Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
কোচবিহার পুলিশ লাইনে সাড়ম্বরে পালিত ‘রাষ্ট্রীয় একতা দিবস ২০২৬’, প্যারেড ও শপথ গ্রহণে ঐক্যের বার্তা   •   আসানসোলে রেলের ক্ষতিগ্রস্ত কোয়ার্টার খালি করার শেষ নির্দেশ, মহুয়াডাঙ্গায় RPF-এর মাইকিং   •   গণহত্যা ও যুদ্ধের বিরুদ্ধে বন্দর শ্রমিকদের আন্তর্জাতিক ধর্মঘট, ২২ দেশের ১১৩ বন্দরে কর্মবিরতি   •   শিলিগুড়িতে ‘উত্তরবঙ্গ সমাবেশ–২০২৬’, গ্রামীণ সম্পদ কর্মীদের সম্মানী বৃদ্ধির আশ্বাস পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের   •   হীরাপুরের শশাঙ্ক কালী মন্দিরে শুরু শ্রী চণ্ডী মহাযজ্ঞ, কলস যাত্রায় সামিল হাজারো ভক্ত   •   কলকাতা বিমানবন্দরে বিজেপির ট্রেড ইউনিয়ন সেলের বিশেষ অনুষ্ঠান, উপস্থিত শমীক ভট্টাচার্য ও সুনীল বনসল

চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে গ্লেন ফিলিপসের বিধ্বংসী শতরান! ৪৯ বলে ১০৭ রানের ইনিংসে ভারতের বিরুদ্ধে নিউজিল্যান্ডের বড় জয়, ৮৭ রানে হারল টিম ইন্ডিয়া

31 Oct 2026
05:37 AM
নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: ভারতের বিরুদ্ধে চতুর্থ টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ব্যাট হাতে শক্তি, দক্ষতা এবং অসাধারণ কৌশলের এক অনবদ্য প্রদর্শনী উপহার দিলেন নিউজিল্যান্ডের তারকা ক্রিকেটার গ্লেন ফিলিপস। তাঁর বিধ্বংসী শতরানের উপর ভর করে অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে ভারতীয় বোলারদের কার্যত দিশেহারা করে দিল নিউজিল্যান্ড। মাত্র ৪৯ বলে ১০৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেললেন ফিলিপস। তাঁর ব্যাট থেকে এল ৬টি চার এবং ১০টি বিশাল ছক্কা। শেষ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড ৮৭ রানে ভারতকে পরাজিত করে সিরিজে প্রথম জয় তুলে নিল।

৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে নিউজিল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫৯ রান তোলে। জবাবে ভারতীয় দল নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৭২ রানেই আটকে যায়। ফলে ৮৭ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায় কিউয়িরা। যদিও প্রথম তিনটি ম্যাচ জিতে ভারত ইতিমধ্যেই পাঁচ ম্যাচের সিরিজ নিজেদের দখলে রেখেছে।

শুরুতে ধাক্কা, তারপর ফিলিপসের বিধ্বংসী প্রত্যাঘাত

টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। শুরুতে ভারতীয় বোলাররা কিছুটা সাফল্যও পান। নিউজিল্যান্ডের ওপেনার টিম সাইফার্ট মাত্র ৩ রান করে ফিরে যান। এরপর ড্যারিল মিচেলও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন।

কিন্তু চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে গ্লেন ফিলিপস ম্যাচের সম্পূর্ণ চিত্র বদলে দেন। শুরু থেকেই ভারতীয় বোলারদের উপর আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। কখনও কভার ড্রাইভ, কখনও পুল শট, আবার কখনও লম্বা ছক্কায় বলকে সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দেন।

তাঁর ব্যাটিংয়ে যেমন ছিল শক্তির প্রকাশ, তেমনই ছিল বলের লাইন ও লেংথ বুঝে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা। ভারতীয় বোলাররা বিভিন্ন ধরনের ডেলিভারি করেও তাঁকে সহজে আটকে রাখতে পারেননি।

৪৯ বলে ১০৭! চার-ছক্কার বন্যায় কাঁপল ইডেন পার্ক

ফিলিপসের ইনিংসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল তাঁর স্ট্রাইক রেট। ৪৯ বলে ১০৭ রান করার সময় তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ২১৮.৩৭। ইনিংসে ছিল ৬টি চার এবং ১০টি ছক্কা।

বিশেষ করে ইনিংসের শেষ দিকের ওভারগুলিতে তাঁর ব্যাটিং আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ভারতীয় বোলার নীতিশ কুমার রেড্ডির এক ওভারে পরপর চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে দর্শকদের চমকে দেন তিনি। এই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং নিউজিল্যান্ডের রানকে দ্রুত ২০০-র গণ্ডি পার করিয়ে দেয়।

ফিলিপসের এই ইনিংসের সুবাদে নিউজিল্যান্ড শুধু বড় রানই তুলতে পারেনি, বরং ভারতের সামনে ২৬০ রানের কঠিন লক্ষ্যও দাঁড় করিয়ে দেয়। তাঁর এই শতরান ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

