নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: ঘাড়ের চোটের কারণে কেপটাউনে সিরিজ নির্ধারণী টেস্টে খেলতে পারছেন না অস্ট্রেলিয়ার তারকা ব্যাটার স্টিভ স্মিথ। তাঁর অনুপস্থিতিতে ব্যাটিং অর্ডারে একাধিক পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামছে অস্ট্রেলিয়া। ১-১ ব্যবধানে সমতায় থাকা সিরিজের শেষ টেস্ট ঘিরে বাড়ল উত্তেজনা।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ টেস্টের আগে বড় ধাক্কা খেল অস্ট্রেলিয়া। ঘাড়ের চোটের কারণে ২০২৫-২৭ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (WTC27) অন্তর্গত সিরিজের তৃতীয় ও নির্ণায়ক টেস্টে খেলতে পারছেন না দলের অভিজ্ঞ তারকা ব্যাটার স্টিভ স্মিথ। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে শুরু হওয়া এই ম্যাচে তাঁর অনুপস্থিতি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে।
তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ২১৪ রানে জয় পেয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় টেস্টে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংস ও ৩১ রানে জয় ছিনিয়ে নেয়। ফলে সিরিজের ফল দাঁড়ায় ১-১। শেষ টেস্টে যে দল জিতবে, তারাই সিরিজের দখল নেবে। এই পরিস্থিতিতে স্মিথের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটারের অনুপস্থিতি অস্ট্রেলিয়ার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
দ্বিতীয় টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে খেলার সময়ই ঘাড়ের সমস্যায় ভুগছিলেন স্মিথ। গকেবেরহায় অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ব্যাটিং করার সময় তাঁর ঘাড়ে অস্বস্তি দেখা দেয়। এর পর থেকে তাঁর ফিটনেস নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। তৃতীয় টেস্টের আগে অনুশীলন ও ফিটনেস যাচাইয়ের পরও তিনি ম্যাচ খেলার মতো অবস্থায় পৌঁছতে পারেননি।
ম্যাচের আগে স্মিথকে নিয়ে আশাবাদী ছিল অস্ট্রেলিয়া শিবির। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে একাদশে রাখা সম্ভব হয়নি। ফলে দলের ব্যাটিং সাজানো এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রান তোলার দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে পরিকল্পনা করতে হয়েছে অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ও টিম ম্যানেজমেন্টকে।
স্মিথের অনুপস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং অর্ডারে একাধিক পরিবর্তন করা হয়েছে। ম্যাট রেনশকে ওপেনিংয়ে ট্রাভিস হেডের সঙ্গী করা হয়েছে। ক্যামেরন গ্রিনকে চার নম্বরে ব্যাট করতে নামানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, আর স্মিথের জায়গায় পাঁচ নম্বরে সুযোগ পেয়েছেন জশ ইংলিস। পাশাপাশি কুপার কনোলি দলে এসেছেন বিউ ওয়েবস্টারের পরিবর্তে এবং অভিজ্ঞ স্পিনার নাথান লায়ন ফিরেছেন স্কট বোল্যান্ডের জায়গায়।
এই পরিবর্তনগুলির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিংয়ের ভারসাম্য ধরে রাখার চেষ্টা করেছে। তবে স্মিথের অভিজ্ঞতা ও ইনিংস সামলানোর ক্ষমতার বিকল্প খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। বিশেষ করে সিরিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চাপের মুহূর্তে তাঁর ভূমিকা দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারত।
স্টিভ স্মিথ দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ব্যাটিংয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। কঠিন পরিস্থিতিতে উইকেটে টিকে থাকা, বোলারদের পরিকল্পনার মোকাবিলা করা এবং বড় ইনিংস গড়ার ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা দলের সম্পদ।
দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ২৮ রান করেছিলেন স্মিথ। যদিও সংখ্যার বিচারে সেই ইনিংস বড় ছিল না, তবু দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে তাঁর উপস্থিতি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ঘাড়ের সমস্যার কারণে পরবর্তী ইনিংসে তাঁর ব্যাটিং নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। <Cite refs={["turn456236search2","turn456236search0"]}/>
শেষ টেস্টে তাঁর অনুপস্থিতিতে অন্য ব্যাটারদের বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে ভালো শুরু পাওয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের চাপে না ভেঙে পড়াই অস্ট্রেলিয়ার কাছে বড় পরীক্ষা হতে পারে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজের শুরুটা ভালো করেছিল অস্ট্রেলিয়া। ডারবানে প্রথম টেস্টে ২১৪ রানে জিতে সিরিজে এগিয়ে যায় তারা। কিন্তু দ্বিতীয় টেস্টে গকেবেরহায় দক্ষিণ আফ্রিকার দাপটে ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। ইনিংস ও ৩১ রানের ব্যবধানে জিতে সিরিজে সমতা ফিরিয়ে আনে প্রোটিয়ারা। <Cite refs={["turn456236search0","turn456236news19"]}/>
এবার কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে শেষ টেস্ট। এই ম্যাচ শুধু সিরিজের বিজয়ী নির্ধারণ করবে না, ২০২৫-২৭ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ। দুই দলই পয়েন্ট সংগ্রহ এবং নিজেদের অবস্থান মজবুত করার লক্ষ্যে মাঠে নামছে।
অস্ট্রেলিয়ার জন্য চ্যালেঞ্জ আরও বেড়েছে স্মিথের অনুপস্থিতিতে। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে সিরিজ জেতার সুযোগ রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে। তবে টেস্ট ক্রিকেটে ফল নির্ভর করবে পাঁচ দিনের পারফরম্যান্স, ব্যাটিংয়ের স্থায়িত্ব এবং বোলারদের ধারাবাহিকতার উপর।
স্মিথের বদলে নতুন ব্যাটিং বিন্যাস নিয়ে মাঠে নামা অস্ট্রেলিয়ার জন্য সহজ হবে না। ট্রাভিস হেড, মার্নাস লাবুশেন, ক্যামেরন গ্রিন, জশ ইংলিস এবং অন্য ব্যাটারদের দায়িত্ব থাকবে ইনিংসের ভিত শক্ত করার। একই সঙ্গে বোলিং বিভাগকেও দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক চাপ বজায় রাখতে হবে।
চোটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে হারানো যে কোনও দলের জন্যই উদ্বেগের বিষয়। তবে অস্ট্রেলিয়ার দলে একাধিক আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ক্রিকেটার রয়েছেন, যাঁদের উপর নির্ভর করেই দলটি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় টেস্টে বড় জয় পাওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা আত্মবিশ্বাস নিয়ে শেষ ম্যাচে নামার সুযোগ পেয়েছে। ঘরের মাঠের পরিবেশ কাজে লাগিয়ে সিরিজ জেতাই থাকবে তাদের লক্ষ্য।
স্টিভ স্মিথের ছিটকে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার জন্য নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। তবে সিরিজের চূড়ান্ত ফল নির্ধারিত হবে মাঠের পারফরম্যান্সে। অস্ট্রেলিয়া নতুন ব্যাটিং বিন্যাস নিয়ে কতটা সফল হয় এবং দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের জয়ের ধারা বজায় রাখতে পারে কি না, এখন সেদিকেই নজর ক্রিকেটপ্রেমীদের।
সিরিজ ১-১ সমতায়, সামনে নির্ণায়ক টেস্ট—একদিকে স্মিথের অনুপস্থিতি সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই অস্ট্রেলিয়ার, অন্যদিকে ঘরের মাঠে সিরিজ জয়ের হাতছানি দক্ষিণ আফ্রিকার।