নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক- কলকাতার ধর্মতলায় প্রতিবাদের নামে অশান্তি, ভাঙচুর এবং সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় তদন্তে গতি আনতে অভিযুক্তদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণ (ক্রাইম সিন রিকনস্ট্রাকশন) করল কলকাতা পুলিশ। এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া ১৪ জনের মধ্যে পাঁচজনকে নিয়ে সোমবার ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিং এলাকায় গোটা ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়।
তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের ঘটনাস্থলের বিভিন্ন অংশে নিয়ে গিয়ে সেদিনের ঘটনাক্রম পুনরায় দেখান। অভিযুক্তদের খালি পায়ে হাঁটিয়ে ঘটনার বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রত্যেকের ভূমিকা এবং ঘটনার ধারাবাহিকতা যাচাই করতেই এই পুনর্নির্মাণের আয়োজন করা হয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম মূল অভিযুক্ত আফরোজ এবং তৌহিদি জনতা সংগঠনের নেতা-সহ আরও কয়েকজনকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। পুনর্নির্মাণ চলাকালীন সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে কয়েকজন অভিযুক্তকে মুখ লুকোতে এবং কেউ কেউ হাসতে দেখা যায়।
এদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন প্রশ্নও সামনে এসেছে। আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য অভিযুক্তদের টাকা দেওয়া হয়েছিল কি না, বা তারা কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠয়ের ছাত্র—এসব বিষয় নিয়ে জল্পনা তৈরি হলেও, এমন দাবির পক্ষে এখনও তদন্তকারী সংস্থার তরফে কোনও সরকারি তথ্য বা প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
ধর্মতলার ঘটনায় সাংবাদিকদের মারধর, পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা এবং জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পুনর্নির্মাণ থেকে পাওয়া তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল প্রমাণ এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ মিলিয়ে পরবর্তী তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
ঘটনার জেরে রাজনৈতিক তরজাও অব্যাহত রয়েছে। একদিকে বিরোধীরা এই ঘটনায় কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছে, অন্যদিকে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশ এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।