Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
দক্ষিণবঙ্গে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের সতর্কতা জারি   •   স্বচ্ছ ভারতের অঙ্গ হিসেবে আলিপুরদুয়ারের ভোলাডাবরি RPF কলোনিতে সাফাই অভিযান, প্রতি রবিবার পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ   •   পরিষেবা না পাওয়ার অভিযোগে রানিগঞ্জে আমরাসোতা পঞ্চায়েত অফিসে তালা ঝোলালেন স্থানীয়রা   •   প্রধানমন্ত্রীর বাবাকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগ, পানাগড়ে মল্লিকার্জুন খাড়গের কুশপুতুল দাহ বিজেপির   •   ভিন রাজ্যে দুর্গাপুরের কাঁকসার যুবকের রহস্যমৃত্যু, খুনের অভিযোগ পরিবারের   •   ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর আশঙ্কায় সাগরে সতর্কতা! উপকূলে জোরদার মাইকিং, সমুদ্রে নামায় নিষেধাজ্ঞা

পরিষেবা না পাওয়ার অভিযোগে রানিগঞ্জে আমরাসোতা পঞ্চায়েত অফিসে তালা ঝোলালেন স্থানীয়রা

27 Oct 2026
10:09 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক:  পঞ্চায়েতের পরিষেবা না পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল রানিগঞ্জের আমরাসোতা এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে অফিসের মূল দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যার কথা জানিয়েও কোনও সমাধান হচ্ছে না। পঞ্চায়েত অফিস থাকলেও সাধারণ মানুষ কার্যত পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি বিক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের।

বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যা থেকে শুরু করে দুর্গাপুজোর আগে এলাকায় সাফাই না হওয়া—একাধিক বিষয় নিয়ে ক্ষোভ জমেছিল স্থানীয়দের মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, বারবার পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধান হয়নি। সেই ক্ষোভ থেকেই এদিন পঞ্চায়েত অফিসের দরজায় তালা লাগিয়ে প্রতিবাদ জানান তাঁরা।

তবে বাসিন্দাদের তোলা অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছেন আমরাসোতা পঞ্চায়েতের প্রধান সঞ্জয় হেমব্রম। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন। ফলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং পঞ্চায়েত প্রধানের বক্তব্যের মধ্যে তৈরি হয়েছে মতবিরোধ।

বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ বাসিন্দাদের

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকার কয়েকটি পরিবারের বাড়িতে ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড বা ECL-এর বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। কিন্তু একই এলাকার অন্যান্য পরিবারকে প্রতি মাসে মোটা টাকা খরচ করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এই বৈষম্য কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

বাসিন্দাদের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যা সমাধানের জন্য একাধিকবার পঞ্চায়েত প্রধান সঞ্জয় হেমব্রমকে জানানো হয়েছে। কিন্তু বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।

স্থানীয়দের বক্তব্য, বিদ্যুৎ এখন দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা। বাড়িতে আলো জ্বালানো থেকে শুরু করে পড়াশোনা, পানীয় জল সংগ্রহ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে বিদ্যুতের উপর নির্ভর করতে হয়। সেখানে কিছু পরিবার সুবিধা পেলেও অন্যদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হলে ক্ষোভ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

এই সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং এলাকার সমস্ত উপযুক্ত পরিবারের জন্য বিদ্যুৎ পরিষেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

ECL-এর অনুমতি থাকলেও পরিষেবা আটকে থাকার অভিযোগ

বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে ECL-এর জেনারেল ম্যানেজার অনুমতি দিলেও পঞ্চায়েত প্রধান সঞ্জয় হেমব্রমের জন্যই সেই কাজ আটকে রয়েছে।

বাসিন্দাদের এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে, বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজে আদৌ কোনও প্রশাসনিক বা অন্য বাধা রয়েছে কি না। ECL-এর অনুমতি সংক্রান্ত বিষয় এবং পরিষেবা চালু না হওয়ার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা গেলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হতে পারে।

যদিও স্থানীয়দের তরফে পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেই অভিযোগের সমর্থনে কোনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি বা প্রমাণের তথ্য সামনে আসেনি। তাই বিদ্যুৎ সংযোগ আটকে থাকার জন্য কে বা কারা দায়ী, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে পঞ্চায়েত প্রধান সঞ্জয় হেমব্রমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। ফলে বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং পঞ্চায়েত প্রধানের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট বিরোধ দেখা দিয়েছে।

