নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মন্দিরবাজার ব্লকের মন্দিরবাজার থানার সন্নিকটে অবস্থিত বটতলা মোড়। এই মোড় দিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করেন অসংখ্য মানুষ। কিন্তু বটতলা থেকে সংগ্রামপুর স্টেশনগামী রাস্তার মুখে অটো ও টোটোর জটের কারণে নিত্যদিনের যানজটে কার্যত নাকাল হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার মুখ আটকে অটো ও টোটো দাঁড়িয়ে থাকার ফলে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ওই রাস্তা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করাও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বটতলা এলাকায় অটো ও টোটো দাঁড় করানোর জন্য একটি স্ট্যান্ড রয়েছে। সেখান থেকে শতাধিক অটো ও টোটো বটতলা থেকে সংগ্রামপুর স্টেশন, এমনকি চাকদা পর্যন্ত যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করে। প্রতিদিন বহু মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম এই অটো ও টোটো। কিন্তু অভিযোগ, যাত্রী তোলার জন্য রাস্তার মুখে একের পর এক যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখার ফলে তৈরি হচ্ছে যানজট। বিশেষ করে বটতলা মোড় থেকে সংগ্রামপুরের দিকে যাওয়ার রাস্তার প্রবেশমুখে যানবাহন জমে থাকায় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন পথচারী থেকে শুরু করে অন্যান্য যানবাহনের চালকরাও।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সকালের দিকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বটতলার পার্শ্ববর্তী এলাকায় কয়েকশো মিটারের মধ্যেই বসে বাজার। ফলে বাজারে আসা ক্রেতা, বিক্রেতা, পথচারী এবং বিভিন্ন রুটের যানবাহনের চাপ একসঙ্গে বাড়তে থাকে। তার উপর রাস্তার মুখে অটো ও টোটো দাঁড়িয়ে থাকায় যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
অভিযোগ, অনেক সময় রাস্তা দিয়ে বড় গাড়ি ঢুকতে গেলে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকতে হয়। একদিকে অটো ও টোটোর সারি, অন্যদিকে বাজারমুখী মানুষের ভিড়—সব মিলিয়ে বটতলা মোড়ে তৈরি হয় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। যানবাহন চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় ছোটখাটো দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
যানজটের জেরে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন অসুস্থ ব্যক্তি, প্রবীণ নাগরিক এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী মানুষজন। স্থানীয়দের বক্তব্য, কোনও মুমূর্ষু রোগীকে নিয়ে গাড়ি ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় যানজটে আটকে পড়লে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে। একইভাবে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের পক্ষে ভিড়ের মধ্যে দিয়ে রাস্তা পারাপার করাও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
শুধু গাড়িচালক নন, পায়ে হেঁটে যাতায়াতকারী মানুষদেরও সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। রাস্তার মুখে যানবাহন জমে থাকায় পথচারীদের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। এর ফলে যেকোনও সময় বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অটো ও টোটো পরিষেবা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই যানবাহন বন্ধ করে দেওয়া নয়, বরং সুষ্ঠু নিয়মের মধ্যে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করাই প্রয়োজন। নির্দিষ্ট জায়গায় অটো ও টোটো দাঁড় করানো, রাস্তার মুখ দখল করে যাত্রী ওঠানো-নামানো বন্ধ করা এবং যানবাহন চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নিশ্চিত করার দাবি উঠছে।
এলাকাবাসীর মতে, প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হলে এবং স্ট্যান্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম কার্যকর করা গেলে এই সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। বিশেষ করে সকালের ব্যস্ত সময়ে নজরদারি বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষকে প্রতিদিনের এই দুর্ভোগ থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি দেওয়া যেতে পারে।
বটতলা মোড়ের যানজট এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে নিত্যদিনের সমস্যায় পরিণত হয়েছে। যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মুখে যানবাহনের জট তৈরি হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন। বাজারের ভিড়, অটো-টোটোর চাপ এবং রাস্তার সীমিত জায়গা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, সাধারণ মানুষের এই সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। বটতলা মোড়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের একটাই দাবি—অটো ও টোটোর চলাচল বজায় রেখেই রাস্তা যানজটমুক্ত করা হোক, যাতে প্রতিদিনের যাতায়াতে আর ভোগান্তির শিকার হতে না হয় সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, বটতলার এই নিত্যদিনের যানজট থেকে কবে মিলবে মুক্তি?