খবরের জন্য

যোগাযোগ :- 8016367537/8648868278


Email ID: zillarbartaoffical@gmail.com


Registration No: WB-18-0064025

বিজ্ঞাপনের জন্য

যোগাযোগ :- 7478809472


গোপন বৈঠক ফাঁস! ডায়মন্ড হারবারে ভোটের আগে বড় বিস্ফোরণ

  • ফ্যাক্ট ফাইল | Apr 21, 2026

নিজস্ব প্রতিনিধি,জেলার বার্তা ডেস্ক :-ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বাঁধল। পুলিশ অবজারভারের সঙ্গে বিজেপি প্রার্থীর কথিত গোপন বৈঠককে কেন্দ্র করে সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস। এই ঘটনাকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।
মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিক সম্মেলন করে ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পান্নালাল হালদার একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, কয়েকদিন আগে ডায়মন্ড হারবারের একটি সরকারি অতিথিশালায় পুলিশ অবজারভারের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করেছেন বিজেপি প্রার্থীর। এই বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল তৃণমূল কংগ্রেসকে চাপে ফেলা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করা।পান্নালাল হালদার বলেন, “আমাদের দলকে বিপদে ফেলার জন্যই এই ধরনের গোপন বৈঠক করা হয়েছে। আমরা এই বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাব। শুধু তাই নয়, আমাদের কাছে উপযুক্ত প্রমাণও রয়েছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন এজেন্সিকে ব্যবহার করে তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে এবং তাদেরকে অযথা হয়রানি করা হচ্ছে।তৃণমূল প্রার্থীর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন বর্তমানে নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না। তিনি বলেন, “আমরা যে অভিযোগ করছি, সেগুলোর কোনো সঠিক তদন্ত হচ্ছে না। অথচ বিজেপি যে অভিযোগ করছে, সেগুলিকে দ্রুত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতিত্ব করছে।”ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকা নিয়েও বড় অভিযোগ তোলেন পান্নালাল হালদার। তাঁর দাবি, এসআইআর এর নামে প্রায় ১২ হাজার জীবিত ভোটারকে মৃত বলে দেখানো হয়েছে এবং বহু মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই ঘটনাকে তিনি গণতন্ত্রের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, “এইভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হলে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ হয়, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী আরও বলেন, “পুলিশ অবজারভাররা আমাদের জব্দে ফেলতে চাইছে। বিজেপিকে জেতানোর জন্যই এই ধরনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা ভয় পাই না। আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি এবং মানুষের সমর্থন আমাদের সঙ্গে রয়েছে।”

                                     নিজস্ব চিত্র
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, তৃণমূল কংগ্রেস কোনো অন্যায় না করলে তাদের পথ কেউ আটকাতে পারবে না। “মানুষ আমাদের পাশে আছে। আমরা নির্ভয়ে ভোটের ময়দানে থাকব এবং মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই চালিয়ে যাব,”—বলেন পান্নালাল।কেন্দ্র সরকারকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র সরকার নির্বাচন কমিশনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে এবং বিরোধী দলকে চাপে ফেলার চেষ্টা করছে। তবে এই সমস্ত চেষ্টার কোনো ফল হবে না বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, “যতই আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হোক, শেষ পর্যন্ত মানুষই সিদ্ধান্ত নেবে। মানুষ যদি ভোট দেয়, তাহলে ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে।”তিনি আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “চতুর্থ বারের জন্য রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসবে। মানুষের আস্থা আমাদের ওপর রয়েছে, এবং সেই আস্থার জোরেই আমরা এগিয়ে চলেছি।”অন্যদিকে, এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী গৌড় ঘোষ। তিনি বলেন, “এই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। রাজনৈতিক স্বার্থে তৃণমূল কংগ্রেস এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করছে।” তাঁর দাবি, তিনি কোনো গোপন বৈঠক করেননি এবং নির্বাচন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবেই হচ্ছে।বিজেপি প্রার্থীর এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে। দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবি-দাওয়ার মাঝে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন চলাকালীন এই ধরনের অভিযোগ নতুন নয়, তবে প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হল একটি স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন।ডায়মন্ড হারবারে এই বিতর্ক এখন ভোটের আগের অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয় এবং এই অভিযোগগুলির তদন্ত কীভাবে হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে রাজনৈতিক লড়াই যে ক্রমশ তীব্রতর হচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।সব মিলিয়ে, গোপন বৈঠকের অভিযোগ ঘিরে ডায়মন্ড হারবারে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। একদিকে তৃণমূলের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ, অন্যদিকে বিজেপির তা অস্বীকার—এই দ্বন্দ্বের মাঝেই এগোচ্ছে ভোটের লড়াই। এখন শেষ কথা বলবে সাধারণ মানুষই।