নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক : দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের মল্লিকপুর স্টেশন সংলগ্ন হরিহরপুর পঞ্চায়েত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বেহাল রাস্তা ও জল জমে থাকার সমস্যায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে পড়ুয়া থেকে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে রেললাইন ধরে যাতায়াত করছেন। ফলে প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা। স্থানীয়দের দাবি, ইতিমধ্যেই ট্রেনের ধাক্কায় এলাকার এক যুবতীর মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মল্লিকপুর স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের দক্ষিণ দিক থেকে বেলিয়াডাঙ্গা ট্রান্সফরমার পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। কয়েক মাস ধরে রাস্তার উপর জল জমে রয়েছে। পাশাপাশি রাস্তার দু'ধারে জঙ্গল গজিয়ে ওঠায় সমস্যা আরও বেড়েছে। জমা জলে মশা ও বিভিন্ন পোকামাকড়ের উপদ্রবও বাড়ছে বলে অভিযোগ।
এই রাস্তার উপর নির্ভরশীল বেলিয়াডাঙ্গা, নতুনপাড়া, সুলতানপুর, পুরন্দরপুর-সহ একাধিক এলাকার হাজারো মানুষ। প্রতিদিন মল্লিকপুর গার্লস হাই স্কুল, বয়েজ স্কুল এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও এই পথ ব্যবহার করে স্কুলে যাতায়াত করেন।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, জল জমে থাকার কারণে কোথাও কোথাও বাড়ির ভিতরেও জল ঢুকে পড়ছে। সন্ধ্যার পর এলাকায় চলাচল কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ায় বহু পরিবার ঘরবন্দি থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, বারবার হরিহরপুর পঞ্চায়েতের দ্বারস্থ হলেও এখনও পর্যন্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে জীবন হাতে নিয়ে রেললাইন ধরে স্টেশনে যাতায়াত করা ছাড়া আর কোনও বিকল্প নেই।
এলাকার এক বাসিন্দার অভিযোগ, বেলিয়াডাঙ্গার বাবলুর দোকান থেকে নতুনপাড়া মন্দির পর্যন্ত পথশ্রী প্রকল্পে ঢালাই রাস্তা নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে পোস্টার লাগানো হলেও বাস্তবে এখনও পর্যন্ত কোনও কাজ শুরু হয়নি।
বাসিন্দাদের একটাই দাবি—অবিলম্বে রাস্তা সংস্কার, জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি এবং নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হোক। অন্যথায় যে কোনও সময় আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।