নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: গ্যাস সিলিন্ডার চুরির অভিযোগে বড়সড় সাফল্য পেল বুদবুদ থানার পুলিশ। তদন্তে নেমে একে একে চারজনকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি মোট ২৪টি গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে অভিযুক্তদের পেশ করা এবং পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই চুরির ঘটনার কিনারা করার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুদবুদের চাকতেঁতুল এলাকার একটি গ্যাস এজেন্সির পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে জানানো হয়, গত ষষ্ঠীর দিন গ্যাসের গোডাউন থেকে ১২টি গ্যাস সিলিন্ডার চুরি হয়ে গিয়েছে। গোডাউন থেকে একসঙ্গে এতগুলি সিলিন্ডার উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্ত শুরু করে বুদবুদ থানার পুলিশ। চুরির ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, কীভাবে সিলিন্ডারগুলি সরানো হয়েছে এবং সেগুলি কোথায় রাখা হয়েছে, তা জানতে তদন্তকারীরা বিভিন্ন সূত্র ধরে এগোতে শুরু করেন। তদন্তের প্রথম পর্যায়েই পুলিশের হাতে আসে মানিক বাউড়ির নাম।
পুলিশের তদন্তে প্রথমে মানিক বাউড়িকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাঁকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আসে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
মানিক বাউড়িকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই সমীর ঘোষের নাম জানতে পারেন তদন্তকারীরা। এরপর অভিযুক্তকে ধরতে গলসির দিকে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। শেষ পর্যন্ত গলসির ইরকোনা এলাকা থেকে সমীর ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রের খবর, সমীর ঘোষের কাছ থেকে ১২টি গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার করা হয়েছে। গোডাউন থেকে চুরি যাওয়া সিলিন্ডার উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত থাকতে পারেন, সেই বিষয়েও তদন্ত শুরু হয়।
সমীর ঘোষকে গ্রেফতারের পর তাঁকেও দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। শনিবার তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে তদন্তকারীরা। মানিক বাউড়ি ও সমীর ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সঞ্জয় লোহার এবং মিলন ধীবরের নাম সামনে আসে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
এরপর বুদবুদের চাকতেঁতুল এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকেই সঞ্জয় লোহার ও মিলন ধীবরকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তের সূত্র ধরে চাকতেঁতুল এলাকার একটি গোপন ডেরার সন্ধান পান তদন্তকারীরা।
সেখান থেকে আরও ১২টি গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার করা হয়। ফলে এই ঘটনায় পুলিশের উদ্ধার করা সিলিন্ডারের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪।
এই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া চারজন হলেন—
মিলন ধীবর
মানিক বাউড়ি
সঞ্জয় লোহার
সমীর ঘোষ
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সমীর ঘোষের বাড়ি গলসি এলাকায়। অন্যদিকে, মিলন ধীবর, মানিক বাউড়ি ও সঞ্জয় লোহারের বাড়ি বুদবুদের চাকতেঁতুল এলাকায়।
অভিযোগের তদন্তে এই চারজনের নাম উঠে এসেছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
এই তদন্তে পুলিশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হল চুরি যাওয়া সিলিন্ডার উদ্ধার। প্রথমে সমীর ঘোষের কাছ থেকে ১২টি সিলিন্ডার উদ্ধার করা হয়। পরে চাকতেঁতুল এলাকার একটি গোপন ডেরা থেকে আরও ১২টি সিলিন্ডার উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা।
সব মিলিয়ে উদ্ধার হয়েছে ২৪টি গ্যাস সিলিন্ডার। তবে অভিযোগে প্রথমে ১২টি সিলিন্ডার চুরির কথা জানানো হলেও মোট ২৪টি সিলিন্ডার উদ্ধারের বিষয়টি সামনে আসায় উদ্ধার হওয়া সমস্ত সিলিন্ডারের উৎস এবং সেগুলির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গ্যাস এজেন্সির চুরির ঘটনার সম্পর্কও তদন্তে যাচাই করা জরুরি।
সিলিন্ডারগুলি কোথা থেকে আনা হয়েছিল, সেগুলি অন্য কোনও চুরির ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কি না এবং এই কাজে আরও কেউ সহযোগিতা করেছিল কি না, সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার পুলিশ হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মানিক বাউড়ি, মিলন ধীবর এবং সঞ্জয় লোহারকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে বুদবুদ থানার পুলিশ।
অন্যদিকে, শনিবার সমীর ঘোষকে আদালতে পেশ করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
এই চুরির ঘটনায় কোনও বড় চক্র কাজ করছিল কি না, চুরি করা সিলিন্ডারগুলি বিক্রির পরিকল্পনা ছিল কি না এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে অন্য কোনও ব্যক্তির যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
গ্যাস সিলিন্ডার দৈনন্দিন জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী। বাড়ি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান—সর্বত্রই রান্নার কাজে গ্যাসের ব্যবহার রয়েছে। ফলে গ্যাস এজেন্সির গোডাউন থেকে সিলিন্ডার চুরির অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে।
বুদবুদ থানার পুলিশের ধারাবাহিক তদন্তে চারজনকে গ্রেফতার এবং ২৪টি সিলিন্ডার উদ্ধারের ঘটনা এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, উদ্ধার হওয়া সিলিন্ডারগুলির সমস্ত উৎস কী এবং চুরির পিছনে কোনও সংগঠিত চক্র রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
সব মিলিয়ে, বুদবুদ থানার পুলিশের অভিযানে গ্যাস সিলিন্ডার চুরির অভিযোগে চারজন গ্রেফতার এবং ২৪টি সিলিন্ডার উদ্ধার হয়েছে। এখন তদন্তকারীদের নজর এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা সমস্ত যোগসূত্র খুঁজে বের করার দিকে।