Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
ভুবনেশ্বর কুমারের পাশে মর্নে মরকেল, ভারতের তারকা পেসারের প্রত্যাবর্তনে আশাবাদী বোলিং কোচ   •   অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় ধাক্কা! দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে WTC27 নির্ণায়ক টেস্ট থেকে ছিটকে গেলেন স্টিভ স্মিথ   •   নতুন প্রোডাকশন হাউস ‘আলফানিয়ন স্টুডিওজ’-এর জমকালো উদ্বোধন, উপস্থিত মধুরিমা তুলি   •   স্পেশাল মোডে লরিয়াল প্যারিসের ‘চাই লাত্তে ডেট উইথ প্রীতি’, সৌন্দর্য ও স্টাইলের মেলবন্ধনে বিশেষ আয়োজন   •   হার্ট অ্যাটাকের ৯টি সতর্ক সংকেত, সময়মতো লক্ষণ চিনে দ্রুত চিকিৎসা নিলেই বাঁচতে পারে প্রাণ   •   খামারে উৎপাদিত তাজা তেলাপিয়া ও শোল মাছ, পুষ্টিগুণ ও স্বাদের সমন্বয়ে বাড়ছে চাহিদা

স্বাস্থ্য ভবনে ভিডিও কনফারেন্সে ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যালোচনা, প্রতিরোধ ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপে জোর

27 Oct 2026
09:07 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের উপর গুরুত্ব দিলেন ডাঃ শরদ্বত মুখোপাধ্যায় । রাজ্যের ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে স্বাস্থ্য ভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করলেন ডাঃ শরদ্বত মুখোপাধ্যায়। বৈঠকে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়। ডেঙ্গুর বিস্তার রুখতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করা, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ডেঙ্গু রাজ্যের জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে মশাবাহিত এই রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, মশার বংশবিস্তার রোধ এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি। সেই লক্ষ্যেই স্বাস্থ্য ভবনে আয়োজিত ভিডিও কনফারেন্সে রাজ্যের পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কীভাবে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য ভবনে পর্যালোচনা

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এই পর্যালোচনায় রাজ্যের ডেঙ্গু পরিস্থিতি এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগ মোকাবিলায় শুধু আক্রান্তদের চিকিৎসা করাই যথেষ্ট নয়, বরং সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

ডাঃ শরদ্বত মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। রোগের বিস্তার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলিকে আরও কার্যকর করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে বৈঠকে রাজ্যের কোন কোন জেলায় সংক্রমণের হার বেশি, কতজন আক্রান্ত হয়েছেন কিংবা নতুন কোনও নির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার উপর গুরুত্ব

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হল মশার বংশবিস্তার রোধ করা। বাড়ি, অফিস, বিদ্যালয়, নির্মাণস্থল এবং বিভিন্ন খোলা জায়গায় জমে থাকা পরিষ্কার জলেও এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই কোথাও যাতে দীর্ঘ সময় জল জমে না থাকে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বাড়ির ছাদ, ফুলের টবের পাত্র, পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ার এবং অন্যান্য জল জমতে পারে এমন সামগ্রী নিয়মিত পরীক্ষা করা দরকার। জমে থাকা জল সরিয়ে ফেলা এবং জল রাখার পাত্র ঢেকে রাখার মতো সহজ পদক্ষেপ ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

স্বাস্থ্য ভবনের পর্যালোচনায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করার উপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি এই প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, রোগের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর চিকিৎসার পাশাপাশি মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হয়।

জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব

ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু স্বাস্থ্য দপ্তর বা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষে এককভাবে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। প্রতিটি পরিবারকে নিজেদের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

ডেঙ্গুর সাধারণ উপসর্গগুলির মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ও পেশিতে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং ত্বকে র‍্যাশ। এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো বিপদসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মানুষকে রোগের লক্ষণ, প্রতিরোধের উপায় এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে জানানো সম্ভব। তাই ডেঙ্গু মোকাবিলায় নিয়মিত প্রচার, সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং স্থানীয় স্তরে মানুষের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

সমন্বিত উদ্যোগেই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য

ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। মশার বংশবিস্তার রোধ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, আক্রান্তদের শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলি একে অপরের সঙ্গে যুক্ত।

ডাঃ শরদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে সমন্বিত উদ্যোগের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, জনসচেতনতা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে।

সমন্বিত উদ্যোগ কার্যকর করতে হলে স্থানীয় এলাকায় জমা জল শনাক্ত করা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে পরিস্থিতির নিয়মিত পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষাই প্রধান লক্ষ্য

ডেঙ্গু মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য পেতে হলে শুধু পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলেই হবে না, আলোচনায় উঠে আসা প্রতিরোধমূলক উদ্যোগগুলির কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত নজরদারি, মশার বংশবিস্তার রোধ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা—এই সমস্ত পদক্ষেপ একসঙ্গে কার্যকর হলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

স্বাস্থ্য ভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে এই বিষয়গুলিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাঃ শরদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যে রাজ্যের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে।

সব মিলিয়ে, রাজ্যের ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন স্তরে সমন্বিত উদ্যোগের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে এই উদ্যোগগুলি কীভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর ভূমিকা নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে।