Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
আবাস যোজনার টাকা নিয়ে বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ! হরিণডাঙা-১ পঞ্চায়েতে ২৬ জন উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গরমিল, থানায় সরকারি অভিযোগ BDO-র   •   সকাল থেকেই দক্ষিণবঙ্গের আকাশে বৃষ্টির মেঘ! হুগলি-হাওড়া-নদিয়ায় বৃষ্টি, কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় ফের বৃষ্টির সম্ভাবনা   •   দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা, কলকাতা-হাওড়া-সহ ৯ জেলায় আবহাওয়ার পরিবর্তন   •   পালাবদলের পর পঞ্চায়েত-পুরসভায় ক্ষমতার নতুন সমীকরণ! দুর্নীতির অভিযোগ, দলবদল নাকি রাজনৈতিক প্রভাব—কোন পথে এগোবে বাংলার নতুন রাজনীতি?   •   তৃণমূলের হাতছাড়া চাঁদপুর-চৈতন্যপুর গ্রাম পঞ্চায়েত! অনাস্থায় অপসারিত অনিতা পাইক, নতুন প্রধান বিজেপির শ্যামলী হালদার   •   একটি মুরগির বুকের মাংস থেকে কতটা প্রোটিন পাওয়া যায়? পেশি গঠন থেকে ওজন নিয়ন্ত্রণ, জানুন পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

আবাস যোজনার টাকা নিয়ে বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ! হরিণডাঙা-১ পঞ্চায়েতে ২৬ জন উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গরমিল, থানায় সরকারি অভিযোগ BDO-র

04 Nov 2026
06:39 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ আবাস যোজনার উপভোক্তাদের টাকা বণ্টন নিয়ে বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ সামনে এল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা ব্লকে। হরিণডাঙা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৬ জন উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে এবার সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হলেন ফলতার ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (BDO)। এই ঘটনায় আর্থিক তছরুপ, সরকারি প্রকল্পের নিয়ম লঙ্ঘন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই ফলতা থানার ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জের কাছে সরকারি অভিযোগ পাঠিয়ে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রে সামনে আসা ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের একটি সরকারি চিঠি ঘিরেই নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ফলতা উন্নয়ন ব্লকের ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের কার্যালয় থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, হরিণডাঙা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন পশ্চিমবঙ্গ আবাস যোজনার মোট ২৬ জন উপভোক্তার তালিকায় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত গুরুতর অসঙ্গতি ধরা পড়েছে।

চিঠি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মীদের স্বাক্ষরিত তালিকায় প্রকৃত উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে সাধারণ ভুল হিসেবে দেখার পরিবর্তে এর পিছনে কোনও ইচ্ছাকৃত অনিয়ম রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন BDO।

২৬ জন উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গরমিল

সরকারি আবাসন প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল আর্থিকভাবে দুর্বল এবং বাড়ি তৈরির জন্য সরকারি সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে, এমন পরিবারগুলিকে আর্থিক সাহায্য প্রদান করা। কিন্তু সেই প্রকল্পের টাকা বণ্টনের ক্ষেত্রেই যদি প্রকৃত উপভোক্তার পরিবর্তে অন্য ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা অত্যন্ত গুরুতর প্রশাসনিক প্রশ্ন তৈরি করে।

ফলতা ব্লকের হরিণডাঙা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৬ জন উপভোক্তাকে ঘিরে উঠে আসা অভিযোগে ঠিক সেই বিষয়টিই সামনে এসেছে। BDO-র পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রকৃত উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পরিবর্তে অন্য অ্যাকাউন্টের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রকৃত উপভোক্তারা তাঁদের প্রাপ্য সরকারি অনুদান থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই তালিকা সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মীদের স্বাক্ষরিত বলে চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে। ফলে কীভাবে এই অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল, কারা সেগুলি যাচাই করেছিলেন এবং কোন পর্যায়ে এই অসঙ্গতি তৈরি হয়েছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করা জরুরি।

৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে স্মারক নম্বর ৩২৩৬/BDO/FALTA-সহ ফলতা থানার আইসিকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখানে BDO প্রাথমিকভাবে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, প্রকৃত উপভোক্তাদের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ দেওয়ার বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়ে থাকতে পারে।

চিঠিতে এই ঘটনাকে আর্থিক তছরুপের সম্ভাব্য ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের নির্দেশিকা লঙ্ঘন করা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, এই ঘটনার সঙ্গে আর্থিক দুর্নীতি কিংবা অর্থ পাচারের (Money Laundering) কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনার অনুরোধ করা হয়েছে। অর্থাৎ বিষয়টি শুধুমাত্র ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ভুল তথ্য দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ কি না, নাকি এর পিছনে আরও বড় কোনও আর্থিক অনিয়ম রয়েছে, তা জানতে চাইছে প্রশাসন।

প্রকৃত উপভোক্তারা কি তাঁদের প্রাপ্য টাকা পাননি?

এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হল প্রকৃত উপভোক্তাদের আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ। আবাস যোজনার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের টাকা মূলত দরিদ্র ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলির বাড়ি তৈরির কাজে সহায়তার জন্য বরাদ্দ করা হয়।

সেই টাকা যদি প্রকৃত উপভোক্তার পরিবর্তে অন্য কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চলে যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলি চরম সমস্যার মুখে পড়তে পারে। BDO-র চিঠিতেও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই অনিয়মের কারণে প্রকৃত উপভোক্তারা তাঁদের প্রাপ্য সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

এখন তদন্তের মাধ্যমে কার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য তালিকায় ব্যবহার করা হয়েছে? সেই অ্যাকাউন্টগুলির প্রকৃত মালিক কারা? কোনও টাকা ইতিমধ্যেই অন্য অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে কি না? যদি টাকা জমা পড়ে থাকে, তাহলে সেই টাকা কীভাবে এবং কার মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়েছে? পাশাপাশি, এই প্রক্রিয়ায় কোনও সরকারি কর্মী বা অন্য কোনও ব্যক্তির ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়।

নথিপত্র সরবরাহের নির্দেশ, তদন্তে সহযোগিতার দায়িত্ব পঞ্চায়েতের

BDO-র পাঠানো চিঠিতে তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র জরুরি ভিত্তিতে সরবরাহ করার কথা বলা হয়েছে। হরিণডাঙা-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ফলতা পঞ্চায়েত সমিতিকে এই তদন্তের জন্য প্রাসঙ্গিক নথি সরবরাহ করতে হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।

এই নথিগুলির মধ্যে উপভোক্তাদের মূল তালিকা, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের স্বাক্ষরিত কাগজপত্র এবং টাকা বণ্টন সংক্রান্ত তথ্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। 

প্রশাসনিকভাবে কোন পর্যায়ে গাফিলতি হয়েছে, নাকি পরিকল্পিতভাবে অন্য অ্যাকাউন্টের বিবরণ ব্যবহার করা হয়েছে, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই নথিগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

চিঠির শেষ অংশে BDO স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই চিঠিকে তাঁর দপ্তরের পক্ষ থেকে দায়ের করা একটি সরকারি অভিযোগ (Official Complaint) হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে ফলতা থানার ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জের কাছে।

একই সঙ্গে চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে অতিরিক্ত জেলা শাসক, দক্ষিণ ২৪ পরগনা; মহকুমা শাসক, ডায়মন্ড হারবার মহকুমা এবং হরিণডাঙা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের কাছে।ফলে বিষয়টি শুধু ব্লক প্রশাসনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। জেলা ও মহকুমা প্রশাসনের কাছেও এই অভিযোগের বিষয়টি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ফলতার হরিণডাঙা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের আবাস যোজনার ২৬ জন উপভোক্তাকে ঘিরে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের গরমিলের অভিযোগ দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রশাসনিক মহলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।