নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: সামনেই একের পর এক উৎসব। জগদ্ধাত্রী পুজো, কালীপুজো, ছটপুজো এবং কার্তিক পুজোকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। উৎসবের দিনগুলিতে যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, তার জন্য নিরাপত্তা ও নাগরিক পরিষেবার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন। সেই লক্ষ্যেই চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের উদ্যোগে ২০২৬ সালের আসন্ন জগদ্ধাত্রী পুজো, কালীপুজো, ছটপুজো ও কার্তিক পুজোর প্রস্তুতি পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল।
বৈঠকে ড. সৌমিত্র মোহন, শ্রী স্বপন দাশগুপ্ত-সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিক এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আসন্ন উৎসবগুলিকে সুষ্ঠু, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, জনসমাগম পরিচালনা, জরুরি পরিষেবা এবং দর্শনার্থীদের সুবিধা নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলি আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো শুধু হুগলি জেলা নয়, গোটা রাজ্যের অন্যতম আকর্ষণীয় উৎসব। প্রতি বছর এই পুজো দেখতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হয়। আলোকসজ্জা, প্রতিমার বৈচিত্র্য এবং ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রার টানে চন্দননগর কার্যত উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়। ফলে এই বিপুল জনসমাগম সামাল দেওয়া প্রশাসনের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই এবারের প্রস্তুতি পর্যালোচনা বৈঠকে নিরাপত্তা ও জনপরিচালনার পরিকল্পনা নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব
উৎসবের দিনগুলিতে চন্দননগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও পুজোমণ্ডপ সংলগ্ন এলাকায় বিপুল মানুষের ভিড় হয়। ফলে যানজট এড়ানো এবং দর্শনার্থীদের নিরাপদে যাতায়াত নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বৈঠকে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় ট্রাফিক নির্দেশিকা এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
পাশাপাশি পুজোর দিনগুলিতে পুলিশি নজরদারি, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। দর্শনার্থীদের ভিড়ের মধ্যে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য পুলিশ ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়।
নাগরিক পরিষেবা ও দর্শনার্থীদের সুবিধা
শুধু নিরাপত্তা নয়, উৎসব চলাকালীন সাধারণ মানুষের ন্যূনতম নাগরিক পরিষেবা বজায় রাখাও প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। পানীয় জল, পরিচ্ছন্নতা, আলো, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার ও সহায়তার ব্যবস্থা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, শিশু এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ দর্শনার্থীদের কথা মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। উৎসবের ভিড়ে যাতে সাধারণ মানুষ কোনও ধরনের সমস্যায় না পড়েন, সেদিকে নজর রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সমন্বয়ের মাধ্যমে উৎসব পরিচালনার বার্তা
বৈঠকে প্রশাসনের বিভিন্ন দফতর, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কারণ, এত বড় মাপের উৎসব সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে হলে কোনও একটি দফতরের পক্ষে একা সব দায়িত্ব সামলানো সম্ভব নয়। পুলিশ, পুরসভা, প্রশাসন, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য পরিষেবা সংস্থাকে একযোগে কাজ করতে হবে।
পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই প্রস্তুতি পর্যালোচনা বৈঠক আসন্ন উৎসবগুলিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক তৎপরতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। উৎসবের আনন্দ যাতে নিরাপত্তাহীনতা, যানজট কিংবা নাগরিক পরিষেবার সমস্যায় ম্লান না হয়ে যায়, সেই লক্ষ্যেই আগাম পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের জগদ্ধাত্রী পুজো, কালীপুজো, ছটপুজো ও কার্তিক পুজোকে কেন্দ্র করে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এবং প্রশাসনের প্রস্তুতি পর্যালোচনায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। এখন লক্ষ্য, সমস্ত দফতরের সমন্বয়ে উৎসবের দিনগুলিকে সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীদের কাছে নিরাপদ, সুন্দর এবং নির্বিঘ্ন করে তোলা।