খবরের জন্য

যোগাযোগ :- 8016367537/8648868278


Email ID: zillarbartaoffical@gmail.com


Registration No: WB-18-0064025

বিজ্ঞাপনের জন্য

যোগাযোগ :- 7478809472


“প্রচারে বাধা, প্রার্থীর ওপর হামলা

  • ফ্যাক্ট ফাইল | Apr 15, 2026

নিজস্ব প্রতিনিধি,জেলার বার্তা ডেস্ক :-ভোটের আবহে ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র। নির্বাচনী প্রচারকে ঘিরে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে সংঘাতের অভিযোগে বুধবার ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে ভাদুরা এলাকায়। বিজেপির অভিযোগ, তাদের প্রার্থী দেবাংশু পান্ডার ওপর হামলা চালানো হয়েছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দ্বারা। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার ফলতা বিধানসভার অন্তর্গত ভাদুরা এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে যান বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী তিনি দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচারে নামেন। অভিযোগ, সেই সময় হঠাৎই কয়েকজন তৃণমূল কর্মী-সমর্থক সেখানে উপস্থিত হয়ে বিজেপির প্রচারে বাধা দেয়। প্রথমে বচসা শুরু হয়, যা ক্রমে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাদের প্রার্থীর গায়ে হাত তোলা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফলতা থানার পুলিশ। পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়।ঘটনার পর বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “আমরা নির্বাচন কমিশনের সমস্ত নিয়ম মেনেই প্রচারে নেমেছিলাম। অনুমতি নিয়েই ভাদুরা এলাকায় গিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করেই আমাদের উপর হামলা চালানো হয়। এমনকি পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতেই এই ঘটনা ঘটে। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।” তিনি আরও জানান, এই ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং উপযুক্ত পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।

                                      নিজস্ব চিত্র
বিজেপির অভিযোগ, এই ধরনের হামলা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে খর্ব করছে এবং ভোটারদের মধ্যেও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে। তাদের দাবি, প্রশাসন যদি নিরপেক্ষভাবে কাজ না করে, তাহলে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়বে।অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই। তৃণমূল কখনও এই ধরনের নোংরা রাজনীতি করে না। বিজেপি নিজেরাই নাটক করে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছে।” তিনি আরও দাবি করেন, এলাকায় শান্তি বজায় রাখার জন্য তৃণমূল সবসময়ই দায়বদ্ধ এবং এই ধরনের ঘটনা দলের নীতির পরিপন্থী।রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ নতুন কিছু নয়। তবে প্রতিটি ঘটনাই ভোটের পরিবেশকে প্রভাবিত করে এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করে। বিশেষ করে যখন প্রার্থীর উপর হামলার অভিযোগ ওঠে, তখন তা আরও গুরুত্ব সহকারে দেখা প্রয়োজন।
এই ঘটনার পর এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও সূত্রের খবর।সব মিলিয়ে, ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে এই ঘটনার জেরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও একধাপ বেড়ে গেল। ভোটের আগে এই ধরনের সংঘাত কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেয় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।