দুর্গাপুজোর আগে সাফাই না হওয়ায় ভোগান্তির অভিযোগ

শুধু বিদ্যুৎ পরিষেবাই নয়, এলাকায় সাফাইয়ের কাজ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হয়। কিন্তু চলতি বছরে সেই কাজ ঠিকমতো করা হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, দুর্গাপুজোর মতো বড় উৎসবের আগে এলাকায় সাফাই না হওয়ায় তাঁদের চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হলেও পঞ্চায়েতের তরফে প্রত্যাশিত পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ।

বাসিন্দাদের বক্তব্য, উৎসবের আগে এলাকার রাস্তা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে সুবিধা হয় এবং পরিবেশও পরিচ্ছন্ন থাকে। কিন্তু সাফাইয়ের কাজ না হওয়ায় তাঁদের সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

এই বিষয়টিও পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন বাসিন্দারা।

ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, পঞ্চায়েত অফিসের মূল দরজায় তালা

বিদ্যুৎ পরিষেবা এবং সাফাই নিয়ে একাধিক অভিযোগের পর শেষ পর্যন্ত পঞ্চায়েত অফিসের মূল দরজায় তালা লাগিয়ে প্রতিবাদ জানান স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্যই পঞ্চায়েত অফিস। অথচ সেখান থেকে যদি প্রয়োজনীয় পরিষেবা না মেলে, তাহলে অফিস খোলা রাখার যৌক্তিকতা কোথায়?

এই প্রশ্ন তুলেই তাঁরা পঞ্চায়েতের কাজকর্ম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁদের দাবি, শুধু অভিযোগ শোনা নয়, সমস্যাগুলির বাস্তব সমাধান করতে হবে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে যে সমস্যা রয়েছে, তা দ্রুত মিটিয়ে এলাকার বাসিন্দাদের স্বস্তি দিতে হবে।

পঞ্চায়েত অফিসে তালা লাগানোর ঘটনা স্থানীয় প্রশাসনিক পরিষেবা নিয়ে বাসিন্দাদের অসন্তোষকে সামনে এনেছে। তবে এই প্রতিবাদের পর পঞ্চায়েতের তরফে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে বা পরিষেবা স্বাভাবিক করার বিষয়ে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

পঞ্চায়েত প্রধানের পাল্টা বক্তব্যে বাড়ল বিতর্ক

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের জবাবে পঞ্চায়েত প্রধান সঞ্জয় হেমব্রম সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। ফলে একদিকে পরিষেবা না পাওয়ার অভিযোগে সরব বাসিন্দারা, অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করছেন পঞ্চায়েত প্রধান।

বাসিন্দাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের সমস্যাগুলি দীর্ঘদিন ধরে চললেও কোনও সুরাহা হয়নি। অন্যদিকে, পঞ্চায়েত প্রধানের বক্তব্যের বিস্তারিত ব্যাখ্যা সামনে না আসায় বিদ্যুৎ সংযোগ ও সাফাইয়ের কাজ নিয়ে বিতর্কের নিষ্পত্তি হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ECL-এর বিদ্যুৎ সংযোগ সংক্রান্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং পঞ্চায়েতের পরিষেবা নিয়ে বাসিন্দাদের অভিযোগ যাচাই করা হলে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হতে পারে।

পরিষেবা স্বাভাবিক করার দাবি

আমরাসোতা পঞ্চায়েত অফিসে তালা লাগানোর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মূল দাবি, তাঁদের দৈনন্দিন সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধান করতে হবে। বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা দূর করার পাশাপাশি এলাকার পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য নাগরিক পরিষেবার দিকেও নজর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

পঞ্চায়েত এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে স্থানীয় প্রশাসনই বিভিন্ন পরিষেবা পাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ উঠলে তার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাসিন্দাদের যোগাযোগ বজায় রাখা জরুরি।

সব মিলিয়ে, রানিগঞ্জের আমরাসোতা পঞ্চায়েত অফিসে তালা লাগানোর ঘটনায় স্থানীয় স্তরে পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ ও দুর্গাপুজোর আগে সাফাই না হওয়া নিয়ে বাসিন্দাদের অভিযোগের জবাবে পঞ্চায়েত প্রধান সঞ্জয় হেমব্রম তা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। এখন অভিযোগগুলির বাস্তবতা যাচাই করে সমস্যার সমাধানে পঞ্চায়েত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর স্থানীয় বাসিন্দাদের।