Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
জনসংযোগ দিবসে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনলেন ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পান্ডা, সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ   •   সোনাখালীতে বিজেপির বুদ্ধিজীবী সম্মেলন, সাংগঠনিক উদ্যোগে নজর কাড়লেন প্রদীপ সরদার   •   একের পর এক গ্রেপ্তার, উঠছে পুরনো অভিযোগ—সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কবে মিলবে প্রকৃত বিচার?   •   ফলতা SEZ-কে কেন্দ্র করে দক্ষিণবঙ্গের শিল্পায়নের নতুন পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের স্বপ্ন তুলে ধরলেন ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পান্ডা   •   আবাস যোজনার বাড়ির টাকা পেতে ২০ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ! প্রতিবাদ করায় রাজমিস্ত্রিকে মারধর, কুয়োয় ফেলে খুনের হুমকি, বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ   •   সৌন্দর্য ও গ্ল্যামারের মেলবন্ধনে নজর কাড়লেন আয়েশা খান, তাঁর আকর্ষণীয় উপস্থিতিতে মুগ্ধ অনুরাগীরা

স্বাস্থ্যসচেতনদের পছন্দের তালিকায় গ্রিন টি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের গুণে বাড়ছে জনপ্রিয়তা

05 Nov 2026
07:55 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: বর্তমান সময়ে সুস্থ জীবনযাপন এবং স্বাস্থ্যসচেতনতার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে গ্রিন টি। ওজন নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখার লক্ষ্যে অনেকেই প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে এই পানীয়কে জায়গা দিচ্ছেন। সাধারণ চায়ের তুলনায় গ্রিন টি-তে ক্যালোরির পরিমাণ খুবই কম, বিশেষ করে চিনি বা দুধ ছাড়া পান করলে। পাশাপাশি এতে রয়েছে ক্যাটেচিন নামক এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে।

গ্রিন টি-তে কেন এত গুরুত্ব ক্যাটেচিনের?

গ্রিন টি তৈরি হয় চা গাছের পাতা থেকে। তবে সাধারণ কালো চায়ের তুলনায় এর প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি আলাদা। গ্রিন টি তৈরির সময় পাতার জারণ প্রক্রিয়া অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এর ফলে পাতায় থাকা বেশ কিছু প্রাকৃতিক উপাদান, বিশেষ করে ক্যাটেচিন, তুলনামূলকভাবে বেশি পরিমাণে বজায় থাকতে পারে।

ক্যাটেচিন হলো উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে পাওয়া এক ধরনের পলিফেনল, যার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে। শরীরে স্বাভাবিক বিপাকীয় প্রক্রিয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন পরিবেশগত কারণে ফ্রি র‍্যাডিক্যাল তৈরি হয়। অতিরিক্ত ফ্রি র‍্যাডিক্যাল কোষের ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এই ক্ষতিকর প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

কখন পান করবেন গ্রিন টি?

গ্রিন টি পান করার সময় নিয়েও রয়েছে নানা পরামর্শ। অনেকের মতে, সকালের নাস্তার প্রায় এক ঘণ্টা পর গ্রিন টি পান করা যেতে পারে। পাশাপাশি দুপুর ও রাতের খাবারের মধ্যবর্তী সময়েও এটি পান করা যায়। এতে খাবারের সঙ্গে সঙ্গে চা পান করার প্রয়োজন পড়ে না।

তবে গ্রিন টি পান করার কোনও নির্দিষ্ট সময় সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। যাঁদের শরীরে ক্যাফেইনের প্রভাব বেশি পড়ে, তাঁদের খালি পেটে গ্রিন টি পান করলে অস্বস্তি, বমিভাব বা অম্বলের সমস্যা হতে পারে। তাই নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে সময় নির্ধারণ করাই ভালো।

ওজন নিয়ন্ত্রণে কতটা সহায়ক?

গ্রিন টি-কে অনেক সময় ওজন কমানোর পানীয় হিসেবে প্রচার করা হয়। এতে থাকা ক্যাটেচিন এবং অল্প পরিমাণ ক্যাফেইন শরীরের শক্তি ব্যবহারের প্রক্রিয়ায় সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু গবেষণায় বিপাকীয় কার্যকলাপ ও চর্বি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সীমিত উপকারের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, শুধু গ্রিন টি পান করে উল্লেখযোগ্য ওজন কমানো সম্ভব—এমন দাবি করা ঠিক নয়।

ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত হাঁটাচলা বা শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অভ্যাস অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। চিনি ছাড়া গ্রিন টি উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত কোমল পানীয় বা মিষ্টি চায়ের বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করলে সামগ্রিক ক্যালোরি গ্রহণ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

হৃদ্‌স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক সুস্থতা

গ্রিন টি নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় হৃদ্‌স্বাস্থ্যের সঙ্গে এর সম্ভাব্য সম্পর্ক খতিয়ে দেখা হয়েছে। কিছু পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় নিয়মিত গ্রিন টি পানকারীদের মধ্যে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকির কিছু সূচকে ইতিবাচক সম্পর্ক দেখা গেলেও, এর মাধ্যমে সরাসরি রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসা সম্ভব—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।

তাই গ্রিন টি-কে কোনও ওষুধ বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হিসেবে এটি গ্রহণ করা যেতে পারে।

অতিরিক্ত গ্রিন টি পানেও থাকতে পারে সমস্যা

গ্রিন টি উপকারী উপাদানে সমৃদ্ধ হলেও অতিরিক্ত পান করা ঠিক নয়। এতে ক্যাফেইন থাকে, যা বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে অনিদ্রা, অস্থিরতা, বুক ধড়ফড় বা মাথাব্যথার মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে। যাঁরা ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীল, তাঁদের বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

এ ছাড়া চা খাবারের সঙ্গে বা খাবারের ঠিক পরপর পান করলে এতে থাকা ট্যানিন উদ্ভিজ্জ উৎসের আয়রন শোষণে বাধা দিতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের আয়রনের ঘাটতি রয়েছে, তাঁদের খাবারের কাছাকাছি সময়ে গ্রিন টি পান না করাই ভালো। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

কীভাবে তৈরি করবেন স্বাস্থ্যকর গ্রিন টি?

গ্রিন টি তৈরির জন্য খুব বেশি গরম জল ব্যবহার না করাই ভালো। সাধারণত গরম জলে চা পাতা বা টি-ব্যাগ কয়েক মিনিট ভিজিয়ে রাখলেই পানীয় তৈরি হয়ে যায়। অতিরিক্ত সময় ভিজিয়ে রাখলে স্বাদ তেতো হয়ে যেতে পারে। স্বাদ বাড়াতে চাইলে সামান্য লেবু ব্যবহার করা যায়। তবে অতিরিক্ত চিনি বা মধু মেশালে পানীয়টির ক্যালোরি বেড়ে যায়।

সব মিলিয়ে, গ্রিন টি একটি কম ক্যালোরিযুক্ত পানীয়, যাতে রয়েছে ক্যাটেচিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। সকালের নাস্তার কিছুক্ষণ পর কিংবা দুই বেলার খাবারের মাঝামাঝি সময়ে এটি পান করা যেতে পারে। তবে এর সুফল পেতে প্রয়োজন পরিমিতি, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। গ্রিন টি একা শরীরের সব সমস্যার সমাধান নয়, কিন্তু সুষম দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ হিসেবে এটি হতে পারে একটি ভালো পানীয়ের বিকল্প।