নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ লিগ-২-এর লড়াই এখন একেবারে শেষ পর্যায়ে। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের পথে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় সেরা চার দলের মধ্যে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে রয়েছে ওমান। দীর্ঘ প্রতিযোগিতার পর এবার তাদের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগে ওমানের লক্ষ্য একটাই—জয় তুলে নিয়ে সরাসরি বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ারে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করা।
আইসিসির সূচি অনুযায়ী, ৪ নভেম্বর বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে ওমানের এই ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই ম্যাচের ফলাফলের উপর নির্ভর করছে লিগ-২-এর চতুর্থ স্থান নিয়ে শেষ মুহূর্তের লড়াই।
পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ স্থানে ওমান
আইসিসির প্রকাশিত সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, ওমান ৩৫টি ম্যাচ খেলে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, নামিবিয়া ৩৬টি ম্যাচ খেলে একই ৩৩ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। তবে নেট রানরেটে এগিয়ে রয়েছে ওমান।
প্রতিযোগিতার শীর্ষ তিনটি স্থান ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করেছে আমেরিকা, স্কটল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডস। ফলে শেষ একটি জায়গা নিয়ে লড়াই এখন ওমান ও নামিবিয়ার মধ্যে।
শেষ ম্যাচে কী করতে হবে ওমানকে?
আইসিসির হিসাব অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে জয় পেলেই ওমানের সেরা চারে থাকা নিশ্চিত হবে। এমনকী বড় ব্যবধানে হার এড়াতে পারলেও তাদের সামনে সুযোগ রয়েছে সরাসরি কোয়ালিফায়ারে জায়গা করে নেওয়ার।
বর্তমান নেট রানরেটের ব্যবধান অনুযায়ী, ওমান ১৩০ রানের বেশি ব্যবধানে হারলে অথবা আমিরশাহি ওমানের দেওয়া লক্ষ্য প্রায় ২৩ ওভারের মধ্যে তাড়া করতে পারলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। অর্থাৎ শুধু জয় নয়, পরাজয়ের ব্যবধানও শেষ মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
শেষ কয়েকটি ম্যাচে চাপে ওমান
তবে ওমানের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। নিজেদের ঘরের মাঠে নেপাল ও কানাডার বিরুদ্ধে সিরিজে প্রত্যাশিত ফল পায়নি তারা। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধেও পরাজয়ের মুখে পড়তে হয়েছে দলকে।
ফলে শেষ ম্যাচের আগে চাপ কিছুটা বেড়েছে ওমান শিবিরে। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই দলকে সমন্বিত পারফরম্যান্স দেখাতে হবে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট ধরে রাখা এবং প্রতিপক্ষের রান আটকানোই হতে পারে জয়ের অন্যতম চাবিকাঠি।
২০২৭ বিশ্বকাপের পথে কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াই?
আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ লিগ-২ প্রতিযোগিতায় মোট আটটি দল অংশগ্রহণ করছে। দীর্ঘ এই প্রতিযোগিতায় প্রতিটি দল ৩৬টি করে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছে।
এই প্রতিযোগিতার সেরা চারটি দল সরাসরি ২০২৭ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ারে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। অন্যদিকে, পয়েন্ট তালিকার নিচের চারটি দলকে বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার প্লে-অফের মাধ্যমে পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়ার লড়াই করতে হবে।
তাই ওমানের কাছে এই ম্যাচ শুধু একটি সাধারণ ক্রিকেট ম্যাচ নয়, বরং বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের পথে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লড়াই।
নামিবিয়ার দিকেও নজর
ওমানের পাশাপাশি নজর রয়েছে নামিবিয়ার দিকেও। কারণ, দুই দলের পয়েন্ট সমান হলেও নেট রানরেটের কারণে আপাতত এগিয়ে রয়েছে ওমান। শেষ ম্যাচে ওমানের ফল খারাপ হলে নামিবিয়ার সামনে সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ওমানের ক্রিকেটারদের উপর বাড়তি দায়িত্ব থাকবে। প্রতিপক্ষকে কম রানে আটকে রাখা এবং ব্যাট হাতে প্রয়োজনীয় রান সংগ্রহ করা—দুই ক্ষেত্রেই সতর্ক থাকতে হবে।
এবার কি শেষ হাসি হাসবে ওমান?
দীর্ঘ প্রতিযোগিতার পর ওমানের সামনে এখন শেষ সুযোগ। একটি জয়ই তাদের সরাসরি বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ারে যাওয়ার পথ নিশ্চিত করতে পারে। অন্যদিকে, সামান্য ভুল বা বড় ব্যবধানে পরাজয় তাদের এতদিনের লড়াইকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, ৪ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে ওমানের ম্যাচ ঘিরে ক্রিকেট মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ওমান কি নিজেদের সেরা চারে জায়গা ধরে রাখতে পারবে, নাকি শেষ মুহূর্তে নামিবিয়া ছিনিয়ে নেবে সেই সুযোগ? উত্তর মিলবে মাঠের লড়াই শেষ হলেই।