মাইকেল ব্রেসওয়েলের সঙ্গে বিধ্বংসী জুটি

শুধু ফিলিপস একাই নন, নিউজিল্যান্ডের বড় স্কোর তৈরির পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মাইকেল ব্রেসওয়েল। মাত্র ২৫ বলে ৬৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ৬টি ছক্কা।

ফিলিপস ও ব্রেসওয়েল মিলে পঞ্চম উইকেটে মাত্র ৪১ বলে ১১৫ রান যোগ করেন। এই জুটিই ভারতীয় বোলিং আক্রমণের উপর সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করে।

ব্রেসওয়েল মাত্র ১৯ বলে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। দুই ব্যাটারের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ড শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ২৫৯/৭ রান সংগ্রহ করে।

এটি নিউজিল্যান্ডের মাটিতে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ২৫০-র বেশি রানের ইনিংস।

২৬০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয় ভারতের

২৬০ রানের বিশাল লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় ভারতীয় দল। নিউজিল্যান্ডের পেসার জ্যাকব ডাফি প্রথম ওভারেই সঞ্জু স্যামসন এবং ঈশান কিষাণকে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন। দুই ব্যাটারের কেউই রান করতে পারেননি।

এরপর অভিষেক শর্মা ২৭ রান করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার করেন ২২ রান। মিডল অর্ডারে তিলক বর্মা ৩৫ রান এবং নীতিশ কুমার রেড্ডি ২১ রান করে কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন।

কিন্তু নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারানোর কারণে ভারতের পক্ষে রান তাড়া করা কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৭২ রানেই থেমে যায় ভারতীয় ইনিংস।

বল হাতেও দুর্দান্ত নিউজিল্যান্ড, ডাফির চার উইকেট

নিউজিল্যান্ডের জয়ের পিছনে ব্যাটারদের পাশাপাশি বোলারদেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। বিশেষ করে জ্যাকব ডাফি দুর্দান্ত বোলিং করেন। চার ওভারে মাত্র ২৩ রান দিয়ে তুলে নেন ৪টি উইকেট।

এছাড়া ম্যাথিউ ফিশার ২টি এবং মিচেল স্যান্টনার ২টি উইকেট পান। তাঁদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ভারতীয় ব্যাটাররা বড় জুটি গড়তে ব্যর্থ হন।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান

বিষয়

ফলাফল

ম্যাচ

চতুর্থ টি-টোয়েন্টি

ভেন্যু

ইডেন পার্ক, অকল্যান্ড

নিউজিল্যান্ড

২৫৯/৭

ভারত

১৭২/৯

জয়ের ব্যবধান

৮৭ রান

ফিলিপস

১০৭ (৪৯ বল)

ব্রেসওয়েল

৬৫ (২৫ বল)

ডাফি

৪/২৩

ম্যাচের সেরা

গ্লেন ফিলিপস

সিরিজে এখনও এগিয়ে ভারত

এই ম্যাচে নিউজিল্যান্ড জয় পেলেও পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারত এখনও ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। প্রথম তিনটি ম্যাচ জিতে ভারত ইতিমধ্যেই সিরিজ নিজেদের নামে করে নিয়েছে।

তবে চতুর্থ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের এই জয় দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। বিশেষ করে গ্লেন ফিলিপসের শতরান এবং মাইকেল ব্রেসওয়েলের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শেষ ম্যাচের আগে কিউয়ি শিবিরকে নতুন উদ্দীপনা দেবে।

সিরিজের পঞ্চম তথা শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ১ নভেম্বর হ্যামিল্টনে।

গ্লেন ফিলিপসের ইনিংস কেন বিশেষ?

এই ম্যাচে ফিলিপস শুধু একটি শতরান করেননি, বরং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ক্ষমতাও আবার সামনে নিয়ে এসেছেন। পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিংয়ের গতি বাড়ানো, বোলারদের পরিকল্পনা ভেঙে দেওয়া এবং বড় শট খেলার দক্ষতা—সবকিছুরই সমন্বয় দেখা গিয়েছে তাঁর ইনিংসে।

বিশেষ করে ১০টি ছক্কা এবং ২১৮-র বেশি স্ট্রাইক রেট তাঁর ব্যাটিংয়ের আগ্রাসনকে স্পষ্ট করে দিয়েছে।

আইসিসির ম্যাচ রিপোর্ট অনুযায়ী, এটি ফিলিপসের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তৃতীয় শতরান।

সব মিলিয়ে, ভারতের বিরুদ্ধে চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি গ্লেন ফিলিপসের দুর্দান্ত শতরানের জন্য দীর্ঘদিন মনে রাখা হবে। তাঁর ১০৭ রানের ইনিংস এবং ব্রেসওয়েলের ঝোড়ো ব্যাটিং নিউজিল্যান্ডকে বড় জয় এনে দিল। এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর হ্যামিল্টনের শেষ ম্যাচের দিকে—সেখানে ভারত কীভাবে ঘুরে দাঁড়ায়, সেটাই দেখার।