নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: বিজয়া দশমীর পবিত্র তিথিতে উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জলপাইগুড়িতে পালিত হলো ঐতিহ্যবাহী অস্ত্রপুজো। সনাতন ধর্মীয় সংস্কৃতি ও দীর্ঘদিনের প্রথাকে সামনে রেখে দেবী দুর্গার চরণে অস্ত্র অর্পণ করে বিশেষ পূজার্চনার আয়োজন করল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দল। দশমীর সকালে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংগঠনের সদস্য ও সমর্থকদের মধ্যে দেখা যায় উৎসাহ ও তৎপরতা।
হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, বিজয়া দশমী শুধু দেবী দুর্গার বিসর্জন বা পুজোর সমাপ্তির দিন নয়, শক্তি, সাহস ও ন্যায়ের আদর্শকে স্মরণ করারও একটি বিশেষ তিথি। সেই ধর্মীয় বিশ্বাসকে সামনে রেখেই বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রপুজোর আয়োজন করা হয়। জলপাইগুড়িতেও সেই ঐতিহ্য বজায় রেখে বিশেষ পূজার্চনার মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলের স্থানীয় সদস্যরা।
সনাতন ধর্মীয় সংস্কৃতিতে অস্ত্রপুজোর একটি বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই শক্তির আরাধনা, আত্মরক্ষা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে অস্ত্রকে সম্মান জানানোর প্রথা বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচলিত। বিশেষ করে বিজয়া দশমীর মতো পবিত্র তিথিতে অস্ত্রপুজোর মাধ্যমে শক্তি ও সাহসের আদর্শকে স্মরণ করা হয়।
উদ্যোক্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধরে রাখতেই এই আয়োজন করা হয়েছে। নির্দিষ্ট রীতি ও নিয়ম মেনে দেবী দুর্গার চরণে অস্ত্র অর্পণ করে পূজার্চনা সম্পন্ন করেন সংগঠনের সদস্য ও সমর্থকরা। তাঁদের কাছে এই কর্মসূচি শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং সনাতন সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরারও একটি উদ্যোগ।
বিজয়া দশমীর সকালে জলপাইগুড়ির বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রপুজোর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কৌতূহল ও তৎপরতা লক্ষ্য করা যায় বলে জানা গিয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলের স্থানীয় সদস্যরা এই আয়োজনে অংশ নেন। ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে পূজার্চনার মধ্য দিয়ে দেবীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
দুর্গাপুজোর শেষ পর্বে বিজয়া দশমী বাঙালির কাছে আবেগ ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত। একদিকে যেমন দেবী দুর্গার বিদায়ের মুহূর্তে বিষাদের আবহ তৈরি হয়, অন্যদিকে তেমনই বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুন উদ্দীপনাও দেখা যায়। অস্ত্রপুজো সেই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরম্পরারই একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।
এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে যথেষ্ট উৎসাহ দেখা যায়। উদ্যোক্তাদের মতে, ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্যকে সম্মান জানানোই এই অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্দেশ্য।
অস্ত্রপুজোর মাধ্যমে শক্তির আরাধনা এবং ন্যায়ের পথে এগিয়ে চলার বার্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, শক্তির সঠিক ব্যবহার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর মানসিকতা সমাজজীবনেও তাৎপর্যপূর্ণ। সেই ভাবনাকে সামনে রেখেই বিজয়া দশমীর পবিত্র দিনে এই পূজার আয়োজন করা হয়েছে বলে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জলপাইগুড়িতে অস্ত্রপুজোর এই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। ধর্মীয় নিষ্ঠা ও প্রথা মেনে পূজার্চনার মধ্য দিয়ে বিজয়া দশমীর দিনটি পালন করেন উপস্থিত সদস্য ও সমর্থকরা।
সব মিলিয়ে, বিজয়া দশমীতে জলপাইগুড়ির এই অস্ত্রপুজো সনাতন ধর্মীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চর্চাকে সামনে নিয়ে এল। দেবী দুর্গার আরাধনার পাশাপাশি অস্ত্রপুজোর এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে শক্তি, সাহস এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর বার্তা তুলে ধরলেন উদ্যোক্তারা।