খবরের জন্য

যোগাযোগ :- 8016367537/8648868278


Email ID: zillarbartaoffical@gmail.com


Registration No: WB-18-0064025

বিজ্ঞাপনের জন্য

যোগাযোগ :- 7478809472


বিধানসভা নির্বাচনে পঞ্চাশের নিচে আসন পাবে বিজেপি

  • ফ্যাক্ট ফাইল | Apr 06, 2026

নিজস্ব প্রতিনিধি,জেলার বার্তা ডেস্ক :-বিধানসভা নির্বাচনে পঞ্চাশের নিচে আসন পাবে বিজেপি এমনটাই বললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে রাজ্যজুড়ে। তারই প্রভাব পড়েছে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গোঁসাবা বিধানসভা কেন্দ্রেও। রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে, আর সেই আবহেই গোঁসাবা বিধানসভার অন্তর্গত কাছারী বাজারে আয়োজিত এক জনসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শন নজর কাড়ল। এই জনসভায় উপস্থিত হয়ে দলীয় প্রার্থী সুব্রত মণ্ডলের সমর্থনে প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়লেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি ।সভা মঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানান, গোঁসাবা বিধানসভা কেন্দ্রের উন্নয়নই তাঁদের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস সবসময় মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছে এবং আগামী দিনেও সেই ধারা বজায় থাকবে। একই সঙ্গে তিনি দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার বার্তা দেন এবং সুব্রত মণ্ডলকে জয়ী করার আহ্বান জানান।এদিনের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত মণ্ডলও নিজের আত্মবিশ্বাসের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই মানুষের সমর্থন আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসছে। গোঁসাবা বিধানসভায় আমার যথেষ্ট সমর্থন রয়েছে। মানুষের ভালোবাসা ও আশীর্বাদই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি গোঁসাবাকে বুক দিয়ে আগলে রাখব—এটাই আমার অঙ্গীকার।” তাঁর এই মন্তব্যে বোঝা যায়, তিনি শুধুমাত্র নির্বাচনী লড়াই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে চান।গোঁসাবা বিধানসভা কেন্দ্রের ভৌগোলিক অবস্থান একদিকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই চ্যালেঞ্জপূর্ণ। গোঁসাবা ও বাসন্তী—এই দুই ব্লক মিলিয়েই গড়ে উঠেছে এই কেন্দ্র। নদীঘেরা সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকায় অবস্থিত এই অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও অনেকটাই সীমিত। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়ের মতো সমস্যার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয় এখানকার মানুষকে। ফলে উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের চাহিদা অন্য অনেক জায়গার তুলনায় আলাদা এবং বেশি।

                                     নিজস্ব চিত্র

এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এদিনের সভা থেকে একাধিক উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নের ওপর জোর দেন সুব্রত মণ্ডল। তিনি বলেন, “গোঁসাবা গ্রামীণ হাসপাতাল এই এলাকার মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই হাসপাতালের ভবন সংস্কারের পাশাপাশি জরুরি বিভাগের পরিকাঠামো উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। আমরা সেই দিকেই গুরুত্ব দিচ্ছি, যাতে সাধারণ মানুষ দ্রুত এবং উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পেতে পারেন।”তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য পরিষেবার পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও জোর দেওয়া হবে। নদীপথের ওপর নির্ভরশীল এই অঞ্চলে সড়ক ও নৌ যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন, নতুন স্কুল-কলেজ গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।অন্যদিকে, সভা থেকে অভিষেক ব্যানার্জি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে কাজ করতে হবে। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারের আমলে রাজ্যের সর্বত্র উন্নয়নের কাজ হয়েছে এবং সেই উন্নয়নের ধারা গোঁসাবাতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, “মানুষের আস্থা আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই আস্থাকে সম্মান জানিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”রাজনৈতিক মহলের মতে, গোঁসাবা বিধানসভা কেন্দ্র বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সুন্দরবনের এই অঞ্চলটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হওয়ার পাশাপাশি উন্নয়নের নিরিখেও বিশেষ নজরে থাকে। ফলে এই কেন্দ্রের ফলাফল অনেকাংশেই বৃহত্তর রাজনৈতিক চিত্রকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই সব রাজনৈতিক দলের নজর এখন এই কেন্দ্রের দিকে।সব মিলিয়ে, কাছারী বাজারে আয়োজিত এই জনসভা তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারে নতুন গতি যোগ করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। একদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি, অন্যদিকে প্রার্থী সুব্রত মণ্ডলের আত্মবিশ্বাসী বার্তা—এই দুই মিলিয়ে গোঁসাবা কেন্দ্রের নির্বাচনী লড়াই যে আরও জমে উঠবে, তা স্পষ্ট।এখন দেখার, এই প্রচার এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি কতটা প্রভাব ফেলতে পারে সাধারণ মানুষের ওপর। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসবে, ততই স্পষ্ট হবে গোঁসাবার মানুষের রায়। শেষ পর্যন্ত কে এই কেন্দ্রের মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।