খবরের জন্য

যোগাযোগ :- 8016367537/8648868278


Email ID: zillarbartaoffical@gmail.com


Registration No: WB-18-0064025

বিজ্ঞাপনের জন্য

যোগাযোগ :- 7478809472


একই আধার নম্বরে হারিয়ে গেছে দুই বোনের অধিকার

  • ফ্যাক্ট ফাইল | Feb 10, 2026

নিজস্ব প্রতিনিধি,জেলার বার্তা ডেস্ক :-পরিচয়ের নথিতে একটি মারাত্মক ভুল, আর সেই ভুলের বোঝা বইছে একটি পরিবার প্রায় দশ বছর ধরে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি ব্লকের দক্ষিণ রামকৃষ্ণপুর গ্রামের বিজলী পাড়ার বাসিন্দা রত্নাকর বিজলীর দুই মেয়ে—জয়শ্রী বিজলী ও বনশ্রী বিজলী—একই আধার নম্বরের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি পরিষেবা ও সুযোগ–সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বনশ্রী বিজলী এবং জয়শ্রী বিজলির মা সপ্না বিজলি বলেন, বহু বছর আগে আধার কার্ড তৈরির সময় প্রশাসনিক ত্রুটিতে দুই বোনের আধার নম্বর এক হয়ে যায়। সেই থেকে শুরু হয় দুর্ভোগের শেষ নেই এমন এক অধ্যায়। সরকারি নথিতে আলাদা পরিচয় স্বীকৃতি না থাকায় উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পরও কলেজে ভর্তি হতে পারেননি তাঁরা। তপশিলি জাতির শিক্ষাবৃত্তি, কন্যাশ্রী প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা সবই অধরাই থেকে গেছে। ভ্যাকসিন এর সময় একটি মেয়ে ভ্যাকসিন পেয়েছিল আরেকটি মেয়ে ভ্যাকসিন পাইনি। খুবই সমস্যার মধ্যে আছি।শুধু পড়াশোনাই নয়, দৈনন্দিন জীবনযাত্রাও কঠিন হয়ে উঠেছে। আধার সংযুক্তিকরণে সমস্যা হওয়ায় নিয়মিত রেশন সামগ্রী পাওয়া বন্ধ বলে জানিয়েছে পরিবার। এমনকি ভোটার কার্ডও তৈরি হয়নি দুই বোনের। ফলে নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য অধিকার থেকেও বঞ্চিত তাঁরা।

                                      নিজস্ব চিত্র
অভাবের সংসারে বাবা রত্নাকর বিজলী জীবিকার টানে বাইরে কাজ করেন। ঘরে বসে মায়ের উৎকণ্ঠা বেড়েই চলেছে। অনেক কষ্টে বড় মেয়ের বিয়ে দিলেও মেজ মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। পরিবারের আক্ষেপ, “একটা নথিগত ভুল আমাদের দুই মেয়ের জীবনটাই থামিয়ে দিয়েছে।” এ বিষয়ে প্রতিবেশী পার্থ সারথি বৈরাগী তিনি বলেন, এই একটি ভুলের জন্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে রয়েছে দুই বোন। পড়াশোনার যেমন অসুবিধা হচ্ছে তেমন মানসিক চাপেও রয়েছে এই পরিবার। আমরা চাই দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হোক এবং স্বাভাবিক জীবনে দুই বোন ফিরে আসুক।এই বিষয়ে কুলপি ব্লকের বিডিও সঞ্জু গুহ মজুমদার জানান, আধার সংশোধনের ক্ষমতা সরাসরি ব্লক প্রশাসনের হাতে নেই। এটি কেন্দ্রীয় পোর্টাল সংক্রান্ত বিষয় বলেই তিনি জানান। তবে আগের অভিযোগের কপি থাকলে জমা দিতে বলা হয়েছে, না থাকলে নতুন করে আবেদন করলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।দীর্ঘ এক দশকের দৌড়ঝাঁপ, অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণার পর এখন প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপই একমাত্র আশা। দুই বোনের আবেদন—পরিচয়ের এই জট খুলে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ করে দিক সরকার।