। বস্তির পাশ দিয়েই গিয়েছে বজবজ-শিয়ালদহ শাখার রেললাইন। আগুন ছড়িয়ে পড়ে রেললাইনের দিকেও এবং পুড়ে যায় ওভারহেড বিদ্যুতের তার। এর ফলে নিরাপত্তার কারণে অবিলম্বে ওই শাখায় ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে নিত্যযাত্রীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। অফিস টাইমে হঠাৎ ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু যাত্রী আটকে পড়েন বিভিন্ন স্টেশনে।

                                     নিজস্ব চিত্র
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের তিনটি ইঞ্জিন। পরে আরও ইঞ্জিন পাঠানো হয় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে। দমকল কর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এলেও সম্পূর্ণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত। বস্তির ভিতরে অসংখ্য বৈদ্যুতিক সংযোগ ও অপরিকল্পিত তারের জট থাকার কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে অনুমান দমকলের।এই ঘটনায় রেল কর্তৃপক্ষও তৎপর হয়েছে। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক (সিপিআরও) শিবরাম মাজি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখছে এবং দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে কিনা, তা নিয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সাহায্য না পেলে বিপাকে পড়বেন বহু পরিবার।ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আতঙ্কে রয়েছেন আশপাশের বাসিন্দারাও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও ক্ষতির পরিমাণ যে ব্যাপক, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, কবে নাগাদ স্বাভাবিক হয় রেল পরিষেবা এবং কিভাবে ঘুরে দাঁড়ান ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন।