গোসাবায় তৃণমূল নেতাদের ‘দাপাদাপি’,
- ফ্যাক্ট ফাইল | May 12, 2026
নিজস্ব প্রতিনিধি,জেলার বার্তা ডেস্ক :-গোসাবায় তৃণমূল নেতাদের ‘দাপাদাপি’, ঝাঁটা হাতে রাস্তায় মহিলারা; রণক্ষেত্র শম্ভুনগরগোসাবা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ফের উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা। এবার শম্ভুনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূল নেতাদের দাপাদাপি এবং অনুগামীদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে মারধর ও হুমকির অভিযোগ উঠল। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে ঝাঁটা ও লাঠি হাতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখালেন শম্ভুনগরের কয়েকশো গ্রামবাসী, যাদের মধ্যে সিংহভাগই মহিলা।

নিজস্ব চিত্র
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই তৃণমূলের স্থানীয় নেতা ও তাদের অনুগামীরা সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে। এমনকি একাধিক ক্ষেত্রে সাধারণ গ্রামবাসীদের মারধর ও বসতবাড়িতে চড়াও হওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। তৃণমূলের এই ‘দাপাদাপি’ চরমে পৌঁছানোয় ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে গ্রামবাসীদের।
মহিলাদের ঝাঁটা মিছিল ও বিক্ষোভ:
আজ সকালে শম্ভুনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মহিলারা একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের দাবি:
এলাকায় তৃণমূলের নাম করে যারা দুষ্কৃতীমূলক কাজ চালাচ্ছে, তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।
গ্রামে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মারধর ও শাসানি বন্ধ করতে হবে।
বিক্ষোভকারী এক মহিলার কথায়, "আমরা শান্তিতে থাকতে চাই। যারা রাতের অন্ধকারে ঘরে চড়াও হচ্ছে বা দিনের বেলা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, পুলিশ কেন তাদের ধরছে না? দোষীদের সাজা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলবে।"
এলাকায় চাঞ্চল্য ও পুলিশি তৎপরতা:
বিক্ষোভের জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তবে এই খবর লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করার খবর পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:
তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, এটি নিছকই একটি স্থানীয় গোলমাল, এর সঙ্গে দলের কোনো যোগ নেই। অন্যদিকে, বিরোধীদের অভিযোগ, পুলিশ প্রশাসন নিষ্ক্রিয় থাকার কারণেই শাসকদলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা সাধারণ মানুষের ওপর এই ধরনের সাহস দেখাচ্ছে।
বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, তবে শম্ভুনগর এলাকায় থমথমে ভাব বজায় আছে।
