খবরের জন্য

যোগাযোগ :- 8016367537/8648868278


Email ID: zillarbartaoffical@gmail.com


Registration No: WB-18-0064025

বিজ্ঞাপনের জন্য

যোগাযোগ :- 7478809472


এখনো দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের পর নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ান বারুইপুরের রায়চৌধুরীরা

  • ফ্যাক্ট ফাইল | Sep 20, 2025

নিজস্ব প্রতিনিধি,জেলার বার্তা ডেস্ক :-জমিদারী না থাকলেও, কোন অংশে বনেদিয়ানাতে ক্ষামতি নেই দক্ষিণ ২৪ পরগণার বারুইপুরের রায়চৌধুরী বাড়ির দুর্গা পুজোয়। এই জেলার অন্যতম পুরানো দুর্গা পুজো এটি। এক সময় জেলার বাবুদের বাড়ির পুজো বলতে এই পুজোটিকেই সকলে জানতো। তিনশো বছরের বেশি সময় ধরে এই পুজো চলছে বারুইপুরে রায়চৌধুরী বাড়িতে। ব্রিটিশ শাসক লর্ড কর্ণওয়ালসিসের সময়ে এই এলাকায় জমিদারির পত্তন হয় রায়চৌধুরীদের। আর সেই থেকেই শুরু হওয়া দুর্গাপুজো নিজস্ব জৌলুস নিয়ে আজও অমলিন।

                                    নিজস্ব চিত্র
সরকারী ভাবে নীলকণ্ঠ পাখি ধরা ও দুর্গা ঠাকুর বিসর্জনের পর তা উড়ানোর উপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, এটাই প্রধান বিশেষত্ব এই বনেদি বাড়ির পুজোর।দশমীতে বিসর্জনের পর নিলকণ্ঠ পাখি ওড়ালে, সে গিয়ে কৈলাসে ভগবান শিবকে খবর দেবে মা দুর্গা মর্ত ছেড়ে কৈলাসের উদ্দ্যেশে রওনা দিয়েছেন। এই বিশ্বাস থেকে আজও বিসর্জনের পর বারুইপুরের আদি গঙ্গার সদাব্রত ঘাট থেকে নীলকণ্ঠ পাখি উড়িয়ে আসছেন বারুইপুরের এই আদি জমিদার রায়চৌধুরীরা। তবে গতবছর পাখি পাওয়া যায়নি বলে ওড়ানো হয়নি। কিন্তু এবার পাখি পাওয়া গেলে সেই পুরানো রীতি মেনেই ওড়ানো হবে নীলকণ্ঠকে, দাবি রায়চৌধুরীদের।এছাড়াও এই পুজোর অন্যতম বিশেষত্ব হল, মহালয়ার পরদিন অর্থাৎ প্রতিপদ থেকেই শুরু হয়ে যায় দেবীর আরাধনা। এখনও সপ্তমি ও অষ্টমীতে পাঁঠাবলি হয়। নবমীতে হয় আঁখ ও চাল কুমড়ো বলি। ১৯৫৪ সালে সরকার জমিদারী নিয়ে নিলেও এখনো এই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার এই বারুইপুর এলাকায় জমিদার বাড়ির পুজো বলতে এই রায়চৌধুরী বাড়ির পুজোকেই জানেন সকলে। পুজোর কটাদিন সমস্ত আত্মীয় স্বজনরা আসেন এই জমিদার বাড়িতে। তাছাড়া জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখনো বহু মানুষ আসেন এই বাড়ির পুজো দেখতে। প্রতিবছর দশমীতেই প্রতিমা বিসর্জনের রেওয়াজ রয়েছে। তবে এলাকার মধ্যে এই রায়চৌধুরীদের বাড়ির ঠাকুর প্রথম বিসর্জন দেওয়া হলে, তারপর একের পর এক বাকী পুজো গুলির প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। রূপোর পাখা দিয়ে দুর্গাকে হাওয়া দিতে দিতে এবং রূপোর ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা পরিস্কার করতে করতে বিসর্জন দিতে নিয়ে যাওয়া হয় এই বাড়ির দুর্গা প্রতিমাকে। বহুদিন ধরে এই রীতিই চলে আসছে। পুজো শুরুর দিন থেকেই নিজেদের বনেদিয়ানা মতোই সমস্ত নিয়ম নীতি ও নির্ঘণ্ট মেনে চলে এই পুজো। শুধু দুর্গা পুজো নয় বাঙালীর বারো মাসে তের পার্বণের সবকটিই পালিত হয় রায়চৌধুরী বাড়িতে।