ভাঙড়ে বাঁশবাগানে বোমা উদ্ধার, আতঙ্কে গ্রাম
- ফ্যাক্ট ফাইল | Apr 09, 2026
নিজস্ব প্রতিনিধি,জেলার বার্তা ডেস্ক :-দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের হাতিশালা দক্ষিণপাড়া এলাকায় একটি বাঁশবাগান থেকে একাধিক বোমা উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাকে ঘিরে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার সকালে এই ঘটনা সামনে আসতেই এলাকায় উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পোলেরহাট থানার পুলিশ এবং গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি অভিযান শুরু করে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালে কয়েকজন বাসিন্দা বাঁশবাগানের ভিতরে সন্দেহজনক কিছু বস্তু দেখতে পান। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল থাকলেও পরে আতঙ্ক ছড়ায়, কারণ বস্তুগুলির আকার ও অবস্থান দেখে বোমা বলে সন্দেহ হয়। সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পোলেরহাট থানার পুলিশ এসে বোমাগুলি উদ্ধার করে এবং সেগুলি নিষ্ক্রিয় করার জন্য বিশেষজ্ঞ দলকে খবর দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।পুলিশ সূত্রে প্রাথমিকভাবে অনুমান, উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলি তাজা বোমা হতে পারে। তবে সেগুলি ঠিক কতটা শক্তিশালী, কতদিন ধরে সেখানে রাখা হয়েছিল এবং কী উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালানো হচ্ছে, যাতে আরও কোনও বিস্ফোরক মজুত রয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়।

নিজস্ব চিত্র
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। আইএসএফের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরাই এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে এই বোমাগুলি মজুত করে রেখেছিল। আইএসএফ নেতৃত্বের দাবি, ভোটের আবহে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্যেই এই ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছে, আইএসএফ কর্মীরাই পরিকল্পিতভাবে এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে এই বোমা মজুত করেছে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিরোধী দলগুলি এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা করছে এবং এই ঘটনা তারই অংশ।এই রাজনৈতিক তরজার জেরে এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতিমধ্যেই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ টহলদারি বাড়িয়েছে এবং স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে। কে বা কারা এই বোমাগুলি সেখানে রেখেছে, তার পিছনে কী উদ্দেশ্য ছিল—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হবে বলেও জানা গিয়েছে।এদিকে, এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কীভাবে জনবসতিপূর্ণ এলাকার এত কাছে বিস্ফোরক মজুত রাখা সম্ভব হল এবং প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এতদিন তা পড়ে রইল কীভাবে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।সবমিলিয়ে, ভাঙড়ের হাতিশালা দক্ষিণপাড়া এলাকার এই বোমা উদ্ধারের ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা উস্কে দিয়েছে। এখন দেখার, পুলিশের তদন্তে আসল সত্য কত দ্রুত সামনে আসে এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
